somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাঘ

১৮ ই জানুয়ারি, ২০১৫ রাত ১২:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একবার একটা বাঘ তার একমাত্র ছেলে মাইকেলকে নিয়ে গেল হরিণ শিকার করতে। মাইকেল হরিণ শিকারে তার বাবা টমাসের থেকেও অনেক বেশি দক্ষ ছিল। বাপ-বেটা দুজন সুন্দরবনের হিরন-পয়েন্টে ঘাসের মধ্যে ভাল একটা ঘনঝোপ ঠিক করে শিকারের পজিশন নিয়ে হরিণের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলো।

বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পরে তারা দুজন দেখতে পেল যে, কিছু হরিণ-হরিণী তাদের ছানাপুনা নিয়ে মনের আনন্দে সেই ঘন ঘাসের দিকে আসছে তাদের পেটপূর্তি করতে। মাইকেল তার গোঁপের তলে কুটিল হাসির একটি রেখা ফুটিয়ে বলল, বাবা আজ আমরা আমাদের মাকে আমাদের শিকারটি উপহার দেব, ওকে। টমাসের মুখে শব্দহীন সিরিয়াস গাম্ভীর্য। সে মনে মনে তার টার্গেট নির্বাচনে ব্যস্ত।

এমন সময় অনেক দূর থেকে কিছুমানুষের ক্যামেরার শাটারের ক্লিক-ক্লিক শব্দ টমাসের খাড়া কানে তীক্ষ্ণ তীরের মতো আঘাত করল। মাইকেল বলেই ফেলল, আবারও সেই উটকো ঝামেলা। টমাস বলল, ওদিকে কান না দিয়ে এবারে আমাদের ফাঁকা পেটের শব্দের দিকে কান দিয়ে শিকারে মননিবেশ কর। ঐ শব্দে হরিণগুলো আর একটু পরই আমাদের থেকে দূরে চলে যাবে।
অপেক্ষার প্রায় টান টান শেষ মূহুর্ত। আর দেরি করা মোটেও ঠিক হবে না। তাইকোনো টুরিস্ট-ফুরিস্ট না গুনেই তারা বাপ-বেটা লাঁফিয়ে পড়লো দুটি হরিণের ওপর। তারা সেগুলিকে মেরে, টেনে তাদের মা আর মাইকেলের বোন এলিসার জন্য নিয়ে গেল।

বেশকয়েক বছর পরের কথা। মানুষেরা হিরণ-পয়েন্টে মাইকেলদের বসবাসের স্থানে চেকপোস্ট বানিয়েছে। মাইকেলের বাবা টমাস সেই চেকপোস্ট থেকে ছোঁড়া গুলিতে মারা গেছে। মাইকেল তার মা, বোন আর বোনের একমাত্র ছেলে নিটনকে নিয়ে অন্যস্থানে চলে এসেছে। এখানে হরিণ প্রায় নেই বললেই চলে। তাইমামা-ভাগ্নে এখন মাঝেমধ্যেই তাদের পরিবারের জন্য মাছ শিকার করে।

একদিন মামা-ভাগ্নে ঠিক করলো যে তারা মানুষের বসতিতে যেয়ে রাতের আঁধারে গরু শিকার করবে। সেই কবে যে তারা শেষবারের মতো গরুর স্বাদ পেয়ে ছিল তা ঠিক মনে নেই তাদের। মাইকেল তার দাদার মুখে শুনেছিল মানুষ্য বসতিতে গরু শিকারের অভিজ্ঞতার কথা। সেই অভিজ্ঞতাটা বোধহয় আজ এতদিন পরে তাদের পেটের দায়ে কাজে দিতে চলেছে।

