somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্প-ছড়ার কথা-এক

০৭ ই মার্চ, ২০১৬ সকাল ১১:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শেষ দুপুর আর বিকেল শুরুর সময়টায় যদি ঘুম না আসে, কেমন একটা অস্থির লাগে। মেসের এই সময়টায় বড় একা আর অসহায় লাগে। সবাই যে যার মত ঘুমিয়ে পরেছে, হালকা শীতের আমেজে শরীরে কাঁথা চাপিয়ে দিয়ে। পেপারতো সেই সকালেই পড়ে প্রায় মুখস্ত করে ফেলেছে গল্প। টিভি রুমে যেতেও ইচ্ছে করছেনা এখন, খেলা ছাড়া গল্প টিভিতে দেখার মত আর কিছু আজকাল খুঁজে পায়না। দুই একজন বন্ধু যারা আছে, তারা এখন সবাই ব্যাস্ত পশ্চিম পাড়ায় যাবার তোড়জোড়ে!

হ্যাঁ পশ্চিমপাড়া। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সদ্য প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়া ছেলেদের কাছে এক অমোঘ আকর্ষণের নাম! কেন? কেন আবার লাল-নীল-হলুদ-সবুজ-বেগুনী-কমলা সব রঙের শত রকমের প্রজাপতিদেরতো ওখানেই বাস বা আবাস! মানে এই রাবির ছাত্রীদের হল গুলো ওখানেই অবস্থিত! শেষ বিকেল থেকে ভর সন্ধা পর্যন্ত ওখানে মেলা বসে। হ্যাঁ মেলাই তো বসে সেথায় প্রেম-বিরহের, দেখা-না দেখার, হাসি-কান্নার, পাওয়া-না পাওয়ার, ভালোবাসা বা ঘৃণার, মিলন ও বিচ্ছেদের!

আর এই সব জীবন কাব্যের নিয়মিত আর অনিয়মিত চরিত্র এই ক্যাম্পাসের অবস্থানরত ছাত্র-ছাত্রীরা। প্রতিদিন বিকেলে কত কিছু ঘটে এখানে, যার বর্ণনা দিয়ে শেষ করা কারো সাধ্যে আছে কিনা, বলা বা বোঝা মুশকিল। যদিও গল্পের এতে কিছুই যায় বা আসেনা। সে একা, তার কেউ নেই তেমন করে, যার টানে বা যার পানে ছুটে যাবে সে, অজানা আর অসীম আনন্দের আকর্ষণে। যা আছে সে ওই দুই-চার জন ক্লাসের বন্ধু-বান্ধবী আর তাদের সাথে অন্য বিভাগের আর দুই বা চারজন, এই।

গল্প সদ্য কলেজ পাশ করে রাবির আইন বিভাগে ভর্তি হয়েছে। চেনা জানা সামান্যই। মেসে উঠেছে কিছুদিন হল। হলের ব্যাবস্থা না হওয়াতে। অবশ্য প্রথম বর্ষে হলে থাকতে পারাটা সাধারন ছাত্রদের কাছে আমাবশ্যার চাঁদের মত ব্যাপার! তা সেই চাঁদের দেখাও গল্প পায়নি আর হলেও ওঠা হয়ে ওঠেনি। শেষমেশ নিয়মিত ছাত্রদের, সাধারন ও স্বাভাবিক উপায় হিসেবে মেছকেই বেছে নিতে হল।

সে যাই হোক, এই শেষ দুপুরে গল্পের এই অদ্ভুত মানসিক অস্থিরতা কাটাতে শেষ পর্যন্ত পশ্চিম পাড়াকেই বেছে নিল সে! ধীরে ধীরে নিজেকে কোন রকমে ভদ্রস্থ করে, এলোমেলো চুলেই সে বেরিয়ে পরলো। হঠাৎ এক বন্ধুর কথা মনে পরে গেল তার। পশ্চিম পাড়াতে যাবার আগে নাকি একটু পারফিউম দিতে হয়, তাতে করে কেউ যদি নাও তাকায়, অন্তত পারফিউমের গন্ধ পেয়ে, যদি কিছুটা মাতাল হয়ে অদ্ভুত এক রহস্যের মত করে কেউ কোনদিন খুঁজে নেয়!

সেই আসায় তার সেই অল্প পরিচিত বন্ধু প্রতিদিন পশ্চিম পাড়াতে যাবার আগে বেশ খানিকটা পারফিউম লাগিয়ে বের হয়, মনে অনেক আশা আর রঙ-বেরঙের স্বপ্নের জাল বুনতে বুনতে! গল্প এই কথা ভেবে একটুখানি হাসে। আর পারফিউমের প্রতি তার আরও বেশী অনীহা জন্মায়! গল্প একা একা হাটে আর মনে মনে ভাবে কেউ যদি তাকে কখনো পছন্দ করে, তবে যেন পারফিউমের গন্ধে নয়, তার ঘামের গন্ধকে ভালো লাগলেই যেন কাছে আসে! সেটাই হবে সঠিক আর সত্যি করে কারো কাছে আসা। দেবেনা সে পারফিউম, কিছুতেইনা আর কখনোই না। গল্প তার হাটার বেগ সামান্য বাড়ালো। এই সময় কাজলা মোড়ের পিচঢালা রাস্তায় সূর্যের উদার উত্তাপ বিলানোতে বেশ একটা গরম গরম অসহ্যতা ঠেকে তার।

