somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আওয়ামিলীগকে তার আগের চরিত্রে ফিরে যেতে হবেঃ

০৫ ই জুলাই, ২০১৬ রাত ১:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পন্য উৎপাদন করে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান; তারা পন্যের গুনগত মান নিয়ে বিজ্ঞাপন করে কিন্ত পন্যের গুনগত মান নির্নয় করে জনগন।তেমন একটি দলের গুনগত মান নির্নায়ক হচ্ছে ঐ দেশের জনগণ যা ঐ দলের কর্মকান্ডের উপর ও দলটির জগননের প্রতি কমিটমেন্টের উপর নির্নিত হয়। পন্যের যেমন ব্যান্ডিং ইমেজ থাকে আর এই ব্যান্ডিং তৈরি হয় পর্নের গুনগত মান আর উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সার্ভিসের উপর তেমনি পৃথিবীর প্রত্যেক গণতান্ত্রিক দেশে জনপ্রিয় দলটির ব্যান্ডিং ইমেজ থাকে।৬০-৭০ এর দশকে বিশ্বব্যাপী তেমনই ব্যান্ডিং ইমেজ তৈরি করেছিল মার্ক্সবাদ ও কমিউনিজম শাসন;যদিও বলা হয়ে থাকে মার্ক্সবাদ আর হুমিউপ্যাথের অর্জিন জার্মানী কিন্তু বিশ্বব্যাপী মার্ক্সবাদের প্রভাব ছিল শহর গ্রামের তরুণের তখন লাল বইয়ের প্রতি আকৃষ্ট হত।তারা কেউ লেলিন স্ট্যাইলিন ক্যাস্টো হিউমস চে-হওয়ার স্বপ্নে বিভোর ছিল।সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের সমাজতন্ত্র কমিউনিস্ট শাসন যখন হুমকির মুখে পড়ল পুজিবাদ তখন মাথাচাড়া দিয়ে উঠল যা এখনো বিদ্যমান।
এবার আসল কথা বলি; বাংলাদেশের বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামিলীগ যার হাত ধরে ১৯৭১ সালে এদেশের মানুষ মুক্তি পেয়েছিল পাকিস্তানি জন্তদের কাছ থেকে চিনিয়ে এনেছিল স্বাধীনতার লাল সুর্য; মাত্র ৯ মাসে তা সম্ভব হয়েছিল নেতার বলে বলিয়ান হয়ে বাঙ্গালী ঐক্যবদ্ধ ছিল বলে সাথে ছিল বিশ্বজনমত (চিন আমেরিকা বাদে)আমাদের পক্ষে।বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের ধীরতা এতই প্রকট ছিল যে দেশের প্রায় ৯৭% মানুষকে তিনি ঐক্যবদ্ধ করেছিল।দল হিসেবে আওয়ামিলীগের জনগনের প্রতি কমিটমেন্ট এত ভাল ছিল যে জনগন আওয়ামিলিগের কথা উঠত বসত। এই রাজনৈতিক দলটির গোড়াপত্তন হয় ২৩ জুন ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে। পরবর্তী কালে এর নাম ছিল নিখিল পাকিস্তান আওয়ামী লীগ। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দল হিসেবে আওয়ামী লীগ পরিচিত।মুসলিমলীগ থেকে বের হয়ে অস্প্রাদায়িক চেতনায় বলিয়ান হয়ে মানুষকে স্বপ্ন দেখিয়েছিল তখন থেকে তরুন ও ছাত্রসমাজ কে ব্যাপকভাবে আকৃষ্ট করেছে দলটি সৃষ্টি হয়েছিল একটি ব্র্যান্ডিং ইমেজ।১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার পর চরম চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে আওয়ামীলীগ অনেকে জীবন বাচাতে গা-ঢাকা দেয় অনেকে অন্য দিলে যোগদিয়ে সুবিধা আদায় করে কিন্ত দলের তৃনমুল অংশ বেইমানী করেনি অনেক নির্যাতন সহয্য করে তার টিকে ছিল আদর্শিক ভিত্তি মজবুত ছিল বলে।তাহলে প্রশ্ন করা যায় কোথাই গেল আওয়ামিলিগের এই আদর্শ ? কোথাই গেল তাদের ব্র্যান্ডিং ইমেজ ?কোথাই গেল তাদের অস্প্রদায়িক চেতনা?আগে যারা বিএনপি জামাতের সন্ত্রাসীদের হাত থেকে সংখ্যালঘুদের বাড়ীঘড় পাহারা দিত এখন তারাই লুট করছে তাদের সহায় সম্পত্তি!বিএনপি কর্মীদের চেয়েও আওয়ালীগের কর্মীদের ভাবা হত চৌকস বুদ্ধিদীপ্ত ও শিক্ষিত চেতনায় অটল।