somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ফ্যাক্টই যখন ফ্যাক্টর……….

২৯ শে অক্টোবর, ২০১৬ সকাল ১১:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আপনি যখন ঢাকা বা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তখন তো আপনি সেই সকল প্রতিষ্ঠানকে Own করেন। মানে ব্যাপারটা মোটামুটি আপনার সাম্প্রদায়িক পরিচয়ের মতো। আপনি হিন্দু বা মুসলিম বা অন্য কোন ধর্মালম্বী, সুতরাং সেসকল ধর্মের যে কোন অবমাননা প্রতিহত করা আপনার নৈতিক দায়িত্ব। যেমনি আপনি বাংলাদেশি হিসেবে বাংলাদেশের অবমাননাকে মেনে নিতে পারবেন না বলেই ধরে নেয়া চলে। আর আপনি যেহেতু পূত-পবিত্র একজন মানুষ সুতরাং আপনার বাসভূমি বা বাসস্থান নিঃসন্দেহে স্বর্গের মতো। কিন্তু আমার ভাবনা হইলো, স্বর্গেও তো অপ্সরা আছে। আচ্ছা আমি কি স্বর্গে জায়গা পাইলে দুই’চারটা অপ্সরার সাথে শুইতে পারব?! স্বর্গে কি যৌনতা আছে? যদি থাকে তবে যৌনতাও স্বর্গীয়। আপনারা গাছের নিচে, ঝোপের পিছে, হোটেলের রুমে কৃষ্ণলীলা করবেন তাতো স্বর্গীয় টাইপেরই ব্যাপার। এত্ত ক্ষ্যাপার কি আছে? আবার ধরেন আমি ও কোন একজন মন্ত্রী ভাগ্যের চক্রে পড়ে স্বর্গে জায়গা পেয়ে গেলাম। তখন কি মন্ত্রীমশাই আর আমি অভিন্ন হয়ে যাব নাকি তিনি মন্ত্রিত্ব সেখানেও দেখাবেন? শুনেছি ‘ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভাঙে’ তাইলে তো মন্ত্রীমশাই স্বর্গে গিয়ে আমার উপর মন্ত্রিত্ব ফলাবেনই।
এইসব হুদাই বললাম। আসল কথা কি, সত্যটা মেনে নিতে এবং স্বীকার করে নেয়াতে কোন ক্ষতি নেই বরং গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে। ক্যাম্পাসগুলো কি র‌্যাগিং শূন্য?? আমি বিশ্বাস করি না। আবার বড় ভাই বোনদের কথা বা ধমক বা ফাপর মানেই কি র‌্যাগিং?
আমি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। হলে থাকতাম না। অনেকের ভাষ্যমতে তাই আমি ক্যাম্পাসকে Own করতে পারিনি। তবে সেটা আমার ভাবনাও নয়। যে প্রাকৃতিক নৈসর্গের ভেতর দিয়ে আমি আমার উচ্চশিক্ষার জীবন পাড় করেছি এবং তা থেকে আমি যা অর্জন করেছি তা আমার ব্যক্তিগত সম্পদ। অন্যরে বুঝাইতে যাওয়ার আমার কোন ঠেকা পড়ে নাই। শুনেছিলাম ৩৬/৩৭ ব্যাচ পর্যন্ত র‌্যাগিং মারাত্মক পর্যায়ে ছিল। তারপর ৩৮/৩৯ ব্যাচ থেকে তা ক্রমশ হ্রাস পেয়েছে। আমি হলে না থাকলেও মাঝেমাঝে হলে যেতাম। বড় ভাইরা ডাকতেন। অনেক প্রশ্ন করতেন। হলে না থাকার কারণ জানতে চাইতেন। হলে থাকার প্রয়োজনীয়তা বোঝাতেন। ভুল বা বেয়াদবি টাইপের আচরণ করলে বকাও দিতেন কিন্তু তাকে শারীরিক বা মানসিক টর্চার বলা যায় না। আমি ৩৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী। আমি কেবল আমার অভিজ্ঞতাটুকু বলছি। এটাকে সামগ্রিক পরিস্থিতি দাবি করছি না। সময় বদলালো। ৪০/৪১ ব্যাচ আসতে আসতে জাবি প্রশাসন র‌্যাগিং-এর শাস্তির ব্যবস্থা করলো। প্রক্টরের নম্বরে মিসকল দিলেও র‌্যাগিং-এর প্রতিকারের ব্যবস্থা নেয়া শুরু হল। ৪১ ব্যাচের কয়েকজন শাস্তিস্বরূপ সাময়িকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারও হয়েছিল। প্রতিবছর ভর্তি পরীক্ষার সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও নানা ছাত্র সংগঠন র‌্যাগিং বিরোধী প্রচারণা চালাতে শুরু করলো। র‌্যাগিং-এর শাস্তির নমুনাতে এমন দাঁড়ালো সিনিয়ররা জুনিয়রদের ভয় পেতে শুরু করলো। সে পর্যায়ে আজ ২০১৬ সালে এসে র‌্যাগিং কতটা গুরুতর অবস্থায় থাকার কথা সেটা ভেবে দেখা দরকার। আর গত ৪৪/৪৫ ব্যাচের ভর্তি পরীক্ষার সময়েও ফেসবুক ও ব্লগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাগিং নিয়ে একটা পোস্ট ভাইরাল হয়ে উঠেছিল। যেখানে মোটামুটি র‌্যাগিংকে যৌন