somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

"মা" [একটি ওয়েস্টার্ন গল্প]-মাটি

০৮ ই জুন, ২০০৯ রাত ১২:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

(গতকালের পর)

দুই

শুধু হুগো নয়, আরও একজন চিনতে পেরেছিল ফিল কে। শহরে ঢোকার মুখে ফিল এর বাবার ফোরম্যান পেড্রো তাকে দেখে চিনতে পেরেছিল। সাথে সাথে সে 'ডাবল এফ' Ranch এর দিকে ঘোড়া ছুটিয়ে দিল। যত দ্রুত সম্ভব মালিক 'ফিলিপ ফ্রস্টার' কে জানাতে হবে। 'ফিলিপ ফ্রস্টার' ফিল এর সৎ বাবা। ফিল এর বাবা মারা যাওয়ার পর তার মা আবার বিয়ে করে। তার পরই ফিল এর উপর নেমে আসে অকথ্য অত্যাচার। মাত্র ১০ বছর বয়সেই তাকে কাউপাঞ্চারের কাজ করতে হয়। কোন ভুল হলেই খাবার বন্ধ, সাথে চাবুক খেতে হয়। ফিল এর মুখের কাটা দাগ চাবুকেরই চিহ্ন। বেশিদিন সহ্য করতে পারেনি ফিল। বছর ঘুরতে না ঘুরতেই পালিয়ে যায় বাড়ি ছেড়ে।
১০ বছর পর ফিল ফিরে এসেছে। ফিলিপ ফ্রস্টারের খবরটা হজম করেতে অনেক সময় লাগল। উত্তরাধিকার সুত্রে ফিল এর বাবার সকল সম্পাত্তির মালিক ফিল। যে সম্পত্তি সে দখল করে রয়েছে। ফিল মালিকানার দাবি উঠালে তার কিছুই করার থাকবে না। পথের ফকির হয়ে যাবে সে। তাছাড়া এতদিন পর 'লা পেচিনো' তে আসার উদ্দেশ্য কি? নিশ্চই প্রতিশোধ নিতে এসেছে। যে করেই হোক, ফিল কে তাড়াতে হবে। শেরিফ, সানচেজ আর পেড্রোকে নিয়ে ফিলকে তাড়ানোর বুদ্ধি খুজতে লাগল। ফিল এর পরিচয় পেয়ে খ্যাক খ্যাক করে হাসি শুরু করল সানচেজ। "ও ব্যাটা তো ভিতুর ডিম। মেয়ে মানুষের ও অধম! ও নেবে প্রতিশোধ! ফু....।" মাছি তাড়ানোর মত হাত নারায় সানচেজ। মাতাল শেরিফ সানচেজ কে সমর্থন জানায়। কেবল বিরোধীতা করে পেড্রো। পেড্রো জানায়, "আমি ওর ব্যাপারে খোজ নিয়েছি। ও কাপুরুষ নয়। পিস্তলে অসাধারণ চালু হাত। পুরো পশ্চিমের সেরা পিস্তলবাজদের একজন। খুন খারাপি পছন্দ করে না। সেই সাথে নিজের উপর রয়েছে অসম্ভব নিয়ন্ত্রন। পশ্চিমের পুরুষেরা যা অযোগ্যতা মনে করে। একারনে, পায়ে পরেও কেউ ওর সাথে ঝগড়া করতে পারে না।"
- "তাহলে উপায়?" বিরক্তিতে ভুরু কোচকায় ফ্রসটার।
- "ওর একটা দুর্বলতা আছে। ও মেয়েদের অপমান সহ্য করতে পারে না। আমরা এটাকেই কাজে লাগাব।"
- "প্লানটা আগে শুনি।" বিরক্তি প্রকাশ পায় সানচেজের কন্ঠে।
- "আজ বিকালে সানচেজ ইচ্ছে করে লুইসের মেয়েকে অপমান করবে। ফিল ওখানে আছে। ও নিশ্চই বাধা দেবে। সানচেজ তখন মনের সুখে পিটিয়ে হাড় ভেঙ্গে দিবে। তারপর শেরিফ গিয়ে শহরের শান্তি ভঙ্গের অভিযোগে গ্রেফতার করবে।"
- "বাহ্, খুব ভাল বুদ্ধি!" শেরিফ প্রসংসা করে।
আলোচনায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, গ্রেফতারের পরে মার্শালের নিকট চালান দেবার সময়, শহরের বাইরে গিয়ে পিঠে একটা গুলি ঢুকিয়ে দিয়ে আপদ বিদায় করবে শেরিফ।

