সেদিন জন্মদাত্রী মাও দশ মাস দশ দিনের কষ্ট ভুলে তিল তিল করে যুবক বানিয়ে তোলা ছেলেটিকে বলেছিল‚ “যা বাবা যুদ্ধে যা । বিজয় ছিনিয়ে তবেই আমার ঘরে ফিরবি । তোর মায়ের দুধের কসম শত্রুর থেকে কখনো পিছপা হবিনা‚ মরলে সামনে থেকে মরবি; বীরের মত ।”
সেদিন হাড়ভাঙা খাটুনি করে‚ মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ছেলেকে বড় করে তোলা পিতাটিও ছেলের পিঠে চাপড় দিয়ে বলেছিল‚ “যা ব্যাটা যুদ্ধে যা । মরলে বীরের মতন মর । বেড়ালের মত মরে জীবনের কোনো স্বার্থকতা নেই । তুই বীরের মত মরলেই আমি আমার সেই শুক্রাণু স্বার্থক মনে করবো যেটার থেকে একজন বীর জন্মেছে । বাঁচলে বাঁচার মতন করে বাঁচ‚ অথবা মরার মতন মর ।”
সেদিন আদরের ছোট বোনটিও কাঁদতে কাঁদতে বলেছিল‚ “যাও ভাইয়া যুদ্ধে যাও । আর কখনও মেলা থেকে খেলনা কিনে আনতে বলবোনা । তোমাকে আর জ্বালাবোওনা । তবুও বিজয়টা ছিনিয়ে এনো । গুডলাক!”
সেদিন মায়ের কোলে থাকা ছোট্ট ভাইটিও যুদ্ধে যাওয়ার আগে আমার দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে ছিলো । চোখ দুটো যেন বলছিলো‚ “যাও ভাইয়া যাও । বিজয় ছিনিয়ে আনো‚ আর দেরি করোনা ।”
সেদিন হালাল ও বৈধ স্ত্রীও স্বামীকে বুকের উপর থেকে সরিয়ে দিয়ে বলেছিল‚ “যাও যুদ্ধে যাও । এভাবে কাপুরষের মত আপনার বুকের উপরে থাকার কোনো মানে নেই । তোমাকে যে বিজয় ছিনিয়ে আনতেই হবে প্রিয়তম স্বামী ।”
(ফুটনোটঃ শুধু ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধেই নয় বরং আজকের সমাজেও আমরা দেখি কিছু বীরদের দেখি । যারা মৃত্যুকে ভয় পায়না । ওরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সেই উক্তিটি জানে‚ “যে ব্যক্তি মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত তাকে কেউ মারতে পারেনা ।” সামনে নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও লড়ে যায় । তাদের বাবা-মা-ভাই-বোন-বউরা প্রেরণা দেয়‚ সাহস জোগায় । যুগে যুগে এরকম ইতিহাসের পাতায় থেকে যাবে কিছু বীর । যাদেরকে কেউ ইতিহাস থেকে মুছে ফেলতে পারবেনা ।)
০৮ পৌষ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | শীতকাল | সোমবার

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



