মূলত: এই খেলার ফিল্ড তৈরী করে দিতে যেসব বাংলাদেশী তথাকথিত এলিট গাদ্দারগুলো তথাকথিত ডিপ ষ্টেট এর নামে করে আসছেন, সেই গুটিকয়েক চোর বাটপার শক্তিধর এলিট বনে যাওয়া ব্যক্তিবর্গের কাছে আমার এই বার্তা দিলাম । সো-কল্ড ডিপ ষ্টেট এর লোকগুলোর পরিচয় এদেশের মানুষের কারো অজানা নয় । তাদের কথা অনেকে প্রকাশ্যে আনতে চান না, গুম, খুন হয়ে যাওয়ার ভয়ে কেউ কথা বলতে চান না । কিন্তু মোনাফেকী করে লাভ কি ? এদের পরিচয় সবাই জানেন । আমি প্রকাশ্যেই বলছি । এরা মূলতঃ ৫৪ বছরের বস্তাপচা রাজনৈতিক বন্দোবস্ত টিকিয়ে রাখার জন্য মরিয়া । এবারের ভোটের হাটে যাদের সবার পরচিয় আপনারা ইতমধ্যে পেয়েছেন ।
কান খুলে শুনে রাখুন সো কল্ড থিংক ট্যাংকাররা । আমেরিকা, ইসরাইল এবং ভারত এই ৩ শক্তি একত্রে মিলে আফগানিস্তানে ২০ বছর তাদের ডলার, মেধা, শ্রম বিনিয়োগ করেছিল কি জন্য ? আমরা সবাই সেটা জানি । কিন্তু শেষ পর্যন্ত কি হলো ? তাদের সমস্ত বিনিয়োগ বানচাল হয়ে গিয়েছিল এবং তারা কিভাবে লেজ গুটিয়ে বিমানের ঠ্যাং ধরে ঝুলে পালিয়েছিল ! তা সারা দুনিয়ার মানুষ লাইভ দেখেছিল কি না ? এর সার কথা কি ? একটা দেশের ব্যাপক গণমানুষকে যখন কোন কিছুর বিনিময়ে তাদের নৈতিক অবস্থান থেকে সরিয়ে নেয়া যায় না, তখন সেই দেশে ওসব শয়তানী বিনিয়োগ কোন কাজে আসে না ।
আমি অবাক হয়ে ভাবি, আমেরিকা এবং ভারত বিগত ১৭ বছর বাংলাদেশে একই কাজ করেছিল কি না ? শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রায় ধ্বংস করে , যুব সমাজকে নেশায় বুদ করিয়ে হেন কোন চেষ্টা নাই যা এই শয়তানরা মিলে মিশে করেনাই । কিন্তু একটা সুষ্ঠ ভোটের পরিবেশ ফিরে পাওয়ার পর সেই প্রায় ধ্বংস করা জাতির ভেতর থেকে এক বিরাট নৈতিক, মানসিক শক্তি নিয়ে ৬৮% এর বেশী (চোরদের এত চুরি স্বত্তেও) মানুষের ইচ্ছাকে রুখে দেয়া সম্ভব হয়েছে কি ? শত চেষ্টা করেও পারেনাই কিন্তু ।
প্রমাণ হয়েছে, এই রাষ্ট্রের সো কল্ড ৫৪ বছরের গণতান্ত্রিক রাজনীতির নামে ভুয়া রাজনীতি তথা চোর বাটপারদের রাষ্ট্রের জনগণের সম্পদ লুট-পাটের রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যান করে গণমানুষের সরল, সহজ একটা সহীহ রায় হয়েছে গণভোটে ( আমার মতে ৮০% এর বেশী মানুষের মতামত প্রতিফলিত হয়েছে যা ব্যাপক চুরি করেও ৬৮% এর নিচে নামানো সম্ভব হয়নি ) । আপনারা যদি বাস্তবতা দেখেন, তাহলে এই সংখ্যা আরো অনেক বেশী হতে বাধ্য । কেননা তারা সরকার গঠণে নিরংকুশ করার জন্য চুরি করতে গিয়ে গণভোট চুরি কিছুটা কমাতে বাধ্য হয়েছিল । তারপরও তাদের ইচ্ছায় গণভোটকে নিরংকুশ ”না” করতে পারেনাই । তারা ভেবেছিল, ওদিক যা হয় হোক, নিরংকুশ করতে পারলে সংসদে ওটা বাতিল করা যাবে । কিন্তু সাবধান করে দিচ্ছি, সংসদে বাতিল করলে কি হতে পারে, তা ইতমধ্যে হিসাব হয়ে গিয়েছে ।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছেঃ এই দেশের মানুষ কিন্তু বুঝে ফেলেছে, “ভারতকে বাংলাদেশের জনগণের আর ভয় করার কারণ নেই । কেননা ওরা যে জু জু’র ভয় দেখায়, তা মূলতঃ ওদের দেখানো ভয় নয়, আমাদের দেশের মূলতঃ ২০% নষ্ট মানুষের (সো কল্প ডিপ ষ্টেট এবং তাদের হাতের কিছু পুতুল রাজনীতির মাঠের বেকার লোকজন, যাদের রাজনীতির নামে লুটপাট-চাঁদাবাজী ব্যতিত আর কোন পেশা নেই) নাটক সাজিয়ে ভয় দেখানোর কৌশল ছাড়া আর কিছুই নয় । এটা এই দেশের মানুষ বুঝেছে এবং কবে বুঝেছে, তাও আপনারা জানেন । এটা বুঝেছে সেই ৫ই আগষ্ট ২০২৪-এ ।
তাই যারা মনে করছেন, দেড় বছরের মধ্যে ভুলোমন জাতি ভুলে গিয়েছে এবং মোনাফেক কিছু মানুষের ঘাড়ের উপর বন্দুক রেখে আবারো হসিনা ষ্টাইলে অথবা গাজা ষ্টাইলে ব্যাপক নিধনযজ্ঞ চালিয়ে দিলে সাকসেসফুল হবেন ? ভুলের স্বর্গে বাস করছেন । আপনাদের গুরু আমেরিকা-ভারতকে সাবধান করছি, আফগানিস্তান থেকে যদি শিক্ষা না নেন, জুলাই বিপ্লব থেকে যদি শিক্ষা না নেন, এত চুরি স্বত্তেও ৬৮% এর বেশী গণমানুষের রায় থেকেও যদি আপনারা শিক্ষা না নেন, তাহলে আপনাদের পরিণতি হবে ভয়ংকর । এই দেশের কিছু মানুষকে আবারো খুন করে কিছুদিন হয়তো আপনাদের খায়েশ মিটাবার খায়েশ পুরা করতে পারবেন। কিন্তু আখেরে আপনাদের প্রত্যেকের পরিণতি আফগানের চেয়েও ভয়ানক হবে, যা কারো জন্যই ভালো হবে না ।
দেশের মানুষ প্রকৃতপক্ষে যে রায় দিয়েছে, সেই রায়কে সম্মান করুন, আপনদের নিজেদেরই স্বার্থে । নয়তো আমেরিকার হাতে টাকার জোর নেই, আছে মাস্তানীর জোর, ভারতের কোন নৈতিক শক্তি নেই, আছে সিনেমা ষ্টাইলে ভয় দেখানোর জোর, ইসরাইল একা কিচ্ছু করতে পারবে না, তাদের বাপ আমেরিকা ল্যাংড়া হয়ে গেলে । অতএব সাধু ! সাবধান !!!
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:৩৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


