somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শুধু অন্তরে বিশ্বাসের নামই কি ঈমান?

১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ দুপুর ১২:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একটা মজার গল্প বলি। আবু জেহেল এর একজন খুব ঘনিষ্ট সহচর ছিল। নাম আহনাস ইবনে সুরাইর। তো একদিন আহনাস ইবনে সুরাইর আবু জেহেলকে জিঙ্গেস করল, "আবু জেহেল মুহাম্মদকে আমরা ৪০ বছর ধরে চিনি। কোনদিন সে মিথ্যা কথা বলেনি। এজন্য আমরা তাকে আল আমিন উপাধি দিয়েছিলাম। আর আজ আমারা তাকে মিথ্যাবাদী, গণক, যাদুকর, পাগল ইত্যাদী বলছি। আমার কেন যেন মনে হচ্ছে মুহম্মদ যে নবুওয়াত এর দাবী করছে তা সত্য। কিন্তু তোমার ভয়ে আমি কিছু বলিনি। তোমার কি মনে হয়? সে কি সত্য কথা বলছে?" আবু জেহেল বললো, "আশেপাশে কি কেউ আছে?" সুরাইর বললো, "না কেউ নাই।" আবু জেহেল তখন বললো, "আমার ভাতিজা মুহাম্মদ যা বলছে সেটা সত্য বলছে, সে সত্যি আল্লাহর প্রেরিত রাসূল।" সুরাইর বললো, "আমারও তাই মনে হচ্ছে, তাহলে চলুন আমরা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করি, সে তো আপনারই ভাতিজা, তার সাথে ঝামেলা করে কি লাভ?" আবু জেহেল তখন সুরাইরকে ধমক দিয়ে বললো, "ধুর বোকা, তোর মতো বুদ্ধি নিয়ে চললে আজ আমি দেশ শাসন করতাম না।" সুরাইর বললো, "কেন? আমি ভুল কি বললাম?" আবু জেহেল বললো, "আরে মিয়া আমি যদি ইসলাম কবুল করি তাহলে রাষ্ট্রপ্রধান কে হবে? তখন মুহাম্মদকে নেতা মানতে হবে। তখন তো আমি আর নেতা থাকবো না। কালেমা পড়লে তো তাকেই একমাত্র নেতা হিসেবে মানতে হবে। এটা আমার পক্ষে সম্ভব না।"
:
এই গল্পের একটি বড় শিক্ষনীয় দিক রয়েছে, আমরা বেশিরভাগ বিশ্বাস করি ঈমান অর্থ আল্লাহর একাত্ববাদে বিশ্বাস, নবী রাসূলে বিশ্বাস, নবুয়াতে বিশ্বাস, ফেরেশতায় বিশ্বাস ইত্যাদী। কিন্তু ইবলিস তো অন্তর থেকে আল্লাহর একাত্ববাদে বিশ্বাস করে, তাহলে সে কি ঈমানদার? আবু জেহেল তো রাসূলকে বিশ্বাস করতো, তার নবুয়াতকে বিশ্বাস করতো তাই বলে সে কি ঈমানদার? না, আমরা এটা বলতে পারি না। ঈমান হচ্ছে অন্তরে বিশ্বাস এবং সে অনুযায়ী কাজ করা। এটাই ঈমান। আপনি যখন কালেমা পড়বেন তখন আল্লাহকেই একমাত্র মালিক হিসেবে মানতে হবে, জীবনের সর্বক্ষেত্রে। শুধু মসজিদে নয়, জীবনের প্রতিটি জায়গায়। আর নবী (সা) কে একমাত্র নেতা হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। যেটা আবু জেহেল বুঝেছিল। কিন্তু আমরা?
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচন।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:২৯


এখন পর্যন্ত প্রকাশিত এক্সিট পোল অনুযায়ী, কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন ৬১টি নিশ্চিত করতে পারেনি।
নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট, প্রায় ৫১–৫২ আসন।
গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট: প্রায় ৪৯–৫১ আসন... ...বাকিটুকু পড়ুন

এক সেকেন্ডের নেই ভরসা

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৩


সংসারের শত দায়িত্ব কাঁধে। ধাপে ধাপে সব পালন করতে হবে। মোটরসাইকেল নিয়ে ভালো মনে রাস্তায় নামলেন রাইড শেয়ার করবেন বলে। হঠাৎ একটা প্রাইভেট কারের সাথে ধাক্কা লাগল। আপনি রাস্তায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

অসমাপ্ত নীহারিকা - কেয়া ।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৭



বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাকে দেখলে মানুষের প্রথম যে কথাটা মনে হতো, তা হলো—ছেলেটার নিশ্চয়ই কোনো সমস্যা আছে।
কালো জিনস। কালো টি-শার্ট। টি-শার্টে কখনো Behemoth, কখনো Slayer, কখনো Cannibal Corpse। কানে হেডফোন। চোখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:১৮


বাংলাদেশের সমাজে একটি নীরব বিপ্লব ঘটে গিয়েছে। দুই বছর আগে ব্লগে অ্যাকাউন্ট খোলার পর থেকে এই পরিবর্তন নিয়ে কম করে হলেও বিশটির বেশি পোস্ট লিখেছি। এই বিপ্লবের সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:৫৬

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত



সময় চলেছে তার আপন খেয়ালে,
নদীর স্রোতেরা হারায় কালের বুকে;
আমি শুধু এক অনন্তকাল ধরে,
ডুবে আছি প্রিয়, তোমার চাওয়া পাওয়ার ওই সুখে।

বাহিরের সব নিয়ম চলুক তার মতো,
মহাবিশ্ব... ...বাকিটুকু পড়ুন

×