১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ দুর্ভিক্ষে নিপতিত হয়েছিল কেন জানেন ?
সে দুর্ভিক্ষটি ছিল মনুষ্য সৃষ্ট । সে দুর্ভিক্ষ হয়েছিল এই দেশের রাজনীতিকে যারা নিয়ন্ত্রন করত, তাদের সবার সম্মিলিত মোনাফেকী, লুটপাট করে খাওয়ার নেশা এবং তাদের দুর্বল নেতৃত্বের সুযোগ নিয়ে এই দেশের সুদখোর-মুনাফাখোর, লোভী ধনিক শ্রেণীর মানুষদের ভয়ানক স্বার্থপরতার জন্য ।
বিভিন্ন দেশ থেকে আগত ত্রাণ সামগ্রি কিভাবে কুক্ষিগত করে সাধারণ নিরিহ মানুষের মাঝে কৃত্রিম সংকট তৈরী করে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছিল, তা খোদ অমর্ত্য সেনের লেখায় উঠে এসেছে । যারা জানেন না, সেখান থেকে জেনে নিবেন ।
ইরানে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশের বিপদ ভারী !
কারণ এই দেশের রাজনীতি যেমন আগের চেয়েও আরো ভয়ংকর চোর-ডাকাত-লুটেরা শ্রেণীর নিম্নমানের মানুষদের দখলেই রয়ে গেছে, তেমনি এই দেশের সামরিক-বেসামরিক আমলা সহ এলিট বলে কথিত নাগরিক সমাজ, মিডিয়া সহ সকল ইনষ্টিটিউশনের অধিকাংশই তাদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে তাদের চেয়েও ভয়ানক চোর- ডাকাতে পরিণত হয়েছে ( কদাচ ব্যতিক্রম ব্যতিত )। ব্যতিক্রম যারা আছে, তাদের কোনই ক্ষমতা নেই যে, নষ্ট মানুষগুলোর খপ্পর থেকে জাতিকে উদ্ধার করতে পারবে, যদি আল্লাহ সদয় না হয় ।
এই সরকার যে চোর বাটপারদের দ্বারা পরিচালিত একটা সরকার , তার উৎকৃষ্ট প্রমাণ দেখুন । বাংলাদেশের তেলবাহী জাহাজতো যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালীতে আটকে দেওয়া হয়নি। বরং ইরান বাংলাদেশসহ নির্দিষ্ট বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর তেল ও এলএনজি (LNG) বাহী জাহাজকে নিরাপদে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের নিশ্চয়তা দিয়েছে ইরাণ। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেও বাংলাদেশগামী জ্বালানি জাহাজগুলো বিশেষ সমন্বয়ের মাধ্যমে চলাচল করছে । এই যেখানে খবর, সেখানে কোন কারণে বাংলাদেশের পেট্রল পাম্পগুলোতে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হয়েছে ? আতংক ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে সারা দেশে ? এটা হচ্ছে চোর বাটপাররা যারা ক্ষমতা হাতে পায়, তাদের কারসাজি । এরা এমন একটা আয়োজন করে রাখছে, যাতে এই যুদ্ধের দোহাই দিয়ে কৃত্রিম সংকটের নামে গোপনে নিজেদের আখের গুছিয়ে নিতে পারে ।
মু’মিন বলে দাবীদার যারা আছেন, চরিত্রে যদি মোনাফকী থেকে থাকে, তাহলে তওবা করে ফিরে আসুন । তাওয়াক্কুল করুন একমাত্র আল্লাহর উপর । ভরসা রাখুন আল্লাহর উপর । যার যা আছে, তাই নিয়ে মিতব্যয়ি হোন, অপচয় রোধ করুন । যদি প্রবল দুর্ভিক্ষ গ্রাস করে তখন সাধ্যমত সবাইকে নিয়ে যতটুকু সুস্থ্য থাকা যায় , চেষ্টা করে যাবেন ।
ঐ অবস্থায় আমরা যারা নিপতিত হব, অবশ্যই আমরা আল্লাহর ফয়সালার উপর পুরোপুরি নিজেকে ছেড়ে দিব । এই অবস্থায় যদি সবাইকে নিয়ে মরে যেতে হয়, শহীদী কাফেলার অন্তর্ভূক্ত হয়ে যাবার সুযোগ রয়েছে ।
মনে রাখি, কোন অন্যায় কাজের সাথে জড়িত হয়ে জীবন রক্ষার চেয়ে সত্য, ন্যায়ের উপর অটল-অবিচল থেকে ঈমান নিয়ে মৃত্যু বরণ করা অনেক বেশী সম্মানের, গৌরবের ।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


