যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের নামে একটা পত্র ইন্টারনেটে পাওয়া যায়। এটা নাকি তিনি তাঁর পুত্রের স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কাছে লিখেছিলেন। চিঠিতে একটা কথা মনে দাগ কাটে। 'আমার পুত্রকে শিখাবেন-কিভাবে পরাজয়কে মেনে নিতে হয় এবং কিভাবে বিজয়োল্লাস উপভোগ করতে হয়।' বিজয় উদযাপন করা, করতে জানাটা বিরাট একটা ব্যাপার। তেমনি পরাজয়। এর মাধ্যমেই পরিপক্কতা আর ভদ্রতাবোধ ফুটে উঠে। সেই বিজয়টা যখন জাতিগত হয়, তখন তা আরো গুরুত্বপূর্ণ।
গতকালের বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব ১৯ দলের ক্রিকেট বিশ্বকাপ জয়ের তাৎক্ষণিক উদযাপনটা একেবারেই পছন্দ হয়নি। এজন্য আমি ক্রিকেটারদের দোষ দেইনা। দোষ দেবো ব্যবস্থাপকদের। যারা টিমের দায়িত্বে ছিলেন। এভাবে বিজয়ের শেষ রানের সাথে সাথে পুরো টিম মাঠে ঢুকে বিপক্ষের দলের খেলোয়ারদের সাথে ধাক্কাধাক্কি করে বিজয় উদযাপন করাটা দৃষ্টিকটু লেগেছে। যেটা করা যেতো- মাঠে ঢুকে তারা বিপক্ষের খেলোয়ারদের সাথে হ্যান্ডশেক করতে পারতেন। যে দুজন খোলোয়াড় মাঠে ছিলেন, তারাও সুন্দর করে প্রতিযোগী দলের খেলোয়ারদের সাথে হাত মেলাতে পারতেন। পরে তারা মাঠ মাঠ ছাড়লে বিজয় উদযাপন করা যেতো। বুঝতে হবে, হেরে গেলে প্রতিযোগী দলের মানসিক অবস্থা বিপর্যস্ত থাকে। তাদেরকে তখন সমবেদনা জানানো দরকার। এটা মিনিমাম ভদ্রতা। এই মিনিমাম ভদ্রতাটুকু কাল মাঠে দেখা যায়নি। আমরা বিশ্বের বড় বড় খেলোয়ারদের দেখেছি। বিজয়ের পর তারা কত ঠান্ডা মাথায় থাকেন। প্রতিযোগী খেলোয়ারদের সাথে এমন আচরণ করেন, যাতে মনে হয় খেলায় প্রতিযোগীরাই জিতেছে। ক্রিকেটকে এজন্যই ভদ্রলোকের খেলা বলা হয়।
জানি গতকাল পুরো বাংলাদেশের সাথে সব খেলোয়ারও উচ্ছ্বসিত ছিলেন। এছাড়া খেলার সময়েও ভারতীয় দলের কিছু খেলোয়ার সৌজন্যতা দেখাননি। অনেকে অভদ্র আচরণ করেছেন। কিন্তু বিজয় অর্জিত হলে বিজয়ী দলের দায়িত্ব বেড়ে যায়। আমার সাথে হয়ত অনেকে একমত নাও হতে পারেন। আমার মনে হয়, সেই দায়িত্ব কাল বাংলাদেশ দল সম্পূর্ণ পালন করতে পারেনি। এর আগেও দেখেছি, খেলায় হেরে গিয়ে বাংলাদেশ দল কাঁদছে। খেলায় হারজিত থাকবেই। খেলোয়ারদেরকে প্রফেশনাল হতে হবে। তাদের লক্ষ্য থাকবে বহুদূরে যাওয়ার। পারজয়কে মেনে নিতে এবং বিজয় উদযাপন করতেও জানতে হয়। আমরা এবিষয়টায় বড়ই কাঁচা। বড়ই ইমোশনাল জাতি।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে ভারতীয় ক্রিকেট কর্তৃপক্ষ না কী আইসিসির কাছে বিচারও দিয়েছে। আইসিসি বিষয়টি তদন্তও করবে। আমরা আমাদের ক্রিকেটারদের সাথে আছি। তদন্ত করতে হলে পুরো খেলায় খেলোয়ার সবার আচরণ তদন্ত করতে হবে। তবে ভবিষ্যতে অনেক জয় পরাজয় আসবে। আমাদের খেলোয়ার যারা মাঠে বা মাঠের বাইরে থাকবেন, তারা যাতে বিজয় বা পরাজয় ঠিকমতো উদযাপন করতে পারেন, তা নিয়ে যাতে কোন প্রশ্ন না ওঠে, সেবিষয়ে টিম ম্যানেজমেন্ট খেয়াল রাখবেন বলে আশা করছি।
বাইরের বিশ্বকে দেখাতে চাই, আমরা পরাজেয় মেনে নিতে জানি, বিজয় উদযাপন করতে জানি।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ১০:২৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


