somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বঙ্গ মাতার কাছে লেখা খোলা চিঠিঃ (বিদগ্দ্ধ সময়- 01)

১৫ ই জানুয়ারি, ২০১৫ সকাল ৭:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মাগো তুমিতো মাতুত্বের স্বাদ পেয়েছো 09 মাসের অবিচল সংগ্রাম আর উত্তাল বেদনার সাগর পারি দিয়ে । আমরা পেয়েছি আমাদের চেতনার নিশানা লাল-সবুজ পতাকা।মাগো তুমিইতো শিখিয়েছিলে কিভাবে সত্য বলতে হয়? কিভাবে বর্গি আর ফিরিঙ্গীদের এদেশের মাটি থেকে বিতাড়িত করতে হয়? মাগো তুমি দিয়েছিলে দৃঢ় মনোবল আর রক্তের প্রতি কণায় সত্য ধারণের প্রবল ক্ষমতা।মাগো তোমার বুকে দাঁড়িয়ে তবে কেন আজ সত্যের টুটি চেপে ধরা হচ্ছে? ।আজ কেন সাফারি পাক থেকে জঙ্গলকে শ্রেয় স্থান বলে মনে হয়?চেতনায় তুমি সদা জাগ্রত থাকো,জাগ্রত থাকে তোমার চেহারায় স্বজন হারার শোক। মাগো সবাই ভুলে যেতে পারে সবাইকে মুহূর্তের মধ্যে। শুধু তুমি ভুলতে পারোনা তোমার সন্তানকে।মাগো বর্গি,ফিরিঙ্গিরা বিতাড়িত হয়েছে তোমার জমিন থেকে কিন্তু তবু কেন হানাহানি? কেন আজো বিনা অপরাধে শাস্তি পায় নিরীহ জনতা, তোমার অনেক সাধনার কলিজার টুকরো বুকের মানিক রতন এর প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে দুবৃত্তের কালো থাবা আর বুলেট বোমা আর অরক্ষিত পানির পাইপ?মাগো তোমার যে সন্তান শৈশবে একদিন স্বপ্ন দেখতো নিপাট ভদ্রলোক হয়ে সাধারণ মানুষের কাতারে মিশে গিয়ে একটা সাদা মাটা জীবন যাপন করবে।তার প্রতিটি রক্তের ফোটায় থাকবে সত্য আর নৈতিকতার ঝান্ডা। আজ তোমার সেই সন্তান শৈশব,কৈশোর পেরিয়ে যৌবনে পা দিয়েই অর্থের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে তোমার শিখিয়ে দেওয়া সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি/ সারাদিন আমি যেন ভালো হয়ে চলি এই অমৃত বাণী। অর্থের মোহ আর উপরে ওঠার মোহে প্রতিনিয়ত ধরাকে সরা জ্ঞান করে চলেছে।অন্যায়ের সাথে আপোষ করতে একটুও ভ্রুক্ষে প হয়না ওদের আত্মা প্রকম্পিত হয়না নিজের নৈতিকতার স্খলন করতে ।খোদার আরশ কেঁপে ওঠে ক্ষুধার্থ মুক্তিযোদ্ধার আহাজারিতে আর দারিদ্রের কাছে নিষ্পেষিত আম-জনতার বেদনাসিক্ত আহাকারে।থোর বড়ি খাড়া আর খাড়া বড়ি থোর কবে শেষ হবে জানিনা বারবার খাল কেটে কুমির আনা। মাগো তুমিতো মমতাময়ী তোমার বুকে শুধুই মমতার শীতল ছায়া। মাগো তুমিতো অগ্নিমূর্তি নও তাই তোমার বুকের আয়তন বিশাল 56হাজার বর্গ মাইল জুড়ে একটিও অগ্নিগিরির অস্তিত্ব নেই আছে শীতল স্রোতে বহমান শত শত নদী।তবে কেন উত্তাপ সর্বোত্র?সর্বত্র চলছে অগ্নিখেলা। মাগো বুলিতে যে মিথ্যা আর ঝুলিতে যে পাপ তার মোচন কি হবেনা মা ? মাগো লাখো শহিদের রক্তে ভেজা যে সীমান্ত সেই সীমান্তের তার কাটায় কেন ঝুলে থাকে তোমার কন্যার দেহ? মাগো মা তুমিই বলো তোমার গর্ভের ভেতরের যে ছোট জেলখানায় আমি আদর যত্নে ছিলাম সেখান থেকে বের হয়ে যে বড় কারাগারে আজ আবদ্ধ হলাম সেটা থেকে কি কখনো মুক্তি মেলবে? কখনো কি কুয়াশা কাটবে ফুটবে নতুন আলো আসবে নতুন ভোর?মাগো তোমার কি মনে হয়না এই অস্তিত্বের কোন মানে নেই,এই অস্তিত্ব বড়ই বেমানান ? তোমার কি মনে হয়না কখনো তুমি যে প্রসব বেদনা সয়ে কোটি কোটি সন্তানকে আলোর মুখ দেখিয়েছিলে তারা এখনো তোমার ত্যাগী আদর্শ ধারণ করতে পারেনি বক্ষে।মাগো ভুল করেও কি তোমার মনে হয়না সন্তানদের এই খেলা দুদশক আগেও দুষ্টুমি বলা গেলেও এখন নষ্টামি ছাড়া আর অন্য কিছু বলা যায়না ? মাগো তোমার কাছে লেখা এই খোলা চিঠি পোস্ট করলাম বড় খাচায় ঘেড়া জেলখানায় আবদ্ধ থেকে।জানিনা মা এই চিঠি তুমি পাবে কিনা হাতে? তবুও পোষ্ট করলাম বাতাসের খামে।

ত্রিশ লক্ষ ফুল………..

