সকাল থেকে একটা ভাবনা আমাকে ব্যতিব্যস্ত করে রেখেছে। এই ভাবনা আজকে প্রথম না- বহু আগের। আমার একেবারে নিকটবর্তী হলে, আমার বাসায় এলে, ভালো করে আমাকে খেয়াল করলে দেখবেন আমি কতটা অনাড়ম্বর জীবন-যাপন করি। এটা ঠিক যে কখনোসখনো অযথাই টাকা নষ্ট করি, দরকার নেই এমন জিনিস কিনে ফেলি, দৃশ্যত বিলাসিতার মতো কিছু কাজও করে ফেলি- কিন্তু আমি অনাড়ম্বর জীবনকেই পছন্দ করি। সকালে মনে হলো অনাড়ম্বর জীবন সম্পর্কে পৃথিবীর শক্তিশালী ধর্মগুলো কী বলে? নাস্তিক্যবাদ কী বলে? এসব নিয়ে একটু পড়ব। মজার বিষয় পড়ে দেখলাম- মোটামুটি সব ধর্মেই কথা এক। মিতব্যয়ী হওয়া উচিত, বস্তুগত ধন-সম্পদের প্রতি আসক্ত হওয়া উচিত না, প্রয়োজনের অতিরিক্ত মজুদ করা উচিত না, সম্পদ বলতে কেবল দৃশ্যগত বস্তু, ক্ষমতা, ধন-সম্পদকে মূল্যায়ন না করা- ইত্যাদি, ইত্যাদি। একটু পড়াশুনা করলেই বোঝা যায়- ধর্মগুলো আসলে কী বলতে চাইছে? এবং এর পেছনকার যৌক্তিক কারণ কী কী হতে পারে? কেবল তথ্য জানলেই কিন্তু হয় না, জানতে হয় উপাত্তগুলো কীভাবে তথ্য হয়ে ওঠে। এর জন্য ব্যাপক পড়াশুনার থেকে গভীর চিন্তাশক্তি জরুরি। যাহোক, ধর্মের পর অধর্মের দিকে গেলাম মানে নাস্তিক্যবাদে অনাড়ম্বর জীবন সম্পর্কে কী বলা হয়েছে তা জানার চেষ্টা করলাম। বাহ্! এই ক্ষেত্রে নাস্তিক্যবাদও ধর্মগুলোর মতো একই পরামর্শ দিচ্ছে- তবে তার ভাষ্যমতে, এসব পরকাল কিংবা ঈশ্বর প্রাপ্তির তাগিদে নয় বরং নিজের সুন্দর একটি জীবন কাটানোর জন্য। তার মানে দাঁড়ায় ‘অনাড়ম্বর জীবন’ নিয়ে তাত্ত্বিকভাবে সবাই একসূত্রে গাঁথা। আমরা মানলাম যে ছিমছাম, কোলাহলমুক্ত, প্রদর্শনহীন জীবন সুন্দর। কিন্তু সেটা আমরা কেবল তাত্ত্বিকভাবেই মানলাম, জীবন আচরণে ভিন্ন। আমরা আড়ম্বর চাই, আমরা আমাদের জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে বিশেষ করে তাকে ঝাঁকজমকপূর্ণ আলোতে সুসজ্জিত করে সবার কাছে তুলে ধরতে চাই। তাহলে ব্যাপারটা কী দাঁড়াল? তত্ত্ব বইয়ে খাতায়। মানুষের সঙ্গ পরিত্যাগের ভাবনাকে কতটা সঠিক মনে করেন আপনি?

ছবিটি দেখুন তো, কিছু বোঝা যায়?
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




