somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হ্যালো ২৪৪১১৩৯

১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ দুপুর ১২:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



চাকরিটা আমি পেয়ে গেছি বেলা সত্যি!
অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার হাতে পেয়েও বিশ্বাস হচ্ছিল না আমার। খুব খেয়াল করে কাগজে টাইপ করা কালো কালো অক্ষরে নিজের নামটা দেখছিলাম। না ভুল হয়নি- আমার নামই লেখা।

নিজের অবিশ্বাস্য চোখ জোড়া নিয়ে আয়নার সামনে গিয়ে দাড়ালাম। চোখগুলো ঝাপসা লাগছে। চোখে ঠান্ডা পানি দিয়ে নিজের স্যান্ডু গেঞ্জিটা দিয়ে চোখ মুছতে মুছতে আবারো এলাম কাগজটা দেখতে। হ্যা-একটা এপয়েন্টমেন্ট লেটার। তাতে আমার নামই লেখা। বোল্ড হরফে লেখা।

যদিও আহামরি কোন ব্যাপার নয়। খুব সাধারন চাকরি। আমার আটটা-পাঁচটার গল্পের মত সাধারন একটা চাকরি। তবুও আমার অবিশ্বাস্য লাগছিলো।

পুরো এপয়েন্টমেন্ট লেটারটা খেয়াল করে পড়লাম। জীবনের প্রথম এপয়েন্টমেন্ট লেটার কিনা! সুযোগ সুবিধা আছে বেশ। ট্রান্সপোর্ট সুবিধা, দুপুরের লাঞ্চ, সাথে মাস শেষে পঁচিশ হাজার টাকার মোটাতাজা বান্ডিল আর বছরে দু’বার বোনাস। আর কি চাই!

হ্যা। এইবার ফাওজিয়াকে নিয়ে ঘর বাঁধা যাবে। 'তোকে নিয়ে ঘর বাঁধবার স্বপ্ন আমার অন্তহীন-রাত্রীদিন' স্বপ্ন সত্য হবে। হে হে হে ।
এসব ভাবতে ভাবতে মনটা কেমন থম ধরে এলো। ঠোঁটের এককোণে এক চিলতে বিদ্রুপের হাসি ছাড়া আর কোন প্রতিক্রিয়া দেখতে পেলাম না নিজের মাঝে।

চাকুরিটা আমি ঠিকি পেয়েছি। কিন্তু পাওয়া হবেনা ফাওজিয়াকে । কোনদিন না, কোন ভাবেই না!
ঠিক ৮ মাস ১৪ দিন আগে একটা বৃষ্টির দিন ছিলো। স্টুডেন্ট এর বাসা থেকে বের হয়ে আমি বাসায় ফিরবো। দেখি ফাওজু আমার ছাত্রীর বাসার নিচে। একটা ব্যাগ নিয়ে দাঁড়িয়ে। বৃষ্টিতে ভিজছে। আমি অবাক হলাম!
- কি হইসে ? তুমি এইখানে কেন?
- বাবু! আমি চলে এসেছি।
- মানে কি? চলে এসেছো মানে কি?

ফাওজিয়া একটা হাসি দিলো। আমার দিকে তাকিয়ে বললো -
'হে অজেয় পুরুষ এইবার আমাকে সংসার করো'

রুদ্র গোস্বামী'র 'সংসার' কবিতাটা ওকে আমি একবার পাঠ করে শুনিয়েছিলাম। তারপর থেকে ফাওজিয়া এই কবিতাকে মুখস্ত করে ফেলেছে। আমার দেয়া ৪৭টি কবিতার প্রায় সবকটিই ওর মুখস্ত! অথচ আমার নিজেরই মনে নেই একটা কবিতার পুরোটা!

- পাগলামি কইরো না। যাও বাসায় যাও।
- পাগলামি করছি না। আজ পাত্র দেখতে আসছিলো। আগামী শুক্রবার আমার বিয়ে। সব ফাইনাল করেছে দুই পক্ষ। সো, আমার কোন উপায় নেই।
- প্লিজ! এমন কইরো না। চলো বাসায় চলো!


সেদিন অনেক ঝগড়াঝাটি শেষে ফাওজিয়াকে অনেক বুঝিয়ে সুঝিয়ে ওকে ওর বাসায় ফেরত দিয়ে আসি। আমি দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে আসি।

পরের বৃহস্পতিবার সন্ধায় আমার নাম্বারে একটা ফোন আসে। ফাওজুর বান্ধবি শ্রেয়শ্রীর ফোন।
ফোনটা রেখেই আমি হাপাতে হাপাতে ওর বাসায় পৌছি। আমার ফাওজু সোনা আর নেই!
না কোন সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি। আমার নামে কোন অভিযোগ কোত্থাও লেখা নেই। পৃথিবীর কারো প্রতিই যেন তার কোন অভিযোগ নেই!

