
নাস্তিকতা- এই বিষয়টা আমার কাছে দুনিয়ার সবচেয়ে লেইম জিনিস মনেহয়। প্রকৃতপক্ষে বিশ্বে নাস্তিকতা বলতে কিছু নাই। পৃথিবীর প্রত্যেকটা মানুষ সময় ও সুযোগ বুঝে আস্তিক। নিজেকে যখন সহায়হীন মনে হয় এক্কেবারে একলা থাকার মূহুর্তগুলো সবাই-ই নিজের অজান্তে বলে উঠে 'গড, সেইভ মি!'
আমি অনেক তথাকথিত নাস্তিক বন্ধুকে দেখেছি যার কাছ থেকে ঈদের দিনে সবার আগে "ঈদ মোবারক'' লেখা এসএমএস পাই । পূজারদিনে মাথায় টিকি পরা ছবি ফেসবুকে পাই। তাও তারা নিজেকে নাস্তিক বলে দাবী করে।
তারা নিজেদেরকে 'মানবতা ধর্মী' বলে পরিচয় দিতে ভালোবাসে তাই কাউকেই কষ্ট(!!!) দিতে চায় না । কারো মনে দুঃখ দিবার চায় না। এই জন্যে সারাবছর ফেসবুকে ধর্মের কুসংস্কার কিংবা তাদের নিজ হস্তে রচিত নবীজি (সঃ) এর জীবনী নিয়ে মাতামাতি করে নিজেকে 'ইসলামীক চটিবাজ' হিসেবে দাখিল করে কিন্তু দিনশেষে সকল ধর্মীয় অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে নিজেকে 'মানবতা'বাদী হিসেবে উপস্থিত করে!
প্রসঙ্গ- ০১: নাস্তিকতা কি? প্রকৃতপক্ষে নাস্তিক কারা?
নাস্তিক বলতে প্রকৃতপক্ষে তাদেরকেই বুঝায় যাদের স্রষ্টার উপর বিশ্বাস নেই। যারা 'স্রষ্টার অস্তিত্ব আছে' এমন বাক্যকে অস্বীকার করে।
কিন্তু আমার জীবনে এমন একজনও ভালো নাস্তিককে পেলাম না যারা প্রকৃতই নাস্তিক। কারণ যারা নিজেদেরকে নাস্তিক বলে দাবী করেন তারা নিজেরাও অনেক কন্ট্রোভার্সিয়াল। তারা প্রত্যেকেই নিজের স্বার্থ উদ্ধারে একেকসময় একেক বেশ ধারণ করে।
প্রসঙ্গ- ০২: বাংলাদেশের নাস্তিক ও তাদের হাবভাব।
আমার কাছে মনেহয় নাস্তিকতা অনেক বড় জিনিস। কোন প্রকার ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস না রেখে নিজেকে স্বয়ংসম্পূর্ন ভাবা কম সাহসের কথা না কিন্তু! কিন্তু আমাদের দেশে যারা নিজেদেরকে নাস্তিক বলে দাবী করে তাদের বেশীরভাগই প্রকৃতপক্ষে ইসলাম বিদ্বেষী। ধর্ম নিয়ে তাদের জ্ঞ্যানের পরিধি যথেষ্ট কম এবং ধর্ম না জেনে না বুঝে শুধু ইসলামকে নিয়ে দু'একটা কুটুক্তি করতে পারলেই তারা নিজেদেরকে 'বড় নাস্তিক' বলে মনেকরা শুরু করে।
তারা প্রত্যেকেই নিজেদেরকে মানবতা ধর্মী বলে পরিচয় দিয়ে থাকে। অথচ তারা মুসলমানদেরকে মানুষ বলেই গন্য করেনা। একজন অন্যধর্মের [Non-Muslim] কিংবা অবিশ্বাসী কেউ কোত্থাও মারা পড়লে তাদের সরব উপস্থিতি দেখা যায় এবং সেটা সর্বোচ্চ টাইমলাইনের দেয়াল পর্যন্তই সীমাবন্ধ থাকে। 