প্রচন্ড বৃষ্টি হচ্ছে। মাথায় ছাতা নিয়ে মায়া নামে একটি মেয়ে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে আছে। রিক্সা ও গাড়িগোড়া কিছুই পাচ্ছে না। একটু পর কিছু দূর মাহাদী নামক একটি ছেলে রাস্তার পাশে দাঁড়ালো। মাহাদীর মাথায় কিছুই নেই, এই প্রচন্ড বৃষ্টির মাঝে সে ভিজতে ছিলো, দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে।
.
.
মায়া তা দেখে ছাতা নিয়ে একটু এগিয়ে গেলো। তারপর মাহাদীর উপরের ছাতা দিয়ে দাঁড়ালো। মাহাদী ওপাশ থেকে মাথা ঘুড়িয়ে দেকলো একটি মেয়ে তার মাথার উপর ছাতা দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মাহাদী অভাক অবস্থায় যতটা তাকাছিল তার চাইতে সে চোখ ধাঁধানো কিছু দেকছে সামনে এমন ভাবে তাকিয়ে আছে। মাহাদী এমন পরীর মত মেয়ে তার পাশে এরকম কখনো আগে দেখেছে কিনা মনে হয় না। অপলক ভাবে যে তাকিয়েই আছে মাহাদী। আর মনে মনে বলতে লাগলো এমন একটা মেয়ে যদি তার জীবনের সঙ্গী হত!!!
.
.
কিছুক্ষন পর মায়া একটা রিক্সার ড্রাইভার কে ডাক দিল। মাহাদী তার চোখের পোলক কাটতে কাটতেই মায়া রিক্সায় উঠে বসলো। মায়া দেকলো ছেলেটা এখনো নিশ্চুপ ভাবে দাঁড়িয়েই আছে। মায়া তখন মাহাদীকে বলে উঠলো কোথায় যাবেন আপনি? মাহাদী নিস্তব্ধতা পালন করছে, কি বলবে সে বুঝে উঠতে পারছে না। মায়া অনেকটা ফ্রেন্ডলি হিসেবে বলে উঠলো- এতো বৃষ্টিতে ভেজা আপনার পক্ষে ঠিক হবে না, আপনি এই রিক্সায় উঠে পড়ুন।
.
.
আকাশে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে, ঝড়ো বৃষ্টির মাঝে অনেক বাতাস হচ্ছে যার কারনে মনে হচ্ছিল রিক্সা এগুচ্ছে না। মাহাদী যেন মায়াকে দেখে কাল্পনিক জগতে ভাসছিল। মায়া জিজ্ঞেস করলো আপনার নাম কি? কোথায় যাবেন?। মাহাদী একদম অবুজের মত হয়ে গেছে কি বলবে ভালো করে কিছু বুঝতেই পারছে না সে। মাহাদী কিভাবে যেন মায়াকে মনের মাঝে ছবি আঁকতেই শুরু করলো।
.
.
একটু পরে মাহাদী উত্তর দিল- আমার নাম মাহাদী, আমি সামনে যাবো। পরে মাহাদী জিজ্ঞেস করলো আপনার নাম কি?
মেয়েটা বলল আমার নাম মায়া। মাহাদী একটু নিচু সুরে বললো আপনার নামের সাথে আপনার অনেক মিল আছে।
মায়া জিজ্ঞেস করলো কিছু বলছেন?
মাহাদী বললো- না তেমন কিছু, বলছিলাম খুব সুন্দর নাম আপনার।
মায়া শুনে হাসতেছিল।
মাহাদী তার হাসি মাখা মুখটির দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে শুধু ভাবছিল, যেমন তার রূপ তার চাইতেও সুন্দর তার হাসি।
.
.
রিক্সায় চলাকালীন মায়া ও মাহাদীর কিছুটা কথা হয় তারা একে ওপরের পরিচিত হয়। কিছুটা দুর যাবার পর মায়া রিক্সা থামিয়ে নেমে যায়। মাহাদী বললো কি ব্যাপার নেমে গেলেন যে আর যাবেন না। মায়া হাসতে হাসতে বললো আমি আমার গন্তব্যে চলে এসেছি এই সামনেই আমার বাসায়। মাহাদী কিছু বলার আগেই মায়া তার ব্যাগ থেকে টাকা বের করে ভাড়া দিয়ে দিল। মায়া আজ আসি বলে ঘুরে দাঁড়ালো হঠাৎ ফিরে তাকিয়ে বললো-
ও আপনাকে তো একটা কথাই বলা হয়নি। কাল আমার বিয়ে। আপনি আমার অনেক ভাল ফ্রেন্ড হিসেবে কাল আমার বিয়েতে অবশ্যই আসবেন।
.
.
মাহাদী বিয়ে কথা শুনে চমকে উঠলো, ক্ষনের মধ্যেই মুখ শুকিয়ে গেলো। মাহাদী স্বপ্ন গুলো যেন চূরমার হয়ে যেতে শুরু করলো, মায়াকে নিয়ে আঁকা ছবি যেন সেই প্রচন্ড ঝড়ের বৃষ্টির পানি সব রঙ একাকার করে দিল।
.
.
আপনার বিয়ে, কই এতোক্ষন তো বললেন না। যাক অনেক ভাল খবর, আমি চেস্টা করবো উপস্থিত থাকার।
মায়া বিদায় নিয়ে বাসার দিকে রওনা দিল। মাহাদী তার দিকে তাকিয়ে আছে, মায়াকে থামানোর জন্য ভাবছে, তাকে জীবনের এই কিছুক্ষনের অনুভুতি গুলো বলতে চাচ্ছে, মাহাদী অপেক্ষা করছে মায়া একবার ফিরে থাকায় কিনা।
.
.
পরিশেষে মাহাদী তার ক্ষনিকের মধ্যে তার জীবন সাজানো ও স্বপ্নের কথা বলতে পারলো না, মায়াওও আর ফিরে তাকালো না।
.
.
রিক্সা ড্রাইভার বললো- স্যার আপনি এখন কোথায় যাবেন। মাহাদীর মুখ দিয়ে যেন আর কথা বের হচ্ছে না। কোন রকম বলে উঠলো পিছনে রিক্সা ঘুরাও। মাহাদী চোখ দিয়ে টল মল করে পানি পরছে, বুকে যেন খুব চিন চিনে ব্যাথা শুরু হয়েছে।
.
.
মাহাদীর জীবনে এই প্রথম কারো প্রতি এতো মায়া পরে জীবনটাকে সুখি মনে করে ফুলের বাগানের মত সাজিয়ে ছিলো সামান্য কিছু সময়ের মধ্যে, আর তার শেষ যে এক নিমিষেই হবে কখনো ভাবতে পারেনি।
.
.
মাহাদী সামান্য টুকু সময়ের মাঝে যেন নিজেকেই হারিয়ে ফেলেছে। হারিয়ে ফেলেছে তার নিজ গন্তব্য, বলতে পারে না সে কোথায় যাবে। তখন থেকে মাহাদী বৃষ্টির মাঝে ভিজে সে রাস্তার রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকে। বাস্তবে হয়তো সে আসবে না তাই মাহাদী সেখানে প্রায়ই দাঁড়িয়ে থাকে, কল্পনা করে মায়া তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে............
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ১:৪২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