তিন

সন্ধা বেলা লুইসের সেলুনে ঢুকল সানচেজ। কোনার এক টেবিলে ফিল কে দেখে খুশিতে দাত বেরিয়ে পড়ল তার। বার থেকে এক বোতল রাম নিয়ে ফিল এর পাশের টেবিলে বসল। লুইসের মেয়ে লিন্ডা তার টেবিলের পাশ দিয়ে যাবার সময় পথ আটকিয়ে বিশ্রী ভাষায় প্রেম নিবেদন করে বসল। লিন্ডা ভদ্র ভাবে প্রত্যাখান করতেই আগুন গরম হয়ে উঠল সানচেজ। হাতের উল্টোপিঠ দিয়ে চড় মেরে ফেলে দিল তাকে। তারপর বিশ্রী ভাষায় গালিগালাজ শুরু করল। হটাৎ শীতল একটা কন্ঠ সাবধান করে দিল তাকে। "সাবধান সানচেজ, পুরুষেরা মেয়েদের উপর অত্যাচার করে না।" ফিল এর গলা শুনে খুশিতে নাচতে ইচ্ছে হল সানচেজের। ঝট করে ঘুরল ফিল এর দিকে। বাঁকা হাসি হেসে বলল, "আমাকে বাধা দেবে কে, শুনি?"
- "আর একবার লিন্ডার দিকে হাত বাড়িয়ে দেখ" শান্ত স্বরে বলল ফিল। পেড্রো যখন বলেছিল ফিল দ্ক্ষ বন্দুকবাজ তখন থেকেই ভয়ে ভয়ে ছিল সানচেজ। তাই ফিলকে কোন সুযোগ দিতে চাইল না সে। অতি ক্ষ্রিপ্রতায় ড্র করল। কিন্তু গুলি ছোড়ার সুযোগ পেল না সে। ফিলের হাতের সিক্সশুটারের মুখে ধোয়া উড়ছে। সানচেজের কপালে তৃতীয় আরো একটা রক্তাক্ত চোখ তৈরি হয়েছে। সেলুনের সবার বিস্ময়ে তাকিয়ে রইল। এই এলাকায় সানচেজ সবচেয়ে ফাস্ট শুটার। অথচ সবাই দেখেছে সানচেজের হাত যখন গান বেল্টে তখন পর্যন্ত ফিল চুপচাপ বসে ছিল। গুলির শব্দে সেলুনে বাইরে থাকা শেরিফ ছুটে সেলুনে ঢুকল। এত তৎপর শেরিফকে কেউ কোনদিন দেখেনি। সানচেজ কে খুনর দায়ে গ্রেফতার করতে গেল ফিলকে। বাধা দিল লুইস। বলল, "ন্যায্য লড়াই হয়েছে। সানচেজ আগে বন্দুক বের করেছিল।" সেলুনের সবাই লুইসকে সমর্থন করায় সুবিধা করতে পারল না শেরিফ। রাগে গজ গজ করতে করতে বের হয়ে গেল সেলুন থেকে। সানচেজের বোকামীর জন্য তাদের প্লানটা মাঠে মারা গেল। ওকে বলা হয়েছিল খালি হাতে লড়াই করতে আর ও কিনা বন্দুক যুদ্ধ শুরু করেছিল? শেরিফের পিছুপিছু ফিল বের হতে গেল। "কোথায় যাচ্ছ" বলে পথ আটকাল লুইস। "আমাকে যেতে হবে। নয়ত মায়ের দেখা পাব না। যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে।" বলে সেলুন থেকে বের হয়ে গেল ফিল। চলবে........
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×