somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার সারা

০৮ ই নভেম্বর, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছবির এই পুতুলটার নাম সারা৷ তার মা রেখেছে এই নামটা৷ তবে এই নামটা অামি তার মাকে দিয়েছিলাম৷ অনেক দিন পর গতকাল তার সাথে কথা হয়৷ কিভাবে তার সাথে অাবার অামার যোগাযোগ হলো৷ সেটি একটু বলে নেই৷


অামি অসুস্থ৷ গত দুই মাস ধরে৷ প্রথমে ডান পায়ের পাতায় ব্যাথা অনুভব করলাম৷ এমন ব্যথা যে পুরোটা দিন শুয়ে৷ দাড়ানোর কোন ক্ষমতা ছিলনা৷ অামি তখন বরিশালে৷ ইনোভেশন ট্রেনিংয়ে৷ ওই প্রশিক্ষণে পার্টিসিপেন্ট হিসেবে চিকিৎসক ছিলেন দশজন৷ অামি দশজনের রুগী হয়ে গেলাম৷ তারা অামাকে ওষুধ খাওয়ালেন৷ অারেকজন পার্টিসিপেন্ট কলেজের অধ্যক্ষ অামাকে ধরে তার চিকিৎসক ভাইয়ের চেম্বারে নিয়ে গেলেন৷ তিনি শেবাচিমের একজন সহকারী অধ্যাপক৷ তিনি পা এক্সরে করালেন৷ কিছুই পাওয়া গেলনা৷ ওষুধ দিলেন৷ খেতে থাকলাম৷ বাম পায়ে ভর দিয়ে চলতাম৷ ঢাকা ফিরে অাসার কিছুদিন পর টের পাই ডান পা টা ভালোর পথে৷ কিন্তু বিপদ অামার পিছু ছাড়েনি৷ অামার কাছে কখনো একাও অাসেনি৷ কয়েকদিন অাগে হঠাৎ হাটতে হাটতে বাম পায়ের পাতায় টুন করে উঠলো৷ এরপর অার বাম পা ফেলতে পারতেছিলাম না৷ নেটের সহায়তা নিলাম৷ দেখলাম, রোগের যে নিশানা তাতে ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যা হতে পারে৷ যত পড়ছি৷ ভয়ে কুকড়ে যাচ্ছি৷ ভাবছি, অামি শেষ৷ পঙ্গু হয়ে থাকবো৷ কেমন কথা৷ রোগে পড়লে মানুষের মন বিক্ষিপ্ত থাকে৷ ভাবলাম কখন কি হয়ে যায়৷ এক কাজ করি৷ ফেসবুকের পুরাতন ম্যাসেজগুলো ডিলিট করি৷ ২০০৮ সাল থেকে ডিলিট শুরু করতে করতে হঠাৎ একজনের সাথে কনভারসেশন দেখে চমকে উঠলাম৷ অপর প্রান্তের মানুষটির নাম অালা সিহাব৷ অামি যাকে ডাকতাম সারা৷ অামার সারা৷

অনেক বছর হলো সারার সাথে যোগাযোগ নেই৷ অামার জন্য ফেসবুকে অ্যাকাউন্ট খুলেছিল সে৷ অামার ছবি দেখতো৷ লেখা দেখতো৷ কমেন্ট দেখতো৷ম্যাজিস্ট্রেট হিসাবে যেসব কাজ করতাম। ফেসবুকে দিতাম। সে আমার কর্মকান্ড দেখতো৷ প্রফাইলে ছবিও দিয়েছিল৷ এই পুতুলটাকে দেখলে বুঝা যায়- তার মা কেমন৷ পুতুলটা তার মায়ের চোখ পেয়েছে৷ ছবি দেয়ার পরই বিরম্বনা শুরু হয়৷ তার কলেজের ছাত্ররা হুমড়ি খেয়ে পড়ে৷ শেষ পর্যন্ত অামি তাকে বলেছিলাম, অ্যাকাউন্ট ডিঅ্যাকটিভ করো৷ সারা তাই করে৷ এরপরই তার সাথে অামার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়৷ তার সাথে মেইলে শেষ যোগাযোগের পর অামি ব্লগে লিখেছিলাম৷ আমার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু সারা, না দেখেও যার এই ছবিটি এঁকেছিলাম.. লেখাটা ফেসবুকের সেই যুগে ভাইরাল হয়ে যায়৷ বহু অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত হয়৷ সবাই সারার অাপডেট অামার কাছে জানতে চান৷ অামি ভাবলাম নক করি৷ লিখলাম, কেমন অাছো সারা? অামাকে অবাক করে দিয়ে রাজ্যের বিস্ময় তার৷ একগাঁদা রিপ্লাই৷ তাকে বললাম, পাঠকরা তোমার অাপডেট জানতে চায়৷ ভাইরাল হওয়া লেখাটির কথা অনেক অাগেই তাকে জানিয়ে ছিলাম৷ সে অনুবাদ করে দিতে বলেছিল৷ অামি সময় পাইনি৷ এবার সে জোর করে ধরেছে৷ অামি সংক্ষেপে ঘটনা অনুবাদ করে দিলাম৷ অামি বললাম, অামার কথা কি তোমার মনে অাছে৷ সে জবাব দিলনা৷ বললো, তোমার জন্য চমক অাছে৷ অামি বললাম, কি? তখনি এই পুতুলটার বেশ কিছু ছবি পাঠিয়ে দিলো৷ বললো, অামার মেয়ে৷ তার নাম কি জানো? অামি বললাম, সারা৷ সে বললো, অামি জানতাম, তুমি বলতে পারবে৷ অাসলেই ওর নাম অামি রেখেছি৷ ওর বাবা রাখতে চেয়েছিল৷ অামি বলেছি, পরেরগুলোর নাম তুমি রেখো৷ তুমি তো জানোই কি নাম রাখতে পারি৷ তার নাম রেখে দিলাম সারা৷ এর পর অারো একটা মেয়ে হয়েছে৷ তার নাম তার বাবা মারিয়াম রেখেছে৷ অামি বললাম, সারাকে অামাকে দিয়ে দাও৷ বললো- সত্যি নিয়ে যাও৷