প্রচন্ড ঝড়ে যারা ছিল দিপ্তময় তার এখন দলের আদর্শ ভুলেগিয়ে নিয়ে চামড়াচিলা কুকুরের মত কামড়া কামড়ি করছে এক টুকরা হাড্ডির জন্য।তারাই আতত করছে জমাত নামক নব্য জংগীদের সাথে তারাই আতত করছে হেফাজত নামক বুইফুড় অজ্ঞ মুর্খ ধর্মীয় উম্মাদের সাথে তার হচ্ছে মাদ্রাসার সভাপতি সেক্রেটারি তারাই হচ্ছে ওয়াজ নামের ভিন্নধর্মাবল্বীদের বিরুদ্ধে বিষেদাগার সৃষ্টির প্রধান অথিতি !তাহলে দেশে গুলশান ট্যাজিডি হবেনা কেন ? ছাত্রলীগ এসব তরুণদের আকৃষ্টি করতে পারিনি পারেনি তাদের নিজের দলে বিড়াতে।বর্তমান ছাত্রলীগের অনেক নেতাকর্মী ছাত্রলীগের ইতিহাস জানেনা, জানেনা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তারা জানে অমুকভাই তমুক ভায়ের নামে শ্লোগান দিতে আর গ্রুপিং ও টেন্ডার বাজী করতে এই দলে এখন নাই কোন ইতিহাস চর্চা নাই কোন জ্ঞান চর্চা আছে রামদা চর্চা।আচার্যের বিষয় জংগি জমাত শিবিরের অনেক কর্মকান্ড তারা হাইজ্যাক করেছে যেগুলা মানুষ ভুলে যাচ্ছিল সেগুলা তারা মানুষের মনে জিয়িয়ে রেখেছে; তারা বাংগালীর পরিচয়ের চেয়ে মুসমানিত্বের পরিচয় বড় করে তুলছে যেখানে ডঃ মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ বলেছিলের আমি যতটা সত্য মুসলমান তার চেয়েও বড় পরিচয় আমি বাঙ্গালি আর একেক জন্য ছাত্রলীগ দেখলে মনে হবে তারা ধর্মের সেবক কিংবা ধর্মের আততায়ী তারা নিজদলের ছেলের রক্তখাবে কিন্ত জমাতের রক্ত খাবেনা।আর নেতাদের কথা কি বলব ; যারা এখন খুব লাফালাফি করছে ক্ষমতার পট পরিবর্তন হলে তারা বিদেশে যেতে দুমিনিট দেরি করবে না, তাদের চরিত্র এতই নিম্নমানের যে জমাতের সাথে সহবাস করতে তাদের বিবেকে বাধেনা।এই হচ্ছে বর্তমান সেক্যুলার দল আওয়ামিলীগের অবস্থা; কেউ আমাকে প্রশ্ন করতে পাড়েন আমি আওয়ামিলীগের সমালোচনা করছি কেন ; বিএনপি জমাতের সমালোচনা করে কি হবে তারা ধর্ম ভিত্তিক দল জমায়াত বিএনপি ক্রসে দেশে হাইব্রিড জংগী সৃষ্টি হচ্ছে বহুআগ থেকে।
অতএব, দেশের এই মহাবিপদে আওয়ামিলীগ কে তাদের স্যাকুলার নীতিতে ফিরে যেতে হবে তৈরি করতে হবে আগের ইমেজ ধর্মান্ধ উগ্র ইসিলামিষ্টদের সাথে সখ্যতা ত্যাগ করতে হবে নিজেদের মধ্য ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে ঐক্য তৈরি করতে হবে তাহলে দেশে এসব জংগি ফংগি কিছুই থাকবেনা আওয়ামিলিগের সাংগঠমিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে দেশে এবস জংগীবাদের উত্থান হচ্ছে।শেষ করব কলকাতার বিশিষ্ট সাংবাদিক ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক সুভির ভৌমিকের একটি উক্তি দিয়ে; তিনি গতকাল এটিএন নিউজের একটা টকশোতে বলেছিলেন আওয়ামিলীগ যতই এসব ধর্মীয় সংগঠন বা তাদের নেতাদের সন্তষ্ট রাখুক না কেন বাংলাদেশের সাধারন নির্বাচনে এসব সাম্প্রদায়িক শক্তির একটি ভোটও আওয়ামিলীগের বাক্সে পড়বেনা; সত্য কথা হচ্ছে কলকাতা বসে একজন বাঙ্গালী তা উপলব্দি করতে পারেন কিন্ত বাংলাদেশে বসে একজন লীগের নেতা তা উপলব্দি করতে পারেনা।
সমাধান আওয়ামিলীগকে তদের আগের চরিত্রে ফিরে যেতে হবে নাহলে জাতীর কপালে আরো বড় দুঃখ আছে।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জুলাই, ২০১৬ রাত ১:৫৮
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যারা জানেন না তাদের জন্য! কফি এনিমা (Coffee Enema)!

