
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনের সড়কে ২৮ মার্চ দুপুরে এই সিএনজি চালিত অটো রিকশার দেখা পেলাম৷ এই অটো রিকশার সামনে ড্রাইভারের ডানদিকে টবে একটা গাছ৷ ভেতরেও নানা রঙয়ের ফুল৷ সবচেয়ে যে বিষয়টি অামার দৃষ্টি অাকর্ষণ করেছে তা হলো এর ছাদে ফুলের বাগান করা হয়েছে৷ ছাদে একটি লোহার রেলিং স্থাপন করা হয়েছে৷ তার উপরে দেয়া হয়েছে পলিথিন৷ তার উপরে পাটের সবুজ কার্পেট৷ তৈরী হলো ছাদে এক চিলতে নিচু জায়গা৷ মাটি দিয়ে ভরাট করা হয়েছে তা৷ এরপর লাগানো হয়েছে কম উচ্চতার ঘাসফুল জাতীয় ফুলের গাছ৷ দারুন সব তাজা ফুল ফুটেছে তাতে৷ এই এক চিলতে বাগান নিয়ে রাজধানীতে ঘুরে বেড়াচ্ছে সিএনজি চালিত অটো রিকশাটি৷
সুবিধাটা কি? নতুন এ আইডিয়াটি বাস্তবায়সেনর মাধ্যেমে প্রাথমিক যে সুবিধা তা হলো- এই গরমে অটোরিকশার যাত্রীদেরকে কাঠফাটা রোদ হতে রক্ষা প্রদান৷দেখতেও নান্দনিক৷ পরিবেশের যতটুকু ক্ষতি করছে তা কিছুটা পূরণের প্রচেষ্টা৷ সিএনজি চালিত অটোরিকশার এই চালককে মনে মনে সম্মান না জানিয়ে পারলাম না৷ ফুল অার গাছের প্রতি তার ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন তিনি৷ এভাবেই অামরা যে কাজ করি, যেখানেই কাজ করিনা কেন, রুচির প্রকাশ ঘটাতে পারি৷ দেখবেন ছোট ছোট বিষয় থেকেই দারুন কিছু হবে৷

আমার ফেসবুকে এই অটোরিকশার ছবি পোস্ট করা হয়। পরবর্তীতে বন্ধুরা তার খোঁজ খবর দেন। সিএনজি চালিত এই অটোরিকশাটির ড্রাইভারের নাম শ্রী তপন চন্দ্র. ভৌমিক। তার ফোন- ০১৭৬৪১৯৬৪২৪। তিনি যাত্রীদের সুবিধার বিষয়টি চিন্তা করেছেন। স্বল্প সময়ের জন্য কিভাবে তাদের স্বাচ্ছন্দ্য দেয়া যায় তার পন্থা বের করেছেন। তার উদ্যোগের একটা তালিকা করেছেন আমার আরেক ফেসবুক বন্ধু। এগুলো নিম্নরূপ-
১) ভেতরে আয়না রেখেছেন যাতে যাত্রীরা নিজের অবয়ব দেখতে পারেন, চুল আঁচড়াতে পারেন।
(২) দুইটি দুই রঙের কলম ও সাদা কাগজ রেখেছেন।
(৩) ক্যালকুলেটর রেখেছেন।
(৪) ছোট একটি টেলিভিশন দেখার ব্যবস্থা রেখেছেন।
(৫) ঘড়ি রেখেছেন
(৬) ফোন চার্জ দেয়ার ব্যবস্থা রেখেছেন।
(৭) বাচ্চাদের জন্য রেখেন বেলুন।
(৮) বৈদ্যুতিক পাখার ব্যবস্থা রেখেছেন।
(৯) অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা রেখেছেন।
(১০) স্পিকার লাগিয়েছেন। গান শুনতে পারেন যাত্রীরা।
(১১) নখ কাটার জন্য নেইল কার্টার।
(১২) যাত্রী ও চালকের আসনের উপরে আছে এলইডি লাইটের ব্যবস্থা।
(১৩) বিশুদ্ধ পানির বোতল ও মগ।
(১৪)টিস্যু পেপারের ব্যবস্থাও রেখেছেন।
অামি অাইডিয়া নিয়ে কাজ করি৷ তাই অাইডিয়া খুঁজে বেড়াই৷ সাধারণ মানুষের আইডিয়া দেখলে অবাক হয়ে যাই। সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য উদ্ভাবনের যে প্রশিক্ষণ পরিচালনা করি সেখানে দেখাই৷ভালো কিছু দেখলেই ছবি তুলি। একারণে অটোরিকশাটা দেখেই গাড়ি থেকে নেমে গিয়ে ছবি তুলেছি৷ অাইডিয়া দেখলেও অনেকের মাথায় ভালো কোন উদ্ভাবনী অাইডিয়া অাসতে পারে৷ সেই কারণেই পরিবেশ অধিদপ্তরে যারা অাছেন, তারা এই অটো রিকশা চালককে খুঁজে বের করে পুরস্কৃত করতে পারেন৷

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

