somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সালাউদ্দিনের সেই ছবিটি

২৮ শে অক্টোবর, ২০১৪ দুপুর ১:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :












ছবি আসলেই কথা বলে। আলোকচিত্রীর ক্যামেরায় ধরা পড়া একটি মুহূর্ত কোনো একদিন হয়তো পরিণত হতে পারে ঐতিহাসিক মুহূর্তে। ছোট্ট সেই মুহূর্তটিই হয়তো ব্যঞ্জনা তৈরি করতে পারে ইতিহাসের। সত্তর-আশির দশকে বাংলাদেশের ফুটবল ছিল জমজমাট। ফুটবল দ্যোতনা তৈরি করত মানুষের মধ্যে। আবেগ-মথিত করে দিত হৃদয়। ওই সময়ের অনেক মুহূর্তই ধরা পড়েছে আলোকচিত্র সাংবাদিকদের টেলিলেন্সে। যে মুহূর্তগুলো, যে ঘটনাগুলো হয়তো আজকের দিনে ঐতিহাসিক হিসেবেই বিবেচিত। সেই ঘটনাগুলোর বেশির ভাগই হারিয়ে গেছে, নষ্ট হয়ে গেছে, চলে গেছে লোকচক্ষুর আড়ালে। ফুটবলের সেই স্বর্ণালি সময়ে হারিয়ে যাওয়া এমন একটি আলোকচিত্র এই প্রজন্মের পাঠকদের সামনে তুলে ধরার লোভটা তাই সংবরণ করা গেল না। আজ থেকে ৩০ বছর আগে তোলা এই ছবিটি যেকোনো বিচারেই ঐতিহাসিক। ছবিটিতে মিশে আছে ফুটবল নিয়ে সাধারণ মানুষের সেই সময়কার আবেগ আর এ দেশের ক্রীড়া ইতিহাসের এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের অনুরণন।
ছবিটি যে ফুটবল কিংবদন্তি কাজী সালাউদ্দিনের, সেটা নিশ্চয়ই বোঝা যাচ্ছে। ১৯৮৪ সালের এই অক্টোবর মাসেই মাঠের ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছিলেন এ দেশের ফুটবলের সর্বশ্রেষ্ঠ এই তারকা। বিদায়লগ্নে ঢাকা স্টেডিয়ামে উপস্থিত (বর্তমানের বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম) দর্শকদের উষ্ণ ও আন্তরিক ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছিলেন তিনি। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহামেডানকে সেদিন তিনি বেছে নিয়েছিলেন বিদায়-মঞ্চের প্রতিপক্ষ হিসেবে। কিন্তু কী আশ্চর্য! ‘জাতশত্রু’ আবাহনীর সেরা খেলোয়াড়ের বিদায়কে কোথায় উদযাপন করবে মোহামেডান সমর্থকেরা, তা না, উল্টো তাঁরাই সেদিন সালাউদ্দিনকে জানিয়েছিলেন আবেগমথিত আন্তরিক বিদায়। সেই দিনটি, সেই মুহূর্তটির কথা মনে করে আজও আবেগে-আপ্লুত হয়ে ওঠেন কাজী সালাউদ্দিন, আজকের ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি।
‘কী বলব, আমার খেলোয়াড়ি জীবনের শ্রেষ্ঠ মুহূর্ত ছিল ওটা।’ স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে গলাটা যেন একটু কেঁপেই ওঠে সালাউদ্দিনের। তাঁর আবেগের মূল কারণ হচ্ছে, সেদিন তাঁর বিদায়লগ্নে ঢাকা স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে মোহামেডান অংশেই তিনি পেয়েছিলেন সবচেয়ে বেশি উষ্ণ অভ্যর্থনা ও বিদায়। যে দলটির ‘শত্রু’ হিসেবে গোটা খেলোয়া​ড়ি জীবনে খেলেছেন, যে দলটির বিপক্ষে একের পর এক গোল করে ভেঙে দিয়েছেন সমর্থককুলের হৃদয়, সেই মোহামেডান-সমর্থকেরাই তাঁর বিদায়ের দিনে তুমুল করতালির সঙ্গে তাঁকে প্রদর্শন করেছিলেন দাঁড়িয়ে সম্মান। ঘটনাটা সেই থেকে আজ পর্যন্ত ভুলতে পারেননি সালাউদ্দিন। বললেন, ‘ওটাই তো আমার ফুটবল ক্যারিয়ারের সেরা অর্জন।’ তাঁর ক্যারিয়ারের অর্জন, তারকাখ্যাতি, সবকিছুই হার মেনে যায় সেদিনের সেই ছোট্ট ঘটনাটিতে।
ছবিটি ভালো করে লক্ষ করুন। আবাহনীর জার্সি পরা সালাউদ্দিন দর্শক গ্যালারির সামনে দাঁড়িয়ে। গ্যালারিটা যে মোহামেডানের, সেটা এক কোনার ওই মোহামেডান-পতাকাটি দেখেই বোঝা যাচ্ছে। আরও একটু খেয়াল করুন, দেখবেন মোহামেডান-সমর্থকেরা প্রায় সবাই দাঁড়ানো। বিদায়ী ম্যাচটি শুরু হওয়ার আগে সালাউদ্দিন মাঠ প্রদক্ষিণ করে দর্শক অভিবাদনের জবাব দিচ্ছিলেন সেদিন। একপর্যায়ে মোহামেডান গ্যালারির সামনে এলে তিনি লক্ষ করেন দর্শকেরা সবাই দাঁড়িয়ে গেলেন। সেদিন মোহামেডান গ্যালারি থেকে নীরব করতালির যে আওয়াজটা সালাউদ্দিন পেয়েছিলেন, তা শুনেই তাঁর মনে হয়েছিল, ‘আমার খেলোয়াড়ি জীবন সার্থক।’
ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৮৪ সালের ১৯ অক্টোবর। পরদিন ২০ অক্টোবর দেশের সব জাতীয় দৈনিকে খেলার ফল ছাপিয়ে সালাউদ্দিনের বিদায়ই হয়ে উঠেছিল মূল খবর। তাঁর বিদায়ের বিভিন্ন ছবি ওই দিন বিভিন্ন পত্রিকায় ছাপা হলেও প্রখ্যাত আলোকচিত্র সাংবাদিক রশীদ তালুকদারের তোলা এই ছবিটিই ছাপিয়ে যায় অন্য আর সবগুলোকে। আজকের দিনে আলোকচিত্র সাংবাদিকেরা যেসব যন্ত্রপাতি নিয়ে ঘোরেন, তার অনেক কিছুই হয়তো রশীদ তালুকদারের কাছে ছিল না, কিন্তু তার পরও কী অসাধারণ ছবিই না তিনি তুলেছেন।
সূত্রঃ প্রথম আলো
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রচন্ড রোদে