নির্যাতনের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে জানা গেছে পোস্টদাতা জাহাঙ্গীরনগরের কেউ না। তিনি কিছু তথ্যের ভিত্তিকে একটা রসালো গল্প টাইপের পোস্ট দিয়েছিল। ঢাবির ক্ষেত্রেও এমন কিছু ভাইরাল পোস্ট ছড়াতে দেখা যায় ভর্তি পরীক্ষার আগে। সবগুলো পোস্টের শুরুতে একই ধরনের কথা। “দীর্ঘ দিন প্রচণ্ড মানসিক পীড়ায় র‌্যাগিং সহ্য করেছি কিন্তু ভেবে দেখলাম ক্যাম্পাসের সম্মানে কথা ভেবে চুপ থাকলে পরবর্তী ব্যাচের ছোট ভাই-বোনদেরও এই পীড়া সহ্য করতে হবে। তাই মুখ খুললাম সাহস নিয়ে।” মধ্যযুগের মঙ্গলকাব্যগুলোর শুরুতে একটা কমন কথা ছিল দেবীর স্বপ্ন নির্দেশ দিয়েছেন বলে লিখতে বসা। তার কারণ ছিল কাব্যগুলোর গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানো। একটা বিষয় আমরা শিক্ষিত হয়েও বুঝতে পারি না যে ইন্টারনেট জগৎটা গণতান্ত্রিক পন্থা অবলম্বন করে। গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে মাথা গোনা। মানে বুঝলেন? মানে আপনি একজন নেতা। আপনার পেছনে কতগুলো মাথা দাঁড়িয়ে আছে সেটা দিয়ে আমার নেতৃত্বকে মূল্যায়ন করা। ইন্টারনেটও তেমন। তাইতো এশীয় গাঁধাদের দিয়ে অনেক অনলাইন প্রতিষ্ঠান বারবার তাদের সাইট ভিজিট করানোর চাকরি দিয়ে থাকে। যে সাইটটাতে সবথেকে বেশি ভিজিটর সেই সাইটটা সবার ওপরে থাকে। ভর্তি পরীক্ষার সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় লিখে সার্চ সবচেয়ে বেশি হয়। তাতে এই শিরোনামের পোস্টগুলো এসে পড়ে। আর র‌্যাগিং আর যৌনতা টাইপের শব্দগুলো মানুষের পছন্দের শব্দ হওয়ার ঐ পোস্টগুলো খুলে দেখা বা পড়ার আগ্রহ অনেকের হয়। মাঝখান দিয়ে পোস্টদাতার ফলোয়ার সংখ্যা বেড়ে যায়। কমেন্টে তার গালিগালাজ শুনতে হলেও সে একটু হজম করে নেয় কারণ একটা কমেন্ট তার পোস্টটাকে আরও হাজারটা প্রোফাইলের কাছে বেশিক্ষণ উপস্থিত রাখে। বিষয়গুলো তো সস্তা রাজনীতির অংশ। তবু অনেকেই মূর্খের মতো আচরণ করে বসেন। আমার ক্যাম্পাসকে অপমান করা হচ্ছে আমি চুপ করে বসে থাকব! আরে ভাই, সবার অপমান সে-ই গায়ে লাগায় যার অপমানিত হওয়াই স্বভাব। আপনার ক্যাম্পাসকে অপমান করা হলো আপনি ক্ষেপে অপমানকারীর উপর তেড়ে গিয়ে কী বোঝালেন?? তার থেকে ইতিবাচক দিকগুলো দেখান। ঢাবি ও জাবির শিক্ষার্থীরা কর্মক্ষেত্রে বিশাল একটা ইতিবাচক সার্পোট পেয়ে থাকেন কেবল সিনিয়র-জুনিয়র সম্পর্কের ইতিবাচকতার জায়গা থেকেই। মনে পড়ে যে ভাইরা ধমক দিতেন তারাই এখন ভালোবাসেন। ধমক দেয়া মানেই র‌্যাগিং না। র‌্যাগিং-এর ব্যূপত্তিগত ও আভিধানিক অর্থ না জেনে যারা সস্তা পাবলিসিটির জন্য পোস্ট দিয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে তাদের জন্য আমাদের পাল সাহেব উৎকৃষ্ট উদাহরণ হতে থাকবেন। ট্যাক্স-এ চাকরি করে ফাল পারতে পারতে খালে গিয়ে পড়েছেন। সুতরাং আপনি যে-ই হউন না কেন আপনার মিথ্যাচার বেশিদিন টিকবে না। আবার আপনি ক্যাম্পাসকে Own করতে করতে ক্যাম্পাসকে ড্রেনে নিয়ে ফেলবেন না দয়া করে। ক্যাম্পাসকে যদি অনেক ভালোই বাসেন তাহলে যৌক্তিক আন্দোলনগুলোতে অংশগ্রহণ করেন, তখন লাইব্রেরি বসে পড়ার অজুহাত দিতে যাবেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি বসে বসে এমপিথ্রি বা ওরাকলের বই পড়ার জন্য বানানো হয় নাই।
[বি. দ্র: ফ্যাক্টকে ফ্যাক্টর হিসেবে ব্যবহারকারীদের সাধুবাদ। আপনারা অনেকেই সফলতা পাচ্ছেন। আপনাদের জন্য শুভ কামনা রইল। আপনারা একদল ফলোয়ার নামক ভেড়ার দল তৈরি করছেন।]
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে অক্টোবর, ২০১৬ দুপুর ১২:০২
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ছবি ব্লগ -৭ বিনীত, অবনত বৃক্ষ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৯

