
মধ্যবিত্তের স্বপ্নগুলা সবসময় 'আক্ষেপে ভরা' থাকে।
অল্পের জন্যে না পাওয়ার বিরাট হতাশা ওদের জন্যে নিত্তনৈমত্তিক ব্যাপার।
'ইশ! যদি এমন হতো' , 'মাসের বেতনটা আর হাজার দশ বেশী হতো' কিংবা 'একটা নিজের যদি গাড়ি থাকতো' -এমন সব ছোট-বড় আক্ষেপে আক্ষেপেই কেটে যায় জীবনের পুরোটা সময়!
'নিরেট একটা সুখ'-এমন সময় যেন জীবনের প্রতিটি অধ্যায়েই অনুপস্থিত থাকে।
যেদিন পকেটে খুব টাকা থাকে সেদিন কাছের মানুষদের সময় থাকেনা, যেদিন কাছের মানুষগুলোর সময় থাকে সেদিন অফিসের ছুটি কোন ভাবেই ম্যানেজ করা যায়না। সেদিন বস এর উপর রাগ হয় ঠিকি, গালিটা মুখ পর্যন্ত চলেও আসে কিন্তু তারপর শব্দহীনভাবে বের হয়ে যায়!
মধ্যবিত্ত সমাজ জীবনের পুরোটা সময় যুদ্ধ করে বাস্তবতার সঙ্গে। পৃথিবীর সমস্ত কঠিন বাস্তবতা যেন তাদের ঘিরেই তৈরি হয়। এক অদৃশ্য দেয়াল ঘিরে থাকে তাদের। এই অদৃশ্য দেয়াল তারা টপকাতে পারেনা। তারা না পারে হার মানতে, না পারে জয়ী হতে। মধ্যবিত্তরা রয়ে যায় জয়-পরাজয়ের ঠিক মাঝখানটাতে। তাদের সবচেয়ে পছন্দের জামাটার দাম নির্ধারিত বাজেটের চেয়ে হাজারখানেক টাকা বেশী!
মধ্যবিত্তরা যখন হাপিয়ে উঠে এই দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে গিয়ে তখন ঈশ্বরের প্রতি খুব রাগ হয় তাদের। এক ঈশ্বর ছাড়া অন্য কারো উপর অভিমান করবার জন্যে এই বিশ্বভ্রমান্ডেতে যেন কেউ নেই! 'আমাকে কেন পৃথিবীতে পাঠানো হলো, আমি কি আসতে চেয়েছিলাম'-টাইপের অভিমান সেইসময় জোরালো হয়ে উঠে।

মধ্যবিত্ত বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছেলেরা এক একটা 'টিউশনি শ্রমিক', মধ্যবিত্ত একটা বাবা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মিথ্যুক, মধ্যবিত্ত একটা বাঙালি বধু পৃথিবীর সবচেয়ে অসুখী নারী! মধ্যবিত্ত প্রতিটা মানুষ পৃথিবীর সবচেয়ে বেশী নিগৃহীত!
তারপরও, বেঁচে থাকে মধ্যবিত্ত স্বপ্নগুলা, যদি কখনো পূরন হয়ে যায়- এই আশায় আশায়!
বাইদ্যাওয়ে, মধ্যবিত্তের জাতীয় সংগীত কোনটা জানেন তো?
'তুমি কি দেখেছ কভু, জীবনের পরাজয়?
দুঃখের দহনে, করুন রোদনে, তিলে তিলে তার ক্ষয়। তিলে তিলে তার ক্ষয়'!
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ রাত ৯:২০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




