somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমি পথ ভুলে যাই---

২৬ শে অক্টোবর, ২০১৭ সকাল ৯:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রাস্তায় নামলে আমি পুরোপরি পরজীবী হয়ে পড়ি। আমার কোন হিসাব থাকে না; মানে, রাস্তাঘাট মনে থাকে না। লোকজনকে জিজ্ঞেস করি। তারা আগ্রহের সাথে পথ বাতলে দেয়। আমি তারচে'ও বেশি আগ্রহ নিয়ে সে পথ ধরে চলতে থাকি। সবসময় যে শতভাগ ঠিক হয় এমন না। এমনও লোক পেয়েছি যার কথায় আমি সম্পূর্ণ উল্টো পথে হেঁটেছি। কিন্তু আমি তার প্রতিও কৃতজ্ঞ। বেচারা তো চেষ্টা করেছে।

আমার দেখামতে বাংলাদেশের লোকজন রাস্তয় খুবই হেল্পফুল। বিশেষ করে রিকশাওয়ালা, সি এন জি ড্রাইভার, আশপাশের দোকানের লোকজন। এমনকি রাস্তার বখাটে ছেলেপিলে পর্যন্ত অত্যন্ত ভদ্রভাবে পথ দেখিয়ে দেয়।

আমি সবচে বেশি অসহায় হয়ে পড়ি ঢাকা এলে। বাস থেকে নামার সময় হলেই আমার মন খারাপ হয়ে যায়। আর রাস্তায় নামলে তো রীতিমত কান্না আসে। জ্যাম-টেম, নৈঃসঙ্গ, নিরাপত্তাহীনতা, সুষম খাবারের সংকট, মানসম্মত পানের দোকান না-থাকা ইত্যাদি তো আছেই, বেশি সমস্যায় পড়ি রাস্তা চেনা নিয়ে।

ঢাকা আমি নয় বছর কাটিয়েছি। কিন্তু হাতে গোনা অল্পকয়েকটা জায়গা ছাড়া আর কোথাও নিজে পথ চিনে যেতে পারি না। আমার চেনা-জানার মধ্যে সায়েদাবাদ অন্যতম। কিন্তু হা কপাল! একবার সেই সায়েদাবাদেই জনপথ-মোড়ের খোঁজে আমি আধা ঘণ্টার মত চক্কর কেটেছি। সাথে আব্বা ছিলেন। নয় বছর এখানে কাটিয়ে পিতাকে আমি জনপথের মোড়ে নিয়ে যেতে পারছি না- এটা আমি কোনভাবেই মেনে নিতে পারছিলাম না। আসলে আমি বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না যে, আমি এটা খুঁজে পাচ্চ্ছি না। মনে হচ্ছিলো- এই তো, সামনেই। এই সামনে সামনে করে এক পর্যায়ে যখন পিতা-পুত্র সারি সারি বাসের চিপায় সেঁধিয়ে গেলাম তখন আমি খুবই হতাশ আর দুঃখিত হয়ে পড়লাম।

ঢাকায় এলে আমি সায়েদাবাদ নেমে রাশেদকে ফোন করি- রাশেদ! সায়েদাবাদ নামলাম। এখন আমার কী করা উচিত? সে বলে দেয়। এর পরের বার আসার আগে আগে এ সাজেশন খুব যত্নের সাথে ভুলে যাই। সে আবার বলে দেয়।

আজকে সায়েদাবাদাবাদ নেমেই ফোন করলাম। কিন্তু কল ঢুকার আগেই আবার কেটে দিলাম। আর কত, আমি তো বড় হয়েছি। এবার নিজের পায়ে দাঁড়ানো দরকার। ফলে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে সিএনজি ডাকলাম। ড্রাইভারের হাসিটা আমার পছন্দ হয়েছে। এমন করে যে হাসতে পারে এর হাতে নিজেকে নিশ্চিন্তে তোলে দেওয়া যায়। হাজিপাড়া নেমে মাওলানা যাইনুল আবিদীন সাহেবের বাসার গলিটা খুঁজতে লাগলাম। পেলাম না। অথচ দশ বছর ধরে আমি এ বাসায় আসা-যাওয়া করি। শেষে চৌধুরী পাড়া মাদরাসার লাগোয়া গলি দিয়ে বাসায় গেলাম।

এই ব্যাপারটি প্রথম প্রথম খুব খারাপ লাগতো। এখন গা সওয়া হয়ে গেছে। আমি তো আমার বাড়ির পথঘাট চিনি। এটাই বা কম কিসে! :(

কাজী, আপনি বলেছিলেন, আপনি কোনদিন গাড়ি চালাইতে পারবেন না, কারণ পথ-ঘাট চিনেন না। তো, এই হলো আমার অবস্থা। আমি আপনার চেয়ে অনেকগুন বেশি।

২১. ১০.২০১৭ঈ. রবিবার।

সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে অক্টোবর, ২০১৭ সকাল ৯:৫১
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধন্যবাদ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৩



এরকম একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করার জন্যে আপনাকে ধন্যবাদ। ...বাকিটুকু পড়ুন

জোর করে যুবককে নামাজে নেওয়ার চেষ্টা কিশোরের, অতঃপর...

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:২৬


বরিশালের হিজলা উপজেলার চরবিশোর গ্রামে আরিফ রাঢ়ী (১৩) নামে এক স্কুলছাত্রকে লাথি মেরে হত্যার পর মরদেহ খালে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) এশার নামাজের আগে মোশারফ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যুক্তরাজ্যের ভিসা পাওয়া এতো কঠিন কেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:২৪

আমার বড় মেয়ে মারিয়ার সাথে আজ কথা হলো। সে যুক্তরাজ্যে পড়ালেখা করে। এখন ৭ম শ্রেণীতে। মারিয়ার নানাবাড়ি ইংল্যান্ডে হওয়ায় সেখানে থেকে পড়ালেখা করাটা একটু সহজ হয়ে গিয়েছে। আমার সাথে ফোনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্প : পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্য

লিখেছেন মোঃমোস্তাফিজুর রহমান তমাল, ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৫৮


ছবিসূত্র: Freepik.com

পড়ন্ত বিকেলে যখন গাছের পাতা ভেদ করে নরম রোদ অনেক কষ্টে মাটির রাস্তার উপর পতিত হয় অথবা যখন আওলাদের মায়ের রূপা ও বাতাসী নামক ছাগল দুটো তার দলবল নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৮০ দিন কর্ম পরিকপ্লনা : সমালোচনা ও শপথ একই দিনে ।

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৫৮

১৮০ দিনের কর্ম পরিকল্পনা : সমালোচনা ও শপথ একই দিনে ।



নূতন সরকার, নূতন পরিকল্পনা, নূতন চিন্তা ভাবনা ।
অনেকেই আগ্রহভরে বিষয়টি পর্যালোচনা করছেন । কেউ কেউ অতীত ভূলতে পারছেন না,
তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×