'Save Gaza' লিখে হ্যাশট্যাগের তীব্র সমালোচনা শুনা যায় তাদের মুখে । আসাম,ইরাক কিংবা মায়ানমারে হাজার হাজার মানুষ [যাদের ধর্ম ইসলাম] মারা পড়লেও তাদের 'মানবতা'র দিলে একটু খানি টুকা পড়েনা! তাদের 'নাস্তিকতা'বাদের অধ্যায়ে 'কেউ ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী হলে-তারাও মানুষ' চ্যাপ্টারটি নেই। যেনো পৃথিবীর সকল মানবতা শুধু মাত্র 'মুসলমান' ব্যাতীত অন্য সকলের জন্য। তাদের ফেসবুক স্ট্যাটাস ফলো করলে দেখা যায় ইসলাম কিংবা অন্যকোন ধর্মের পথপ্রদর্শকদের [বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে ইসলাম ধর্মই বাংলাদেশে সাফারার] নিয়ে চটি লেখা তাদের নাস্তিকতাবাদের একটি অংশ বানিয়ে ফেলেছে।
তাদের মুখের জাতীয় বাণী- 'মোল্লার দৌড় মসজিদ পর্যন্ত' বাক্যটাকে আমি তাদের জন্যে এইভাবে বলে থাকি ''বাংলাদেশের নাস্তিকরা হাটতে পারেনা,দৌড়াতেও পারেনা...ওদের দৌড় অন্তঃর্জালের দেয়াল পর্যন্তই'' ।
প্রসঙ্গ- ০৩: তসলিমা নাসরিন ও আসিফ মহিউদ্দিন
তসলিমা নাসরিন আমার প্রিয় নারী লেখক। যতই উনার বই পড়েছি ততই আমার মুগ্ধতা বেড়েছে ওনার প্রতি। অবিশ্বাস্য শব্দচয়ন তার। লেখার সাবলীলতা ও সহজ সরল উপমা যে কাউকে মুগ্ধ করবে। যদি কেউ তার বই পড়ে থাকে।
কিন্তু তাকেও আমার কাছে সবসময় 'নিচু মনের' মনে হয়েছে। কারণ সে নিজেকে নাস্তিক দাবী করলেও প্রকৃতপক্ষে তার লিখা কিংবা প্রবন্ধে নাস্তিকতার কোন ছাপ নেই। যেটুকু আছে সেইটুকু পুরোটাই ইসলাম বিদ্বেষী মনোভাব। কেনো সে এইটুকু করে? - কারণ তার স্বদেশ তাকে তাড়িয়ে দিয়েছে। ভারত তার বাচার অবলম্বন। সেইখানে গিয়ে হিন্দু ধর্মের বিরোধীতা করে লিখলে যে তার থাকার সংকুলন হবেনা তা সে ভালোমতই জানে। এইকারণে-খুব সচেতনভাবে সে তার 'ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিকতা'কে ফেসবুক/টুইটার এর মাধ্যেমে জোরে-শোড়ে চালিয়ে যাচ্ছে আর নিজেকে টিকিয়ে রাখছে উগ্রপন্থী ইসলাম বিরোধীদের দেশে! আমি ফেসবুকে তসলিমা নাসরিনকে অনেকদিন ইনবক্স করেছি। জানিয়েছি ওনার লিখা পড়ে আমি কতোটা মুগ্ধ হই! অনুরোধ করেছি তার নিজস্ব 'বিশ্বাস' এর উপর যেনো নিজের সততা না হারায়। সে যেনো প্রকৃতই নাস্তিক হতে পারে -ইসলাম বিদ্বেষী না! ইনবক্সগুলা 'সিন' হয়ে আছে আজও। রিপ্লে মিলেনি!
আসিফ মহিউদ্দিনও একই ক্যাটাগরিতে পরে। আমি অনেককালই তার লিখা পড়েছি [ফেসবুকে] । তার প্রত্যেকটা লিখাতেই ইসলাম বিদ্বেষী একটা মনোভাব এবং সেটা সরাসরি মানুষের মনে আঘাত করার মতো। মাঝে মধ্যে তাকে জার্মানীর বিভিন্ন নাস্তিকবাদী কনফারেন্সে যেতে দেখি। নিজেকে সেইসময় তিনি জার্মান পরিচয় দিতেই যেনো ভালোবাসেন! বুকের উপর খুব বড় করে লিখা থাকে 'জার্মানী' আর ছোট করে 'বাংলাদেশ'।
এখন নিশ্চয় প্রশ্ন করবেন-একজন নাস্তিক নিজেকে বাংলাদেশী হিসেবে রিপ্রেজেন্ট করলে কি খুব কোন লাভ হবে বাংলাদেশের?
-আমি বলবো 'না' হবেনা! বরং আমি এই বুঝাতে চাচ্ছি যে - নিজেকে প্রতিষ্টা করার জন্য এইসব মুখে ফেনা তোলা এইসব ভন্ড দেশপ্রেমিকেরা নিজের জন্যে নিজের দেশটাকেও ভুলে যেতে পারে!
