somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একখানা "জয় বাংলা" শ্লোগান, অতর্কিত হামলা এবং বিধাতার বঙ্গদেশ ভ্রমন অভিজ্ঞতা

২৯ শে জানুয়ারি, ২০১৩ দুপুর ১২:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিধাতা একবার ভাবিলেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সক্ষমতা যাচাই করিতে মর্তলোক থেকে ঘুরিয়া আসিবেন।দেবদুতরা একবাক্যে বঙ্গদেশের নাম প্রস্তাব করিলেন।

বঙ্গদেশে নামিয়া তিনি ভাবিলেন...যাই...সচিবালয় খানা ঘুরে আসি...
সচিয়াবালয়ে ঢোকার প্রবেশ পথে দ্বাররক্ষীর প্রশ্ন: কি চাই..?
বিধাতার জবাব: (গর্বভরে) আমি বিধাতা...তোমাদের রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় শাসন যন্ত্রখানা ঘুরিয়া দেখিতে চাই....
দ্বাররক্ষী : ভাল কথা..তো ভেতরে ঢোকার পাস আছে?
বিধাতা : হে মুর্খ...আমি বিধাতা..সর্বত্র আমার গতি...তুই আমার পথ ছাড়...
দ্বাররক্ষী : হা হা....এ দেশে দেখি শালা সবাই বিধাতা...তো বাবা বিধাতা..তোমার যখন সর্বত্রই গতি...তুমি তবে আমারে না যাচিয়া ভেতরে যাও গিয়া...কে তোমাকে নিষেধ করিয়াছে।

বিধাতা সচিবালয়ের দেয়াল ভেদিয়া অনুপ্রবেশে উদ্যত হওয়ামাত্র পুলিশ তারে আটকাইল...কহিল "অবৈধ অনুপ্রবেশ করিয়া আইন নিজের হাতে তুলে নিবেন না।"

ব্যর্থ মনোরথে তিনি ঈশ্বরসুলভ আরও কিছু প্রচেষ্টা চালাইলেন....ফলাফল...অবশ্যম্ভাবী ব্যর্থতা..এবং ক্লান্তিতে দেয়ালে গা এলাইয়া দিলেন।

এক পুলিশ সদস্য দুরে বসিয়া বিধাতার কার্যকলাপ অবলোকন করিতেছিল... কাছে আসিয়া বিধাতাকে বলিলেন "জনগণের বন্ধু হিসেবে আপনাকে সাহায্য করতে পারি..নিবেন?"

বিধাতা কহিলেন " সচিবালয়ে অনুপ্রবেশ প্রসংগে আপনার সহযোগীতা কাম্য..."
পুলিশ সদস্য কহিলেন: "মাত্র ৫০০ টাকা সন্মানীর বিনিময়ে আপনাকে সচিবালয়ে ঢোকার উপায় কহিয়া দিতে পারি।"

বিধাতা টাকা আছে কিনা খোজা শুরু করিয়া দেখেন.. তাহার পরিধেয় বলিতে যাহা আছে, তাহাতে কোন পকেট নাই....এবং তাহাতে টাকা থাকার প্রশ্নও আসে না...

বিধাতা করূণ সুরে কহিলেন: আমাকে উপায় কহিয়া দিন..আমি পরে আপনাকে পি পি এম পদকের ব্যবস্থা করিয়া দিব।
পুলিশ সদস্য কহিলেন..আমরা নিরূপায়..নগদ ছাড়া বাকীতে বুদ্ধি দিই না...

মনোকষ্টে হাটিতে হাটিতে বিধাতা উপনীত হইলেন বায়তুল মোকাররমের সামনে...দেখিলেন সেখানে নামাজ ছাড়া জুতা ছোড়াছুড়ি উৎসব চলিতেছে।উপস্থিতির দরূণ দু চার খানা তাহার মাথায়ও পড়লো বৈকি।দুই চার জোড়া হাতে নিয়া দেখিলেন...সেগুলোকে নতুন বলে মনে হয়।টাকা উপার্জনের একটা বুদ্ধি চলিয়া আসিল তাহার মাথায়..এবং বুঝিলেন বঙ্গদেশে আসিয়া তাহার বুদ্ধি খুলিয়াছে।দেদারছে তিন জোড়া জুতা বেচিয়া একখানা KFC'র বার্গার কিনিয়া আর অতিরিক্ত ৫০০ টাকা নিয়া সেই পুলিশ সদস্যর কাছে এলেন।

টাকা নেয়ার পর পুলিশ সদস্য বলিলেন: এবার গেটের সামনে গিয়া বলুন "জয় বাংলা"..আপনার অনুপ্রবেশ সুনিশ্চিত।

বিধাতা সন্দেহভরা মনে সচিয়াবালয়ে প্রবেশ পথে গিয়া নিচু স্বরে বলিলেন: "জয় বাংলা"

সাথে সাথে পূর্বের দ্বাররক্ষী আসিয়া কহিল: বস..আগে বলবেন না..আপনি "জয় বাংলা"..কি সব বিধাতা টিধাতার কথা বলতেছিলেন...আগে বলেন কি খাবেন...গরম না ঠান্ডা..বস..নেতাকে বলিয়া আমার প্রমোশনের ব্যবস্থা করা যান কিনা দেখেন না"..ইত্যাদি ইত্যাদি...

কোক পান করিয়া প্রসন্নতার হাসি দিয়ে বিধাতা কহিলেন: "হবে...এবার হবে"..