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৩

কফি এনিমা হলো মলদ্বার দিয়ে কোলন বা বৃহদন্ত্রে তরল কফি প্রবেশ করিয়ে পেট পরিষ্কার করার একটি বিকল্প পদ্ধতি। নিচে এটি শরীরে দেওয়ার সাধারণ প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে উল্লেখ করা হলোঃ

প্রয়োজনীয় উপকরণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মিলাদুন্নবী: ভালোবাসার নবী, মানবতার শ্রেষ্ঠ আদর্শ

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৮


মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মদিন বা মিলাদুন্নবী শুধু একটি ঐতিহাসিক স্মরণদিন নয়; এটি মানবতার জন্য এক মহান আদর্শের কথা স্মরণ করার উপলক্ষ। তাঁর আগমন ছিল এমন এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ একটি পরিচ্ছন্ন শৌচাগার

লিখেছেন রাজসোহান, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৮



বাড়িটা দেখতে বাড়ির মতো না, যেনো একটা ঘোষণা। দ্যাখো, আমি কে।

গেটে দুইটা সিংহ, পাথরের, মুখ হাঁ করা; সিংহ দুইটা কী পাহারা দিচ্ছে তারা নিজেরাও জানে না। ভিতরে উঠান... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসায় শিশুর নিরাপত্তা কোথায়?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০

মাদ্রাসায় শিশুর নিরাপত্তা কোথায়?
====================
একটি ১১ বছরের শিশু যার বয়স খেলাধুলা, পড়াশোনা আর স্বপ্ন দেখার। সেই শিশুকে যদি যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয় এবং তার গর্ভে একটি সন্তান জন্ম নেয়, তাহলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মক্তব চালু করলে শিশুরা ফিরে আসবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪২


ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। মুসা বিন শমসেরের ছেলে। মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পুরো দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন, নতুন নতুন আইডিয়া দিচ্ছেন। মনে হয়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×