সেইসপ্তাহের রবিবারে আমার জ্ঞ্যান ফিরে। দেখি আমি হাসপাতালে। কিছুটা সুস্থ হলে আমার চাচাতো ভাই মুকিম আমাকে নিয়ে চাচার বাসায় চলে আসে । মাস খানেক পর আমার ঠিকানায় একটা চিঠি আসে। চিঠিটা আমাকে পাঠিয়েছে শ্রেয়শ্রী।
আমি হলুদ খাম খুলে চিঠিটা পড়তে শুরু করি-

বাবু,
জগতে যেটুকু ভালো আমি তোমায় বেসেছি তা বোধহয় কখনো আমি নিজেকেও বাসিনি।
যে পৃথিবীতে তুমি নেই, সেই পৃথিবীটা আমার না।
আমি তাই নতুন পৃথিবীর খুঁজে যাচ্ছি। তুমি ভালো থেকো।


আমি ভীষন মনোযোগ দিয়ে চিঠিটা পড়ি। একবার পড়ি-দুইবার পড়ি-বারবার পড়ি।
চিঠিটা শ্রেয়শ্রীকে দিয়ে ফাওজিয়া বলেছিলো আমার বিয়ে হলে তুই এইটা অর্ঘ্যকে দিয়ে দিস। আর শোন, বিয়ের আগে অবশ্যই দিবিনা। চিঠিটা কখনো খুলবিনা!

শ্রেয়শ্রী কথা রেখেছিলো। সেই চিঠি আজও আমার শুন্য মানিব্যাগের পকেটে আছে। আমি আবার চিঠিটা খুলি। শুধুমাত্র একটা চাকরির অভাবে ফাওজিয়াকে আমার পাওয়া হয়নি। অর্থনৈতিক দৈন্যতার কাছে ভালোবাসা জায়গা করে নিতে পারিনি। কাপুরুষের মত আমি বেঁচে আছি আর ভালো থাকার চেষ্টা করছি। পাড়ার দোকানে আট হাজার টাকা বাকি, দৈন্যদশা চরমের পৌছেছে। আমি বাস্তবে ফিরে আসতে চেয়েছি বারবার। কিন্তু কি লাভ এই বেঁচে থেকে? একে কি সত্যিই বাঁচা বলে?

অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটারটার কোন মূল্যই খুঁজে পেলাম না মনে হলো। দিয়াশলাই জ্বেলে সিগারেটে আগুন দিই তারপর এপয়েন্টমেন্ট লেটারটাতে।
সোনালী আগুন জ্বলছে। তবুও দ্বগ্ধ হচ্ছিনা আমি! মনে মনে ভাবছি কেউ একজন এসে যদি একবার বলে, শুধু একবার বলে - 'হে অজেয় পুরুষ এইবার আমাকে সংসার করো'-আমি এই নিভিয়ে দিবো এই আগুন।
কিন্তু না কেউ আসেনি। কেউ না।
কাগজের পুরোটা পুড়ে গেলো। বাতাসে ভস্মগুলো ছুটাছুটি করতে শুরু করলো।
পাশের রুম থেকে গানের শব্দ কানে আসছে। চাচাতো ভাই মুকিম গান ছেড়েছে। অঞ্জন দত্তের গান
- হ্যালো টি ফোরফোর ওয়ানোয়ান থ্রিনাইন, বেলাবোস তুমি পাচ্ছো কি শুনতে?

সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ দুপুর ১২:২৩
১০টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাশিয়ার পারমাণবিক যুদ্ধ

লিখেছেন ডাঃ আকন্দ, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:৩৭

রাশিয়া এবং ইউরোপের মধ্যে পারমাণবিক যুদ্ধের আশংকা করা হচ্ছে। এই যুদ্ধ হলে, তা হবে পাগলামি। ইউরোপকেই এই মরণ মরণ খেলা বন্ধ করতে হবে। ইউরোপকে অনেক ছাড় দিয়ে এ যুদ্ধ বন্ধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

never give up!!! চেষ্টাটা যেন শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত হয়....

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:১০



অনেকেই নিজের ভাগ্যকে দোষ দেন। বলেন- ''ভাই, ভাগ্য বিড়ম্বনায় আজ আমার এই অবস্থা।'' অনেককে এও বলতে শুনেছি- ''আজ ভাগ্য সহায় থাকলে অনেক দূর এগিয়ে যেতাম।''
.
এইসব মানুষদের আমি বলি- ''শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আইনের ঊর্ধ্বে কেউ না - সরকারের পদক্ষেপ প্রশংসনীয়

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৪৫




মিরপুর-১ রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগের ঘটনায় ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে এমপি পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া সরকারের একটি সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় পদক্ষেপ বলেই মনে করি। তবে পদত্যাগের নির্দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেরারী বিকেল

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:১৫

বাংলা বর্ষপঞ্জীর ষষ্ঠ মাস, আশ্বিনের শুরু থেকেই দিনের ‘বিকেল বেলা’ টা আমাদের দৈনন্দিন জীবন থেকে হারিয়ে যেতে শুরু করে। আষাঢ়ের শেষ সপ্তাহ থেকে আহ্নিক পরিবর্তনের ফলে প্রতিদিনের দৈর্ঘ্য একটু একটু... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্ধকারের রসায়নবিদ, Case File 02 — সিউলের অসমাপ্ত গুলি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৯


লেখকের নোট:
এই গল্পটি ১৯৭৪ সালের দক্ষিণ কোরিয়ার একটি ঐতিহাসিক হত্যাচেষ্টার ঘটনাকে পটভূমি হিসেবে নিয়ে নির্মিত সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম থ্রিলার। ঐতিহাসিক ব্যক্তি ও ঘটনার পাশাপাশি প্রফেসর রেহান আশরাফ, তাঁর পরিকল্পনা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×