যে সমস্ত বাঘ পূর্বে মানুষ্য বসতিতে গেছে তাদের বেশির ভাগই মারা পড়েছে। আর যারা শিকার করে ফিরেছে তাঁরা একেকজন মহাবীর। তাদের কাছ থেকে অভিজ্ঞতা নিয়ে আরও ভালভাবে প্রস্তুতি নিল মাইকেল আর নিটন। নিটনের মা এলিসা প্রথমে রাজি হচ্ছিল না এই মিশনে নিটনকে যেতে দিতে। কিন্তু নিটনের কিচ্ছু হবে না, এই আশ্বাস দিয়ে মাইকেল নিটনকে তার সাথে নেবার ব্যবস্থা করলো।

সবকিছু ঠিকঠাক করে মামা-ভাগ্নে এক চাঁদরাতে তাদের মিশনে বের হলো। তখন মাঝরাত। বসতিতে মানুষ্য জাতির নাক ডাকার আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে। গোলপাতা, মাটি আর খড় নিয়েই বেশির ভাগ বাড়ি তৈরি। মাত্র হাতেগোনা কয়েকটি বাড়ি পাকা। গরুগুলো সব ঘুমাচ্ছে। মাইকেল আর নিটন তাদের নিঃশব্দ পদক্ষেপে এগিয়ে চলেছে। প্রখর দৃষ্টি তাদের।

এমন সময় একটা পাঁকা বাড়ির সামনে হঠাৎ করে মাইকেল থমকে দাঁড়াল। নিটন বলল, কি হল মামা! থামলে যে? মাইকেল বলে উঠল, বাবা! নিটন বলল, মানে। এরপর মাইকেল নিটনকে তার সামনের পা তুলে দেখাল যে সেই পাঁকা বাড়িটির দেয়ালে একটা ছবি ঝুলছে। সেখানে ছোট মাইকেল আর তাঁর বাবা টমাস হরিণ শিকার করছে। ইমোশনাল মাইকেল তাদের গরু শিকারের প্লান পাল্টে ফেলে, দেয়াল থেকে সেই ছবিটি পেড়ে মুখে করে তাদের বাড়িতে নিয়ে গেল সে রাতে।

বাঘেরা সবাই ছবিটি দেখছে অবাক দৃষ্টিতে। তাদের শিকার, তাদের বসতি, তাদের চামড়া আজ সবই মানুষের বিনোদনে পরিণত হয়েছে।মানুষকেও বাঘেরা এবার বিনোদন বানাবে তাদের জন্য। মানুষের রক্তের স্বাদ আলাদা। মাইকেলের কানে সেই ক্যামেরার শাটারের ক্লিক-ক্লিক শব্দ বাজছে। সে ভাবছে, এবারে ছবিতে হরিণের স্থানে থাকবে মানুষ।

(ধারাবাহিক)
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মেধা নয়, রাজনৈতিক পরিচয়ই কি আমাদের রাষ্ট্রে যোগ্যতার মাপকাঠি?

লিখেছেন raselabe, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:২৯

বিসিএসসহ বিভিন্ন সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক পরিচয় বা ভেরিফিকেশনের কারণে প্রার্থীদের বাদ পড়ার অভিযোগ আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিতে নতুন কোনো ঘটনা নয়। রাজনৈতিক দলগুলো ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে নিজেদের ছাত্রসংগঠনের কার্যক্রম চালু... ...বাকিটুকু পড়ুন

তাবলিগে গিয়ে যা শিখলাম না

লিখেছেন মুনতাসির, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫৯

আমি যখন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ি, তখন আমার কয়েকজন বন্ধু তাবলিগ করত। তাবলিগের প্রতি আমার কখনোই আগ্রহ ছিল না। তবে ওরা নিজেরা রান্না করত, আর আমি রান্না করতে পছন্দ করি। তাই একদিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত একজন নারীসহ দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে বোঝা গেল যে, পররাষ্ট্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ -৭ বিনীত, অবনত বৃক্ষ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৯

পথে যেতে চোখে পড়লো নুয়ে পড়া বৃক্ষের শাখাগুলো। মনে হলো স্রষ্টার কাছে সে যেন নিবেদিত প্রার্থনায় অবনত। সব অহংকার, সব আত্মগরিমা, কৃতিত্বের ভার সে ধীরে ধীরে ঝরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×