এক ব্যক্তির বেশ কিছু বিড়াল ছিল। ছিল কুকুর। একদিন খেয়াল করলেন- কুকুর আর বিড়াল নিজেদের মধ্যে ভাব বিনিময় করছে। তিনি তাদের ভাষা বুঝতে চেষ্টা করতে লাগলেন। কিন্তু কুকুর আর বিড়ালের ভাষা মানুষের পক্ষে বুঝা তো আর সম্ভব নয়। একপর্যায়ে তিনি ঈশ্বরের শরণাপন্ন হলেন। প্রার্থনা করলেন। একটাই চাওয়া। তিনি যাতে কুকুর আর বিড়ালের ভাব বিনিময় বুঝতে পারেন। ঈশ্বর একপর্যায়ে সদয় হলেন। তিনি তাকে কুকুর আর বিড়ালের ভাষা বুঝার ক্ষমতা দিলেন। ওই ব্যক্তি এরপর কুকুর আর বিড়ালের কথপোকথন শুনতে পেতেন। বুঝতে পারতেন।
একদিন বুঝতে পারলেন, কুকুর বিড়াল ভবিষ্যতে কি হবে তা নিয়ে আগাম আলোচনা করে। তাদের আলোচনা থেকে ভবিষ্যতে কি হবে তা তিনি জানতে পারছেন। অনেক ঘটনা আগেভাগে শুনে বাস্তবে প্রমাণও পেলেন। তার মনে আর সন্দেহ রইলো না। এতে তিনি খুশীতে গদগদ। একদিন দেখলেন, বিড়ালগুলো ফিসফিস করে কি যেন আলোচনা করছে। তিনি কান পেতে রইলেন। শুনলেন, এক বিড়াল অন্য বিড়ালকে বলছে। কাল ব্যাপারটা কি হবে বুঝতে পারছ? অন্য বিড়াল শুনে বলছে, সেটাই তো চিন্তা করছি। তাহলে আমরা আমাদের পরিবারের ঘোড়াকে চিরদিনের জন্য হারাচ্ছি। কাল মালিক ঘোড়ায় চড়ে পাহাড়ে যাবেন। এসময় ঘোড়াটা পা পিছলে পড়ে মারা যাবে। মালিকও পড়ে যাবেন। তবে আহত হলেও মারা যাবেন না। লোকটি শুনে হাসলেন। কারণ তিনি আর পাহাড়ে যাবেনই না। প্রোগ্রাম বাতিল। বেঁচে গেলো ঘোড়া। তিনিও নিরাপদ।
এরপর থেকে নিজের কোন বিপদ টের পেলেই তিনি আগাম ব্যবস্থা নিতেন। ফলে দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যেতেন। তার আর কোন সম্পদ নষ্ট হতোনা। এদিকে তিনি কুকুর আর বিড়ালের আদর যত্ন বাড়িয়ে দিলেন। একদিন দেখলেন, কুকুর বিড়ালের মন খারাপ। তিনি অবাক হলেন। কেউ কোন কথা বলছেনা। একপর্যায়ে দেখলেন, একটা কুকুর কেঁদে ফেলছে। আরেকটা কুকুর তাকে সান্তনা দিচ্ছে। বলছে, সবাইকেই মরতে হবে। কেউই চিরদিন বেঁচে থাকেনা। কুকুরের ওই মালিক বুঝলেন, তারা তার মৃত্যু নিয়ে আলোচনা করছে। কান পেতে রইলেন। শুনলেন, পরদিন দুপুরে তার হার্ট অ্যাটাক হবে। তিনি মারা যাবেন। তিনি চিকিৎসার সুযোগও পাবেন না।
কুকুরের এই ভবিষ্যৎ শুনে তার হৃদকম্পন বেড়ে গেল। তিনি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করলেন। ঈশ্বর বললেন, মৃত্যুকে পরিবর্তন করা যায়না। তবে সৎ কাজ আর বিপদ আপদে পড়লে মানুষের হায়াৎ বাড়ে। এটা আগে থেকেই নির্ধারিত থাকে। কিন্তু আগাম বিপদের কথা জেনে তুমি তা এড়িয়ে গেছো। বিপদে মোকাবেলা করলেই তোমার হায়াৎ বৃদ্ধি পেতো। সুতরাং জীবনের সময় বাড়ানোর সকল অপশন শেষ। এখন মৃত্যুই অনিবার্য আর অনিবারণীয়।
মোরাল অব দ্য স্টোরি- সবকিছু বুঝতে যাওয়া ঠিক নয়। নিজের অধিক্ষেত্র ছাড়া অন্য বিষয়ে নাক গলালে তাতে নিজেরই ক্ষতি হয়।
কাজী সায়েমুজ্জামান
বিয়াম, ঢাকা।
০৮ নভেম্বর, ২০১৭
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই নভেম্বর, ২০১৭ রাত ৮:২১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