মাগো ত্রিশ লক্ষ ফুল দিলো প্রাণ
তোমায় স্বাধীন করতে ;
তবু কেন আজো রক্ত ঝরে
আগুন পথে পথে।
ক্ষমতা নিয়ে তোমার বুকে
চলছে হানাহানি?
জন্ম দিলে শুধু মোদের
মানুষ করনি।।
মাগো মা,ওগো মা,প্রাণের বাংলা মা
একাত্তরের স্বপ্নগাঁথা এমন ছিলোনা।।

মাগো লাখো শহিদের রক্তে আঁকা
তোমার মানচিত্র;
তবু কেন আজো বাঁচার জন্য
চলছে জীবনযুদ্ধ?
শিশু জিহাদ বাঁচার জন্য
করে যায় আঁকুতি;
তারকাটায় ঝুলতে থাকে
ফেলানীর দেহটি ।
পিট বাঁচাতে কোটি জনতা
যুদ্ধ করছে রোজ;
রাজনীতিকের পাশার খেলায়
গণতন্ত্র নিখোঁজ।

মাগো মা ওগো মা প্রাণের বাংলা মা
একাত্তরের স্বপ্নগাঁথা এমন ছিলোনা।।
মাগো দুর্নীতি আর মিথ্যে বুলির
চারিদিকে জয়জয়কার;
বাড়াতে ভোট গড়ছে জোট
ভুলছে চেতনা তোমার।
যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ভিক্ষার ঝুলি হাতে
ক্ষুধার জ্বালায় কাঁদছে দেখো জন্মভূমির পথে
পুরোন শকুন সুযোগ পেলেই
তোমায় আঘাত করে;
বর্গি আজো হয়নি নিপাত
যায় যে ছোবল মেরে ।
মাগো মা ওগো মা প্রাণের বাংলা মা
একাত্তরের স্বপ্নগাঁথা এমন ছিলোনা।।
-------------------------


সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জানুয়ারি, ২০১৫ সকাল ৭:১৪
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশ হতো হায়দ্রাবাদ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৫

।।হায়দারাবাদের নিজাম।।


১৯৪৭ সাল ভারতবর্ষের মুসলমানরা যখন নির্যাতনের শিকার অনেকগুলো গণহত্যা হয়েছিল দাঙ্গা হয়েছিল। ১৯৪৬ সালে বা তারও আগে এই মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ রাজনীতি শুরু করেছিল কংগ্রেসের রাজনীতি দিয়ে তিনি কংগ্রেসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বৃষ্টির ডায়েরি: অধ্যায় শূন্য

লিখেছেন চারাগাছ, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:২৬




বৃষ্টির ডায়েরি: অধ্যায় শূন্য


​আজকের বৃষ্টিটার কোনো ছন্দ নেই। কোনো ব্যাকরণ নেই। স্রেফ আকাশ ভাঙা জল, যা এই শহরের বুকে সশব্দে আছড়ে পড়ছে। মানুষজন তাড়াহুড়ো করে ছাতা মেলছে, আশ্রয়ের খোঁজে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডাক্তার আসিবার পূর্বে রোগীটি মারা গেলো

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩৩



বাংলাদেশে ডাক্তারদের অবহেলায় কি পরিমাণ প্রাণ অকালে ঝরে গিয়েছে তা কল্পনাতীত। এবং আমাদের দেশের ডাক্তার এই অপরাধে নূন্যতম অনুশোচনা বোধ করে না।

ডাক্তারদের অবহেলার কারণে দেশের পাঠ্য বই ইংরেজি... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাজনীতিতে ফেরার টিকিট কি এবার ক্রেমলিনে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:১০


বিশ্বজুড়ে থরথর কম্পন শুরু হয়ে গেছে। মার্কিন মুল্লুক থেকে মহাখালী, সবাই আজ বাকরুদ্ধ। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন বিস্ফোরণ ঘটেছে। বিশ্বস্ত সূত্রে, অর্থাৎ ভারতীয় কয়েকটি বেনামী ফেসবুক পেজ এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার সোভিয়েত শৈশব

লিখেছেন চারাগাছ, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১





বাংলা ব্লগের জগতে সহব্লগাররা যারা আমাকে অনেকদিন ধরে চেনেন, তারা জানেন—আমার একটা রাশিয়ান শৈশব ছিল।
শুনতে একটু অদ্ভুত লাগে, তাই না?

রাশিয়ায় আমি কোনোদিন যাইনি।

তবু আমার একটা রাশিয়ান শৈশব ছিল।

আমার সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×