প্রসঙ্গ- ০৪: তথাকথিত নাস্তিক ভাইদের প্রতি কিছু অনুরোধ-
যদি 'নিজেকে অবিশ্বাসী' দাবী করা কোন নাস্তিক ভাই/বোন আমার ফ্রেন্ডলিস্টে থেকে থাকেন তবে আপনাদের প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে - প্লিজ, যদি নাস্তিক হোন তবে প্রকৃতই হোন।শুধু ইসলামের বিপক্ষে লিখলেই তো আর নাস্তিক হওয়া যায়না! কোটি কোটি মানুষের বিশ্বাসের উপর আঘাত দেয়ার অধিকার আপনাদের কে দিয়েছে? যদি কাউকে পরোয়া না করে নিজেই নিয়ে থাকেন তবে বলবো- 'আপনাদের নাস্তিকতার চ্যাপ্টারে কি মানুষের মনে আঘাত দেয়া অনুচিত'-এই অধ্যায়টি নেই?
আপনারা ধর্মের কুসংস্কার পালটিয়ে সমাজ পরিবর্তন করতে চান। ভালো কথা।
আরে ভাই, পৃথিবীতে কি সমাজ পরিবর্তনের উপায় শুধুই 'ধর্মের ভুল ধরা'? ধর্মের সমালোচনা করা? ধর্মের নামে চটি লিখে মানুষের মনে আঘাত দেয়া??
যদি উত্তর না হয় তবে বলবো - এমন কোন কিছু করুন যা আপনাকে মানুষের কাছে সেই লেভেলের একটা পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারবে। মানুষের মনে আপনার স্থান হবে। তবে, প্রকৃতই আপনি 'মানব ধর্মী' হয়ে উঠবেন!
কখনো কি ভেবেছেন-ধর্মগুরু'রা আসলে কি করেছিলো যে হাজার হাজার বছর ধরে মানুষ তাদের মনে রাখছে? তাদের দিক নির্দেশনা মেনে চলছে?
ভেবেছেন এইভাবে কখনো?
প্রসঙ্গ- ০৫: আমি ক্যানো ধর্মে বিশ্বাসী?
এই বর্ণনাটা আমার অনেক আগেই দেয়া-
"আমি আস্তিক। আমি ইসলাম ও কুরআন বিশ্বাস করি।আমি মাঝে মধ্যে নামায আদায় করার চেষ্টা করি, মাঝে মাঝে কুরআনও তেলোয়াত করি।নাস্তিকরা বলতে পারে কেন করি?কারন আমি আল্লাহ বিশ্বাস করি; আমি আল্লাহ বিশ্বাস করে মনে শান্তি পাই। যখন চারপাশ থেকে চাপে পরি, কেউ থাকে না আমাকে সাহায্য করার, যখন ভরসা দেয়ার মত কেউ থাকে না; তখন আমি আমি আল্লাহ্র নাম ডাকি।আমি শান্তি পায় মনে, আমার সমস্যা গুলো সমাধান হয়ে যায়। এই আধুনিক যুগে ইসলামের সবগুলো বিধান আমি চেষ্টা করলেও মেনে চলতে পারি না।কারন আমি সবসময় সত্যি কথা বলি না, অনেক সময়ই জেনে বুঝে পাপ কাজ করি, আমার মুখে সুন্নাতী দাঁড়ি নেই, মানুষের নামে গীবতও করি, গান শুনি, সিনেমা দেখি, হয়তো স্বার্থপরের মত আচরণ করি। তারপরও আমি আস্তিক।সব কিছুর পরও আমি একজনের কাছেই মাফ চাই।আমার ভরসা আছে তার উপর সবসময়। আমি দেখেছি দুঃসময়ে তার কাছে চাইলে সে আমার অনেক চাওয়াই পূরণ করে দেয়। কিন্তু নাস্তিকরা তো কাউকেই বিশ্বাস করে না। ওরা মনের শান্তি কিভাবে পাবে? একজন হিন্দু ভগবান বিশ্বাস করে, খ্রিস্টান ঈশ্বর বিশ্বাসী।তারাও তাদের দুঃসময়ে ভগবান-ঈশ্বরকে কাছে পাবে।কিন্তু নাস্তিকরা কাকে পাবে?''
সকলে ভালো থাকবেন। ইসলাম না বুঝে যারা জাতীগত বৈষম্য তৈরী করে তাদেরকে 'মুসলমান' ভেবে কোটি কোটি 'ভালো মুসলমান'দের কে একই পর্যায়ে চিন্তা করার মানে হয়না। ওরা আপনার শত্রু,আমার শত্রু ও ধর্মের শত্রু!
[ বিঃদ্রঃ লিখাটা ২০১৫ সালের ৫ই জুন আমার ফেসবুক ওয়ালে নোট আকারে প্রকাশিত]

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