পথে যেতে চোখে পড়লো নুয়ে পড়া বৃক্ষের শাখাগুলো। মনে হলো স্রষ্টার কাছে সে যেন নিবেদিত প্রার্থনায় অবনত। সব অহংকার, সব আত্মগরিমা, কৃতিত্বের ভার সে ধীরে ধীরে ঝরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

হযরত ইমাম হোসেনের (রা.) পরিবর্তে ইয়াজিদী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল কেন?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:৪৯



সূরাঃ ৮ আনফাল, ৬৫ ও ৬৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৫। হে নবি! মু’মিন দিগকে যুদ্ধের জন্য উদ্বুদ্ধ কর। তোমাদের মধ্যে কুড়িজন ধৈর্যশীল থাকলে তারা দুইশতজনের উপর বিজয়ী হবে।তোমাদের মধ্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কোন ইসলাম পালন করছি! কাদের ফলো করছি!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৫১

খোদা ও নবীজীকে অবমাননা করলে অর্থাৎ ধর্মীয় অবমাননা করলে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে, এমন আয়াত কোরআনে পেলাম না!
অনেক খুঁজলাম.........আমি পাই নাই। আপনি পেয়েছেন কি?



পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন, প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং ঢাকা দক্ষিণের নতুন সমীকরণ: রাজনৈতিক খেলায় ইশরাক কোথায়?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫২

রাজনীতির মাঠে অতি-উৎসাহ কখনো কখনো যে আত্মঘাতী হয়ে দাঁড়াতে পারে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় যেভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে, দলবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবের প্রতি বাংলার মানুষের কেন এত ক্ষোভ?

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮



বাংলাদেশের বেকারত্ব সমস্যা দূরীকরণে সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশটিতে বাংলাদেশের প্রায় ৩৫ লাখ শ্রমিক কাজ করছেন। সৌদি আরবই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বৈদেশিক শ্রমবাজার। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সৌদি আরব... ...বাকিটুকু পড়ুন

×