বন্ধু,
আমি অমলকান্তি,
সেই ছোট্টবেলার ক্লাসে কাঁচুমাচু করা ছেলেটা,
মনে পড়ছে না? সে কি! রোদ্দুর হতে চাওয়া অমলকে-
তবে কি স্মৃতির মেঘগুলো আড়াল করে দিলো?
দিলেও বা কি! আমি যে এখন বলতে শিখেছি।
আমার বলা কথাগুলো হয়তো অশ্রু হয়ে তোদের মেঘগুলোকে সরিয়ে দেবে,
তোরা আবার দেখতে পাবি, আনমনে হয়তো ছুঁয়ে যাবি – বন্ধু অমলকে।
বন্ধু,
আমি সেই অমলকান্তি,
যে রোদ্দুরকে ভালোবেসে ভুলেই গিয়েছিলো রবির সাথে সখ্যতা,
তপনের তর্পন করে যার আর হলো না রৌদ্রস্নান
দীর্ঘশ্বাসে মেনে নিয়েছি বাস্তবতার বশ্যতা!
সে পর্যন্ত তোদের জানা সংলাপ, না জানা-
গল্পগুলোতেই তবে আজ জমে উঠুক এই আলাপ।
বন্ধু,
আমি সেই অমলকান্তি,
ছাপাখানায় কাজ করে, মনের ক্ষিধে বুকে বেঁধে
পেঠ চলছিলো দু’বেলা।
মোটা কাপড় আর ভাতে, পাতা সংসারে, দিনগুলো যাচ্ছিলো বেশ,
হঠাৎ করে, কাঁটার মত আসলো বিঁধে-
যুগ বদলে রেশ! ছাপাখানায় আর কাজ আসে না,
তোরা ওই যন্ত্র দিয়ে, মন্ত্র করে, কি করলি বলতো?
হাত দিয়ে অক্ষর না ছুঁলে, মানুষ কি করে শিখতো?
বন্ধু,
আমি সেই অমলকান্তি,
যার ওই ছোট্ট ছাপাখানাটাও তোরা বন্ধ করে দিলি,
তোরা যন্ত্রে যন্ত্রে সভ্য হবি,
যন্ত্র দিয়ে মানুষ গড়বি, কিন্তু আমরা যারা অমলেরা-
যারা স্পর্শ হতে চেয়েছিলো, ভালোবাসাতেই বেঁচে ছিলো
তোদের তীব্র লোভের নেশায়, হয়ে গেলাম বলি!!
বন্ধু,
আমি সেই অমলকান্তি,
এই আধুনিক সভ্যতায় যে বড্ড সেকেলে, বড্ড বেমানান।
রোদ্দুর হতে না পেরেও বেঁচে ছিলাম, তবে তোদের মত সভ্য হতে না পেরে-
ধুঁকে ধুঁকে মরতে বসেছি। অভিযোগ নয়, বন্ধুর কাছে কিছু প্রশ্ন রেখে যাই তবে,
গেঁয়ো, এঁদো সেই দিনের চেয়ে তোরা এখন কত সুখে বাঁচিস?
যন্ত্রে যন্ত্রে বই পড়ে, অনুভুতিকে ভুলে গিয়ে-
পৃথিবী ছেড়ে মঙ্গল ছুঁয়ে, এখন কত বেশী বেঁচে থাকিস?
সব প্রশ্নের হয়না উত্তর, হয়তো কিছু দীর্ঘশ্বাস-
তা হলে ও চলবে আমার, রইবে না শ্রান্তি
ইতি বন্ধু,
আমি সেই অমলকান্তি।।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই ডিসেম্বর, ২০২১ বিকাল ৫:৪০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



