somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রুপকথার গল্পে আমি

১১ ই এপ্রিল, ২০১৭ বিকাল ৪:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



প্রকৃত বয়সটা ছাব্বিশ ছুঁই ছুঁই করছে। না কৈশোর না মধ্যবয়স্ক, টগবগে আর প্রাতিষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত প্রকৌশল জ্ঞ্যান সম্পন্ন মানুষের এমন পাগলামো মানায় না, জানি। তবুও বাস, লঞ্চ, রিক্সা আর অটোতে করে তিন এর গুনীতক একটা শতক দূরত্ব পার করে ফেললাম অনায়াসে। কাউকে কিছু না বলে। প্রাথমিক অবস্থান থেকে যাত্রা শুরু করে একটি নির্দিষ্ট সময় ব্যায়ে যে দূরত্ব অতিক্রম করে গন্তব্যস্থলে পৌছেছি সেই সরণকালে শরীরে ক্লান্তি এসেছে, তবে অবসাদ ভর করেনি একটুও!

অবসাদশুন্য ক্লান্ত শরীরটাকে আরো বেশ কয়েকটা সময় ধরে ঝালিয়ে নিলাম পুরোনো কিছু মানুষের সাথে খোশ গল্পে মশগুল হয়ে। তারপর খানিকটা ব্যাক্তিগত একলা সময় কাটানো, অল্পখানি ঘুমিয়ে পড়া।
ঘড়ির কাটা যখন জানান দিলো সময়টা শেষ বিকেল তখন ঘুম ভাঙ্গলো। মোবাইলে ক্রিং ক্রিং করে এসএমএস এর শব্দ হলো- 'বের হচ্ছি, বের হও'!

তড়িঘড়ি করে হালকা একটু ফ্রেশ হয়ে বের হলাম। দূষণমুক্ত নগরী বলে পরিচিত এই শহরে মাত্র দুই লেনের পিচঢালা সড়ক। যতো-ই শহরের প্রান্তসীমা পার হয়ে এর গভীরে প্রবেশ করতে থাকি, দিনের আলো ক্রমে কমে আসতে থাকে। ভিড় দেখি শহরে। 'রিক্সা থেকে নেমে দাঁড়িয়ে আছি' ক্ষুদেবার্তা পড়ে উৎকণ্ঠা বাড়ে। হালকা যানজটে সময়টাকে দীর্ঘ মনে হতে থাকে। আজ আকাশের মন ভালো, মেঘের ছিটেফোটা নেই। মনে মনে ভাবছি দু’চার ফোঁটা বৃষ্টি আসলে খারাপ হতোনা। হালকা বৃষ্টিতে চমৎকার কিছু সময় কাটানো যেত। বজ্রপাতে চমকে উঠতো সে, জড়িয়ে ধরতো আমাকে! আর আমি কিছুটা চমকে উঠে থমকে দিতে চাইতাম সময়টাকে!

'গৃহভোজ রেস্টুরেন্ট' এর সামনে আসতেই চোখ পড়ে প্রিয় দুটি চোখে। অমলিন তার মিষ্টি হাসি যেন জানান দিচ্ছিলো অনুচ্চারিত 'স্বাগতম' শব্দ বলে। সেই হাসিটা এতো নিষ্পাপ যেন এই মাত্র জন্মেছে, কোথাও ভাঙ্গেনি, আঁচর লাগেনি। 'তিন চাকার যানে করে শহর বেড়াবো আজ সন্ধ্যায়' - দ্রুততার সাথে এমন দ্বিপাক্ষিক সমযোতায় পৌছে যাই আমরা।

রিক্সায় বসে কয়েক ন্যানো মিটার এর দূরত্বকে শুন্যের কোঠায় নিতে আসতে ইচ্ছে হলো। সানক্রেস্টহীন হাতটা বাড়িয়ে দিয়ে বললাম- 'যদি বন্ধু হও হাতটা বাড়াও'! সে হাত হাতে না রেখে হাত দিয়ে মুখ ঢাকলো। নিজের হাসিটা ঢেকে দিলো, যেন হাসি দেখলেই হাতে হাত রাখা হয়ে যাবে! এমন নাটকীয় আবদার নাকি তাকে কেউ কখনো করেনি। তার হাসি থামছেই না...!

রিক্সা যানে আমাদের গন্তব্য ফুরালো। সামনে একটা দীর্ঘ রাস্তা দেখে সোডিয়ামের আলো গায়ে মাখানোর ইচ্ছাটা অপূর্ন রাখতে ইচ্ছে হলোনা আমাদের। শত কথা শত গল্প করে এক পা দু'পা করে এগিয়ে চলছি। হাটার ভীড়ে আঙুলে আঙুল রেখে কখন যে সে আমার হাতে হাত রাখলো, টের পাইনি! যখন টের পেলাম মূহুর্তেই আমার বেঁচে থাকাটা গুরুত্বপূর্ন হয়ে উঠলো। মনে হলো আরো কিছুকাল বেঁচে থাকি, অন্তত রুপকথার জন্যে হলেও! রুপকথা তার সম্পূর্ন ভরসা নিয়ে আমার হাতটা শক্ত করে ধরেছে। আকাশে একটা চাঁদ কয়েক কোটি তাঁরা, ল্যাম্পপোষ্টে হলুদাভ আলো আর নিচে আমরা দুজন। আমার হাতে রুপকথার হাত।
এমন হাত ধরে আরো একশো কোটি মাইল পাড়ি দেয়া যায়!
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই এপ্রিল, ২০১৭ বিকাল ৪:০৭
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"বহু দিন পর বন্ধু"

লিখেছেন সনজিত, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


বহু বছর পর হঠাৎ তোর সঙ্গে দেখা।
প্রথমে চিনতেই পারিনি।
তারপর একচিলতে হাসি-
মনে হলো,
সময় আমাদের চেহারা বদলেছে,
কিন্তু শৈশবের মুখটা এখনো একই রয়ে গেছে।

চোখের কোণে ক্লান্তির রেখা,
চুল অর্ধেকটা সাদা রং,
কাঁধে সংসার,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাংসের ভুলচুক

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:০৬


বারে কুত্তার চোখ রঙিন
স্বপ্ন দেখে তাই ঘিন ঘিন
তাই দেখে হাড্ডি হাসে
পিন পিন, নাকের পুহান ঘুম
রক্ত হবে সুরেশ এই চুম;
ঐ গুরুজনে কইছে কথা
কুত্তার পেটে ঘি করে ব্যথা
স্বপ্ন তো দেখবেই ভুক... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×