ছোটরা খুব সহজেই যেমন বিশ্বাস করতে শেখে‚ তেমনি খুব সহজেই নিজেকে একজন বড় মানুষ ভাবতে শেখে । এইটা কোনো জটিল বিষয় না‚ এই পর্যায় সবার জীবনেই আসে ।
ছোটরা প্রেম-ভালোবাসার ক্ষেত্রে না ভেবেই না জেনেই হুট করে সম্পর্কে জড়িয়ে যায় । কারো সম্পর্কে না জেনে‚ না শুনে‚ না বুঝে তার প্রতি অতিরিক্ত ডুবে যাওয়া অনেক খারাপকিছুর লক্ষণ ।
ছোটরা মনে করে ওরা যেটা করছে সেটাই ঠিক । অথচ প্রেম-ভালোবাসা/বিয়ে এইসব জীবনের অধিক গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় । চাকরি না পেলে চায়ের দোকান দিয়েও দিব্যি পেটের খোরাক জুটবে‚ কিন্তু ভুল মানুষের সাথে একবার আটকে গেলে আর রেহাই নেই । সারাজীবন ধরে তার খেসারত দিতে হবে ।
মানুষ বড় হলে একটু হলেও বেশী জানে‚ বেশী শেখে বা বেশী জায়গায় ঘোরে । বেশী জায়গায় ঘোরার ফলে সে খুব সহজেই ছোটদের ভুলের স্থানটা ঠিক তার চোখে ধরা পড়ে ।
অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় বড়দের চেয়ে ছোটরা প্রেম-ভালোবাসায় বেশী পারদর্শী । স্কুল/কলেজ ম্যানেজ করা । বাড়ি থেকে টাকা-পয়সা সিস্টেম করে নেয়া । প্রেমিকার জন্য এটা-সেটা কিনে দেওয়া । এছাড়াও রেষ্টুরেন্ট বিল তো আছেই । আবার ঘুরতে-টুরতে যাওয়ার বিল তো আলাদা ।
ভুল মানুষের সাথে সম্পর্কে জড়ানো আমার এক বন্ধুর জীবন থেকেই দেখেছি খুব কাছে থেকে । যার খেসারত সে নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়ে পরিশোধ করেছে ।
মানুষের জীবনে প্রেম-ভালোবাসা আসা খুবই স্বাভাবিক একটা ঘটনা । আসতেই পারে । শুধু মানুষ না সব প্রাণীর মাঝেই এইসব প্রেম-ভালোবাসা দেখা যায় । মানুষ মানুষকে ভালোবাসবে‚ সম্পর্কে জড়াবে‚ বিয়ে করবে এটাই স্বাভাবিক । যদিও আমাদের সোসাইটিতে নব্বইভাগেরই প্রেম-ভালোবাসা নিয়ে এখনও নেগেটিভ ধারণা আছে । যে সমাজে পুরুষ-নারীর সম্পর্ককেই এই ধারণা; সে সমাজে সমকামিতা যদি কোনোভাবে ঢুকে যায় তাহলে বোঝেন অবস্থা!
ছোটদেরকে যদি ভুলটি ধরিয়ে দেয়া হয় তবে ছোটরা ভাবে বড়রা ভুল কথা বলছে । এই ছেলে/মেয়ে অনেক ভালো । বিশ্বাসী‚ সৎ‚ যোগ্য ব্যক্তি সে-ই । অথচ কিছুদিন অতিবাহিত হওয়ার পরই আসল ঘটনা উদ্ঘাটিত হয় । সে তখন তার ভুল বুঝতে পারে ।
মানুষের আচার-আচরণ‚ চালচলন‚ কথাবার্তা‚ পরিবার‚ এলাকা‚ সামাজিক অবস্থান দেখেও মানুষ সম্পর্কে অনেককিছু বোঝা যায়‚ জানা যায় । বয়স বাড়ার সাথে সাথে মানুষ তার ভুলগুলো বুঝতে শেখে স্বভাবতই ।
নিষেধ সত্ত্বেও বা বিচার না করেই যারা সিদ্ধান্ত নেয় তাদেরকে কিছু বলার থাকেনা । কারণ তারা মানতে চায়না । বাস্তবতার নিরিখে তারা কখনও যাচাই-বাছাই করেনা । আবেগে গা ভাসিয়ে দিয়ে বিবেক-বুদ্ধিকে তুচ্ছজ্ঞান করে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে । অথচ এদের নির্মম পরিহাসের জন্য এরা নিজেরাই দায়ী; অন্যকেউ নয় ।
মনে রাখবেন একজন গরীব লোক বাজার করতে গিয়ে টমেটো-শসা-মাছকে যতটা না খতিয়ে দেখে তেমনি ধনীরাও কিন্তু ঠিকই খতিয়ে দেখেই জিনিসটা কেনা‚ যতই তার অর্থ-সম্পদ বেশী থাকনা কেন ।
রবীন্দ্রনাথ বোধহয় একারণেই বলেছিলেন‚ “বিয়ে না করে ঠকা ভালো । বিয়ে করে ঠকলেই মুশিল ।”
২৭ পৌষ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | শনিবার

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




