
প্রায় সময় শুনি চিকিৎসকরা কর্মবিরতিতে গিয়েছে দেখে ভেঙ্গে পড়েছে হাসপাতালের চিকিৎসা-সেবা কার্যক্রম। চরম দুর্ভোগে পড়েছে রোগী ও রোগীর অভিভাবকরা।এই তো কয়েক দিন আগেই শুনছিলাম রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৩ দিন ধরে ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের কর্মবিরতি চলছে। চিকিৎসক দের কর্মবিরতি পালন করা এখন আর নতুন কোনো ঘটনা নয়।২০১৪ সালের এপ্রিল মাসে শুনলাম ঢাকার বারডেম এর চিকিৎসকরা কর্মবিরতি পালন করছেন ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সাতক্ষিরার চিকিৎসকরা কর্মবিরতি পালন করেন জানুয়ারী ২০১৬ তে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ,চট্টগ্রাম ,পাবনা ও গোপালগঞ্জের চিকিৎসকরা কর্মবিরতি পালন করছেন ২০১৬ সালের মার্চ মাসে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ও খুলনার চিকিৎসকরা কর্মবিরতি পালন করছেন,এপ্রিল ২০১৬ তে কিশোরগঞ্জ এর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের চিকিৎসকরা কর্মবিরতি পালন করছেন।প্রশ্ন হচ্ছে পেশাগত ভাবে চিকিৎসকদের কর্মবিরতি পালন করা কতটা যুক্তি সংগত ? চিকিৎসকদের সাথে যদি কোনো অন্যায় হয়ে থাকে অবশ্যই তারা তার প্রতিবাদ করবেন কিন্তু কর্মবিরতিতে যাওয়া হচ্ছে একজন চিকিৎসকের জন্য সব থেকে খারাপ প্রতিবাদের মাধ্যম। চিকিৎসকরা খুব ভালো মতোই জানেন এক জন মুমুর্ষ রোগীর জন্য প্রতিটা মুহূর্ত কতটা জরুরি উনারা তা জেনেও হাসপাতালের সব অসুস্থ রোগীদের পুজি করে আন্দোলন করেন ও কর্মবিরতি পালন করেন। কখনো বেতন বৃদ্ধির জন্য এই কর্মবিরতি আবার কখনো রোগীর আত্মীয় স্বজনের সাথে হাতাহাতি বা মারামারি করে কর্মবিরতি।চিকিৎসকদের এই কর্মবিরতির ফলে সব চে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয় হাসপাতালের সাধারণ রোগীরা যাদের সাথে হয়তো আন্দোলনের কোনো সম্পর্কই নেই।এক জন মুমুর্ষ রোগীর কাছে হয়তো সৃষ্টিকর্তার পরই এই চিকিৎসকের স্থান অথচ সেই চিকিৎসকরা যখন একজন রোগীর আত্তীয় স্বজন এর সাথে মারামারি বা বিবাদের এর শাস্থি হাসপাতালের অনান্য অসুস্থ রোগীকে দেন তখন আসলেই বলার আর কিছু থাকে না। আসলে কর্মবিরতি পালন করা এখন একটা স্টাইল হয়ে দাড়িয়েছে প্রায় প্রতি মাসেই কোথাও না কোথাও চিকিৎসকরা কর্মবিরতি পালন করছেন বিভিন্ন কারণে।প্রয়োজনে আইন করে চিকিৎসকদের কর্মবিরতি পালন করা নিষিদ্ধ করতে হবে যারা জরুরী সেবার সাথে সংশ্লিষ্ঠ তাদের প্রতিবাদের আরো অনেক মাধ্যম আছে কর্মবিরতি এক মাত্র মাধ্যম নয় আর তা না হলে এদের দেখা দেখি অনান্য সেবা সংস্থার লোক জনও উদ্বুদ্ধ হবে ভেবে দেখুন এই চিকিৎসকদের দেখা দেখি যদি জরুরী খাতের সাথে সংশ্লিষ্ট ফায়ার ব্রিগেট কর্মীরা ,থানার পুলিশ ,তিতাস গ্যাস এর লোক জন এরাও যদি কাজ বাদ দিয়ে কর্মবিরতি পালন করা শুরু করে তা হলে আমাদের অবস্থা কি হবে। সাধারণ মানুষ এরও বুঝতে হবে জন্ম মৃত্যু চিকিৎসকের হাতে নয় আমরা যদি তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারি বা তাদের ভালো কাজের পরিবেশ না দিতে পারি তা হলে আমরা সাধারণ মানুষই সব চে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হব।প্রশাসনের দায়িত্ব চিকিৎসকদের নিরাপত্তা দেয়া যারা চিকিৎসকের কাজে বাধা সৃষ্টি করবেন তাদের কঠিন শাস্থি নিশ্চিত করা

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


