somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ফেনীর ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলায় টানা ভারী বর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে সৃষ্টি বন্যায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে লাখো মানুষ।

১০ ই জুলাই, ২০২৫ সকাল ৯:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর অন্তত ২০টি স্থানে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় প্লাবিত হয়েছে ৩০টির বেশি গ্রাম।
বন্যাকবলিত এলাকাগুলোয় পানিবন্দি মানুষের মাঝে ইতিমধ্যেই খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাব দেখা দিয়েছে। সাথে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে মোবাইলে যোগাযোগও ব্যহত হচ্ছে। বহু স্থানে সরকারি সহায়তা পৌঁছেনি।
ফুলগাজীর দেড়পাড়া, দৌলতপুর, গাইনবাড়ি, নাপিতকোনা ও উত্তর শ্রীপুর এবং পরশুরামের শালধর, অলকা, জঙ্গলঘোনা ও দানিয়ালপুরসহ অন্তত ৩০টি গ্রাম পানির নিচে। হঠাৎ পানি বাড়ায় ঘরবাড়ি ছেড়ে অনেকেই আশ্রয় নিয়েছেন উঁচু জায়গা বা অন্যের বাড়িতে।
গাইনবাড়ির আছমা আক্তার বলেন, “রাতেই পানি ঢুকে যায় ঘরে। খাবার নেই, পানিও বিশুদ্ধ না।”
নাপিতকোনার জাহানারা বেগম বলেন, “আমরা নিজেরা বাঁধ বাঁচানোর চেষ্টা করেছি, কাজ হয়নি। এখন প্রতিবেশীর বাড়িতে আছি, খাবার-পানির কষ্টে আছি।”
ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহিয়া আক্তার বলেন, “এই বন্যায় অন্তত ৭৫ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন ১ হাজার ২০০ জন। বিতরণ করা হয়েছে শুকনো খাবার, স্যালাইন ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট। রান্না করা খাবারও দেওয়া হচ্ছে।”

পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুর রহমান বলেন, “১৫টি গ্রাম প্লাবিত। আশ্রয়কেন্দ্রে ৩ হাজার, আর পানিবন্দি অন্তত ৭ হাজার মানুষ। শালধরে ১৫টি পরিবারের ঘরবাড়ি পুরোপুরি বিলীন হয়ে গেছে।”

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আখতার হোসেন মজুমদার বলেন, “মুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উজানে বৃষ্টি বন্ধ হলে ভাঙন বাড়ার আশংকা কমবে।”

অন্যদিকে উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আবুল কাশেম জানান, বুধবার রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত পানি বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার নিচে ছিল। পানি কমলে বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু হবে।

জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম বলেন, “ফুলগাজী ও পরশুরামে দুই হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। রান্না করা খাবারও দেওয়া হচ্ছে।”

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় (৮ জুলাই সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৯ জুলাই সন্ধ্যা ৬টা) পর্যন্ত জেলায় ৮২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। তবে বুধবার থেকে বৃষ্টি কিছুটা কমেছে, এতে পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির দিকে যাচ্ছে।

সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জুলাই, ২০২৫ সকাল ১০:০৬
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কি আছে কারবার

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩


ঐ যে হেঁটে যাচ্ছিলাম- দেখলাম
ভণ্ডামি আর প্রলোভন কাণ্ড;
ক্ষমতায় যেনো সব, ভুলে যাচ্ছি অতীত-
জনগণ যে ক্ষেতের সফল ভিত
অবজ্ঞায় অভিনয়ে পাকাপোক্ত লঙ্কা;
চিনলাম কি আর খেলেই ঝাল ঝাল
তবু ভাই চলো যাই, হেঁটে- হেঁটেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিংহাসনের লড়াই: নেকড়ের জয়ধ্বনি ও ছায়ার বিনাশ

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৪৮



“Game of Thrones: Winter is coming” - এর ছায়া অবলম্বনে।

বাংলার আকাশে এখন নতুন সূর্যের আভা, কিন্তু বাতাসের হিমেল পরশ এখনো যায়নি। 'পদ্মপুর' দুর্গের রাজকীয় কক্ষের একপাশে বিশাল মানচিত্রের দিকে তাকিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৭১ পরবর্তি বাংলাদেশ ( পর্ব ০৮)

লিখেছেন মেহেদী আনোয়ার, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:২৩


মুক্তিযুদ্ধে ‘ত্রিশ লাখ শহিদ হয়েছে'— এই দাবি বিশ্ববাসী প্রথম জানতে পারে ৩ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে সোভিয়েত রাশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা ‘প্রাভদা'তে প্রকাশিত এক সংবাদ নিবন্ধে। দু'দিন পর চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ শবে বরাত!!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:২০



ইসলামি বিশ্বাস মতে,
এই রাতে আল্লাহ তার বান্দাদেরকে বিশেষ ভাবে ক্ষমা করেন। ফারসি 'শবে বরাত' শব্দের অর্থ ভাগ্য রজনী। দুই হাত তুলে প্রার্থনা করলে আল্লাহ হয়তো সমস্ত অপরাধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেলে আসা শৈশবের দিনগুলি!

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:২১


চট্টগ্রামে আমার ছোটবেলা কেটেছে নানুর বাড়িতে। চট্টগ্রাম হলো সুফি আর অলি-আউলিয়াদের পবিত্র ভূমি। বেরলভী মাওলানাদের জনপ্রিয়তা বেশি এখানে। ওয়াহাবি কিংবা সালাফিদের কালচার যখন আমি চট্টগ্রামে ছিলাম তেমন চোখে পড়েনি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×