বিধাতা সচিবালয় ঘুরিয়া ঘুরিয়া দেখিলেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এর কর্মীদের ঘুম (হয়ত কঠোর পরিশ্রম জনিত কারণে) এবং হাত চালানোর (টেবিলের তলে) পারংগমতা দেখিয়া মুগ্ধ হইলেন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করিলেন।

দ্বাররক্ষীর পুন:শ্চ সালাম নিতে নিতে সচিবালয় থেকে বের হবার সময় বিধাতা হঠাৎ দেখিলেন "জয় বাংলা" বলিতে একদল লোক তার দিকে আসিতেছে এবং দেখিলেন পুলিশে সমান উৎসাহে তালি বাজাইতেছে।ঝটিকা মিছিলটি আসিয়া কিছু গাড়ি পোড়াইল, কিছু পুলিশ সদস্যদের পিটাইল, আতশবাজী ফুটালো এবং তার মাথায় গোল আলু আকাইয়া দিয়া ভোজবাজীর মত পালাইয়া গেল।বিধাতা ভাবিলেন..আর নয়..তৎক্ষণাৎ বঙ্গদেশ ত্যাগ করিয়া বিধাতা স্বর্গলোকের হাসপাতালে চলিলেন।

কপালে ব্যান্ডেজ নিয়ে সকাল বেলা বঙ্গ দেশের কাগজ পড়িতে গিয়া দেখেন-

অর্থমন্ত্রী বলেছেন: "এরা (জামাত) জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে হামলা করেছে, পুলিশ তাই কিছু বুঝতে পারেনি।"
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন:"সচিবালয়ের প্রবেশপথে তারা যে তাণ্ডব চালিয়েছে, তা তাদের হিংসাত্মক মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ।এ ক্ষেত্রে গোয়েন্দাদের কোনো ব্যর্থতা নেই।"
পুলিশের মহাপরিদর্শক বলেছেন:"পুলিশ পেশাদারির সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে।"

হঠাৎ বিধাতার মাথার কাছে ব্যাথায় চিনচিন করিয়া উঠিল...কপালে উপর আলু টা বেশ বড় বলে মনে হল তার।

কাগজটা পাশে মুড়িয়া রেখে তিনি ভাবিলেন- "জয় বাংলা" স্লোগানটার থেকে বেশী শক্তিশালী আবার ক্ষতিকর শ্লোগান বঙ্গদেশে বোধ করি আর নাই।এই শ্লোগান দিয়া বঙ্গদেশ তার জায়গা করিয়া নিয়াছে, আবার এই শ্লোগান দিয়া বঙ্গমাতার শত্রু রা এর বিনাশী যজ্ঞ চালাইয়া যাইতেছে..কি অদ্ভুত!!"

মনের অজান্তেই বিড় বিড় করেই বিধাতা বলিলেন: "জয় বাংলা"...
সেটা কল্যাণ না বিনাশ কামনায় তা বোঝা গেল না...
৮টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আওয়ামী লীগ ও আমরা কেনো ক্ষমা চাইবো‼️আমরা’তো বিচার করে শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ৩০ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:১৫



লাল বদরদের আমরা কেন কোনোদিন বিশ্বাস করবো না, পছন্দ করতে পারবো না, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রচন্ড ঘৃণা করবো, তার একটা ভালো উদাহরণ এই স্ক্রীনশটটা।

সব মানুষ একই রাজনৈতিক আদর্শে... ...বাকিটুকু পড়ুন

তুরস্ক-কেন্দ্রিক ভূরাজনৈতিক প্রভাব ও কাদের মোল্লাদের প্রেতাত্মার পুনরুত্থান

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ৩০ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:৩১


বিএনপির মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, "বাংলাদেশ থেকে জামাতকে রাজনৈতিকভাবে নির্মূল করতে কাজ করতে হবে"। "নির্মূল" শব্দটি সম্পূর্ণভাবে দূর করার অর্থে ব্যবহৃত হয়। যেমন, কলেরা বা ম্যালেরিয়া নির্মূল করা, কিংবা... ...বাকিটুকু পড়ুন

পানির ক্যানভাসে ডুবন্ত শহর

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ৩০ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:২৯



প্রতিবেদক: আশরাফুল ইসলাম
স্থান: প্রবর্তক মোড়, চট্টগ্রাম
সময়: সকাল ১০টা ৩০ মিনিট


ক্যামেরার লাল বাতিটা জ্বলছে। লেন্সের ওপর বৃষ্টির ছোট ছোট কণাগুলো অবাধ্য হয়ে জমছে। আমি মাইক্রোফোনটা শক্ত করে ধরে লেন্সের দিকে তাকালাম।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিপদ

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ৩০ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৪:০৫


বিপদ নাকি একা আসে না—দলবল নিয়ে চারদিক থেকে ঘিরে ধরে। প্রবাদটির বাস্তব এবং কদর্যরূপ যেন এখন মৃণালের জীবনেই ফুটে উঠেছে। মাত্র মাসখানেক আগে বাবাহারা হলো। পিতৃশোক কাটার আগেই আবার নতুন... ...বাকিটুকু পড়ুন

নগর দর্পন

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ৩০ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:৫১



১. মিরপুর ডিওএইচএস থেকে কুড়িল বিশ্বরোড যাওয়ার পথে ফ্লাইওভারের ওপর এক অনাকাঙ্ক্ষিত দৃশ্য। এক ভদ্রলোকের প্রায় ৪৮ লাখ টাকার ঝকঝকে সেডান হাইব্রিড গাড়ির পেছনে এক বাইক রাইডার ধাক্কা দিয়ে স্ক্র্যাচ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×