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০০

প্রচন্ড রোদে
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

রূপসী এদিক ওদিক কী খুঁজো
মনের মতো কাঙ্ক্ষিত পুরুষ
এভাবে সোনালি কতোদিন বিনষ্ট করবে
আমায় একটু ভেবে দেখো।
শূন্য হৃদয় নিয়ে কেঁদে মরি
কেউ নেই পাশে, গেছে সবাই ছাড়ি।
দরিদ্র বলে জুড়েনি তাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

জেফরি আর্চারের জগৎ বিখ্যাত উপন্যাস ‘A Prisoner of Birth’ এবং অন্যান্য প্রসঙ্গে....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৩৭


ছবিতে আমি, মারুফ জামান এবং লেঃ কর্নেল রাজীব।
জেলে থাকতে জেফরি আর্চারের (Jeffrey Archer) লেখা ‘A Prisoner of Birth’ বইটির পড়ার জন্য বলেছিলেন ক্যাপ্টেন (চাকুরিচ্যুত) খন্দকার রাজীব... বইটি সম্পর্কে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কো রুবিও ভারতে কী করছেন?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২২


আওয়ামী দোসর নবনীতা আপার মতে, মার্কো রুবিও ভারতে গেছেন শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ব্যবস্থা করতে। ডিসেম্বর মাসে যাতে শেখ হাসিনা ট্রাভেল পাস নিয়ে দেশে ফিরতে পারেন, সেই আলোচনা করতেই নাকি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সুন্দর সর্বনাশ

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:২১



সবকিছুই পাওয়া যায় এখন বিপণনের কল্যাণে,
বিপনি বিতানে বিতানে;
চাইলে কিনে নিতে পারো লালনীলহলুদ মনও!

মন চাইলে পোষ মানাতে পারো বনের অবাধ্য পশুও;
শুধু পোষ মানাতে যেও না মানুষ;... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশভাগের পর-

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০৮



সময় তখন ১৯৫০ সাল।
ওমর আলীর জ্বর এসেছে। জ্বর নিয়েই তিনি পত্রিকা পড়ছেন। দীর্ঘদিনের অভ্যাস। টারজান গিয়েছে বাজার করতে। এর আগেও টারজান বেশ কয়েকবার বাজার করেছে। বাজার করতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×