somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বোকা আরবদের ধোকা দিয়েছিলেন যুদ্ধাপরাধী মীর কাশেম আলীঃ

০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ৩:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মীর কাশেম আলী কুখ্যাত বদর কমান্ডার ও চট্টগ্রামে মুক্তিকামী মানুষেরদের এক আতংকের নাম।জামায়াত নেতাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিত্তবৈভবের মালিক হচ্ছেন মানবতাবিরোধী অপরাধে সদ্য ফাঁসি কার্যকর হওয়া এই মীর কাসেম আলী ওরফে খান সাহেব। জামায়াতের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মীর কাসেম আলী একজন বিলিয়নিয়ার ব্যবসায়ী। জামায়াত-শিবিরের অর্থের প্রধান জোগানদাতা দুধেল গাভী তাকেই বলা হয়।
পরিচিতিঃ মীর কাসেম আলীর জন্ম ১৯৫২ সালে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার চালা গ্রামে। তার বাবা তৈয়ব আলী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ৪র্থ শ্রেনির কর্মচারী চার ভাইয়ের মধ্যে মীর কাসেম দ্বিতীয়। মীর কাসেমকে এলাকার মানুষ মিন্টু নামেই চেনেন। বাবার চাকরির সুবাদে পরিবারের সঙ্গে থাকতেন চট্টগ্রামে। ভর্তি হন চট্টগ্রাম কলেজে। ১৯৭০ সালে চট্টগ্রাম সরকারি কলেজের ছাত্র থাকাকালে জামায়াতের ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘের চট্টগ্রাম সভাপতি হন তিনি।৭১ কুখ্যাত বদর বাহিনীর চট্টগ্রাম অঞ্চলের কমান্ডার মীর কাসেমের বিরুদ্ধে আরেকটি বড় অভিযোগ হচ্ছে, তিনি সংখ্যালঘু পরিবারের বাড়ি ‘মহামায়া ভবন’ দখল করে বানান টর্চার সেল।চট্টগ্রামের ডালিম হোটেল নামে পরিচিত ওই টর্চার সেলে এনে মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর নির্মম নির্যাতন করা হত।কিশোর মুক্তিযুদ্ধা জসীম হত্যার দায়ে তার মৃত্যুদন্ডের সাজা বহাল রাখে আপিল বিভাগ যা দুদিন আগে কার্যকর হয়।
কি ভাবে হলেন হাজার কুটি টাকার মালিকঃ দেশ স্বাধীনের পর মুক্তিযুদ্ধাদের ভয়ে পালিয়ে লন্ডন গিয়েছিলেন মীর কাশেম আলী।লন্ডন থেকে পাড়ি দিয়েছেন মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবে।সৌদিতে থাকাকালীন সময়ে সেখানকার সৌদি ধন কুবেরদের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক হয়।শুরু হয় অর্থ সংগ্রহের ফন্দী।সেখানকার আরবিদের বুঝিয়েছেন বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের সময় অসংখ্য মসজিদ মাদ্রাসা ধ্বংস করেছে মুক্তিযুদ্ধারা ও ভারতীয় আর্মিরা এবং পাকিস্তান রক্ষার কাজে যারা নিয়োজিত ছিল তাদের নির্যাতন করা হচ্ছে তাদের ধন সম্পদ ও জমিজমা কেড়ে নেওয়া হয়েছে তাই বাংলাদেশে নতুন করে মসজিদ মাদ্রাসা নির্মান আর নির্যাতিত মুসলিমদের পুঃনবাসন করতে হবে । বোকা আরবিরা কোন কিছু যাচাই না করে তাকে ফান্ডিং করল লাখ লাখ সৌদি রিয়েল।এমনিতে সৌদি আরব ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধী।এভাবে এবং একই কাইদায় মসজিদ মাদ্রাসা নির্মানের দোহায় দিয়ে অর্থ সংগ্রহ করতে লাগলেন মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশ কাতার কুয়েত ও আরব আমিরাত থেকে।একই সময় মধ্যপ্রাচ্য ধাবরিয়ে বেড়াচ্ছেন আরেক যুদ্ধাপরাধী রাজাকার শিরমনি পালের গোধা গোলাম আজম।পাকিস্তান পুঃনউদ্ধার কমিটি করে তিনিও বোকা আরবদের কাছ থেকে হাতিয়েছিলেন মিলিয়ন ডলার।
১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যা কান্ডের পর স্থায়ীভাবে দেশে ফিরেন এই খুনি ধান্ধাবাজ।মেজর জিয়ার রাজাকার পুঃনবাসনের সুযোগ নিয়ে গড়ে তোলেন জামায়াতি অর্থনৈনিতক সাম্রাজ্য। মীর কাসেমের নেতৃত্বেই ১৯৭৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার কাটাবন মসজিদে ইসলামী ছাত্রসংঘ নাম পরিবর্তন করে ছাত্রশিবির নামে আত্মপ্রকাশ করে। তিনি হন শিবিরের প্রথম কেন্দ্রীয় সভাপতি। এরপর মীর কাসেমকে আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকার কারণে ১৯৮০ সালে তিনি রাবেতা আল ইসলামীর এ দেশীয় পরিচালক হন এংব মধ্যপ্রচ্য থেকে মসজিদ মাদ্রাসা নির্মানের নামে সংগ্রহ করা অর্থ ব্যয় করেন জমায়াতি সংগঠন ও তার ব্যাবসার কাজে ১৯৮২ সালে গঠন করে ইসলামী ব্যাংক তারপর একে একে ইবনে সিনা ট্রাস্ট ও ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালস।জামায়াতে ইসলামী ও শিবিরের আয়ের এবং কর্মসংস্থানের বড় উৎস হয়ে দাঁড়ায় এসব প্রতিষ্ঠান। সঙ্গে সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতিতে বাড়তে থাকে তার আধিপত্য তিনি হয়ে উঠেন জমায়াতি অর্থনীতির প্রানভোমরা।
নিজেকে বাঁচাতে খরচ করেন শতশত কুটি টাকাঃ মানবতাবিরোধী বিচারের কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করতে মীর কাসেম আলী ২০১০ সালের ১০ মে ছয় মাসের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কনসালট্যান্সি ফার্ম কেসিডি অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসের সঙ্গে ২৫০কুটি টাকার একটি চুক্তি করেন। যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ ও লবিং করাই ওই চুক্তির লক্ষ্য পরে এই চুক্তির রশিদ আইন মন্ত্রনালয়ের হাতে পড়ে।
চুক্তি অনুযায়ী কনসালট্যান্সি ফার্মটি মীর কাসেম আলীর পক্ষে আমেরিকান কংগ্রেস, সিনেট সদস্য এবং ইউএস প্রশাসনের প্রধান সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করবে। একই সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার বৈদেশিক নীতির বিষয়ে মতামত দেবে।
তারই লবিংয়ে হাউস অব কমন্সের শক্তিশালী একটি লবিস্ট গ্রুপ কাজ শুরু করে এবং তারা যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন শহরে সেমিনার ও আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে থাকে।
এছাড়া বিদেশি আইনজীবী নিয়োগেও খরচ করে কুটিকুটি টাকা যানাযায় ব্রিটিশ আইনজীবী ডেবিট বার্গম্যান কে দিয়েছে গত ছয় বছরে ৬৫ কুটি টাকা।
বাজেয়াপ্ত করা হোক এই রাজাকারের যত সম্পদঃ অর্থনিতিবিদ আবুল বারাকাত তার গবেষণায় দেখিয়েছেন মৌলবাদের অর্থনিতির মুল স্তম্ভ জামায়াত নিয়ন্ত্রীত ব্যাংক বীমা তাদের আর্থিক ও সেবামুলক প্রতিষ্ঠান এসব প্রতিষ্ঠানের আয়ের বড় একটি অংশ ব্যয় করা হয় তাদের সাংগঠনিক কর্মকান্ডে ও জিহাদী উদ্ভুদ্ধ করন কাজে।বাংলাদেশের প্রতিটি ইসলামি জংগী সংগঠনের সাথে কোন না কোন ভাবে যুক্ত রহেছে জমায়াতী ইসলাম। একই দাবি জঙ্গিবাদ ও মৌলবাদ বিষয়ক গবেষক শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘আমরা গত বিশ বছর ধরে একই কথা বলে চলেছি। তাদের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হোক। দেশের ভেতরেই বাংলাদেশ বিরোধীরা ফুলে ফেঁপে বড় হয়ে উঠবে আর যারা দেশকে স্বাধীন করলো তারা ৪৫ বছর ধরে ভুগে যাবে এটা হওয়া উচিত না।