অাসলেই চমক৷ এই পুতুলটাকে দেখার পর থেকে অামার রোগ কোথায় যেন উধাও হয়ে গেছে৷ পরের দিনই ডাক্তারের কাছে গিয়েছি৷ ডাক্তার বললেন, কিসের ইউরিক এসিড৷ কিছুই হয়নি৷ রেস্ট নিন৷
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই নভেম্বর, ২০১৭ দুপুর ১২:৫৫
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চুক্তিতে নেই, তবু প্রবাসীদের আশা: NCT দিলেই মিলবে ভিসা ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৪:০০


জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা ছিল, বিগত অনির্বাচিত সরকারের সকল প্রজেক্ট পর্যালোচনা করা হবে। দেশের স্বার্থবিরোধী হলে তা বাদ দেওয়া হবে। কিন্তু সরকার তো আগের দেখানো... ...বাকিটুকু পড়ুন

গুগল এ.আই. - প্রফেশনাল সার্টিফিকেট পেয়ে গেলাম

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:৩৫


বিগত কয়েক বছর ধরেই অনলাইনে কোর্সেরাতে টুকটাক কোর্স করছি, মাঝে মধ্যেই সার্টিফিকেট পাচ্ছি। তবে প্রফেশনাল সার্টিফিকেট কোর্স কখনো করা হয় নি। বলে রাখা ভালো কোর্সেরা ফ্রি নয়, এখানে আপনাকে পে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মদিনার মিষ্টান্ন, শ্রী ঘোষের দধি: সম্প্রীতির যে রেখা চোখে পড়ে না

লিখেছেন মুনতাসির, ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:০৮



২০২১ সালের ডিসেম্বরে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে প্রয়াত লেখক, গবেষক ও বাম রাজনীতিক বদরুদ্দীন উমরকে দেশের সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। ষাটের দশকে যিনি ‘সাম্প্রদায়িকতা’ নামে আস্ত একটা বই... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন বেগম রোকেয়া, একজন মাদাম কুরী এবং একজন আএলিটা

লিখেছেন নাজনীন১, ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০



মঙ্গল গ্রহের রাণী আএলিটা।



রাশিয়ান বিজ্ঞান কল্পকাহিনীর একটি চরিত্র। ১৯২৪ সালের সাদা কালো ম্যুভিটি বানানো হয়েছে,সায়েন্সফিকশন উপন্যাসটি লিখেছিলেন এলেক্সে নিকোলেভিস টলস্টয়, ১৯২৩।


বাংলাদেশে এক সময়ে বিজ্ঞানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিন্নাহ পর্ব-২

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৯



এবার জিন্নাহর পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা সম্পর্কিত বিতর্কিত বক্তব্যে আসা যাক। জিন্নাহ জন্মসূত্রে গুজরাটি ছিলেন এবং কেবল ইংরেজি ও গুজরাটি ভাষা জানতেন। তিনি উর্দু বলতে পারতেন না। সেক্যুলারিস্ট জিন্নাহ যেহেতু ব্যক্তিজীবনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×