২০১৩ সালেও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে গড়ে উঠা শাহবাগ আন্দোলনের সময় একই দাবি করা হয়েছিল তারই প্রেক্ষিতে ইসলামি চরম পন্থীদের হাতে বিভিন্ন সময় নিহত ব্লগার ও প্রকাশক হত্যার প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধনে জঙ্গিদের অর্থের উৎস খুজে বের করার দাবী করা হয়।
আশাকরি সরকার এই জনদাবী মেনে নিয়ে সকল যুদ্ধাপরাধীদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করবেন।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ৩:৩৭
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যারা জানেন না তাদের জন্য! কফি এনিমা (Coffee Enema)!

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৩

কফি এনিমা হলো মলদ্বার দিয়ে কোলন বা বৃহদন্ত্রে তরল কফি প্রবেশ করিয়ে পেট পরিষ্কার করার একটি বিকল্প পদ্ধতি। নিচে এটি শরীরে দেওয়ার সাধারণ প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে উল্লেখ করা হলোঃ

প্রয়োজনীয় উপকরণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মিলাদুন্নবী: ভালোবাসার নবী, মানবতার শ্রেষ্ঠ আদর্শ

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৮


মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মদিন বা মিলাদুন্নবী শুধু একটি ঐতিহাসিক স্মরণদিন নয়; এটি মানবতার জন্য এক মহান আদর্শের কথা স্মরণ করার উপলক্ষ। তাঁর আগমন ছিল এমন এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ একটি পরিচ্ছন্ন শৌচাগার

লিখেছেন রাজসোহান, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৮



বাড়িটা দেখতে বাড়ির মতো না, যেনো একটা ঘোষণা। দ্যাখো, আমি কে।

গেটে দুইটা সিংহ, পাথরের, মুখ হাঁ করা; সিংহ দুইটা কী পাহারা দিচ্ছে তারা নিজেরাও জানে না। ভিতরে উঠান... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসায় শিশুর নিরাপত্তা কোথায়?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০

মাদ্রাসায় শিশুর নিরাপত্তা কোথায়?
====================
একটি ১১ বছরের শিশু যার বয়স খেলাধুলা, পড়াশোনা আর স্বপ্ন দেখার। সেই শিশুকে যদি যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয় এবং তার গর্ভে একটি সন্তান জন্ম নেয়, তাহলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মক্তব চালু করলে শিশুরা ফিরে আসবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪২


ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। মুসা বিন শমসেরের ছেলে। মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পুরো দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন, নতুন নতুন আইডিয়া দিচ্ছেন। মনে হয়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×