এক কাপ চা খেলে মন্দ হতোনা এখন। বেশ চায়ের তেষ্টা পেয়েছে তার। ঘুমটাও হলনা আজ। ক্যামন একটা ম্যাজ ম্যাজে অনুভূতি। কিছুতেই সস্থি পাচ্ছেনা সে। নাহ, এই সময়, সূর্যের তাপের নিচে বসে চা আর উপভোগ করা যাবেনা, তার চেয়ে সেই পশ্চিম পাড়াতে গিয়ে মামার চায়ের সাথে রোকেয়া আর তাপসী রাবেয়া হলের মাঝের বট তলার ছায়া বসে চা টা বেশ ভালো লাগবে! সাথে নিশ্চয়ই জুটে যাবে দুই-চারজন পরিচিত বন্ধু-বান্ধব, গল্পে-কথায় আর আড্ডায় কেটে যাবে অজানা আর অস্থির সময় টুকু। এই ভাবনাতেই সারা দুপুর ঘিরে ধরা অসস্থিটা যেন দূর হল কিছুটা। মনটাও বেশ ফুরফুরে লাগছে এখন!

বেশ খানিকটা লজ্জা পেল সে! নিজেই নিজের কাছে। তবে কি এই প্রজাপতির মেলায় আসলেই আনন্দ আছে? আসলেই অস্থিরতা কেটে গিয়ে ফিরে আসে কোন অজানা আনন্দ! ধীরে ধীরে উড়ে বেড়ানো রঙ বেরঙের প্রজাপতিদের দেখে আর দেখে? আবারো লজ্জা পেল সে, একা একাই, তার অস্বাভাবিক আর অজানা হাসির অকারণ কারণে! সেও কি দেখা পাবে কোন রঙিন প্রজাপতির? যে উড়ে যাবে, ছুঁয়ে দেবে, রঙ ছড়াবে আর মন রাঙাবে! স্বপ্ন দেখাবে, কল্পনায় সাজাবে আর ভাবনায় ভাসিয়ে দেবে তাকে?

কি জানি? কে জানে? এবার নিজের মাথায় নিজেই একটা মৃদু আঘাত করে পেরিয়ে চলেছে সবুজের চাদর বেছানো জুবেরি ভবনের মাঠের মাঝখানে মাথার সিঁথির মত মেঠো পথ ধরে। প্যাসির রোডের অভিনন্দন গ্রহণ করে, কলা ভবনের লাল রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে, আর ইবলিশ চত্তরে বাঁদরদের বাঁদরামি উপেক্ষা করে, রঙ-বেরঙের প্রজাপতির মেলা প্রাঙ্গণে!


সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই মার্চ, ২০১৬ সকাল ১১:৪৪
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশ সরকারের কাছে সোলার এনার্জি বিক্রি করা কতটা লাভজনক?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩৭



যারা আগামী ৬ মাসের মধ্যে বাড়ির ছাদে সোলার সিস্টেম ইন্সটল করবেন, তাঁদেরকে বাংলাদেশ সরকার প্রত্যেক ইউনিট ইলেক্ট্রিসিটির জন্যে ১০.৫০ টাকা করে দিবে। রুফটপে সোলার এনার্জি প্ল্যান্ট বসিয়ে লাভ... ...বাকিটুকু পড়ুন

সম্পর্ক ও আত্মহত্যা

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৪৭



কাউকে আত্মহত্যার ভয় দেখিয়ে বিয়ে করা অথবা আত্মহত্যার ভয় দেখিয়ে অথবা ব্ল্যাকমেইল করে গুরুতর মানসিক ও মনস্তাত্ত্বিক নির্যাতনের মাধ্যমে কাউকে বিয়েতে বাধ্য করা। - বিশ্বের যে কোনো দেশের আইনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২ লাখ কর্মীর খবর ভুয়া - তবে ২৫ টা সাদা হাতি আসছে!

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:০২



স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছিলেন, মালয়েশিয়া সেপ্টেম্বর মাস থেকে ধাপে ধাপে ২ লাখ কর্মী নেবে ।

আগামী ছয় মাসে বাংলাদেশ থেকে ২ লাখ কর্মী নেবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গ্যাস বিদ্যুৎ সংকটের জন্য দায়ী কে?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১১



২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের সামরিক, পারমাণবিক ও সরকারি স্থাপনাগুলোতে আকস্মিক বড় ধরনের বিমান হামলা চালায়।প্রথম দফার হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ীসহ বেশ কয়েকজন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আ-তে আনন্দবাজার, আ-তে আওয়ামী লীগ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১৫


ইন্টারনেটে খবর পড়তে পড়তে হঠাৎ একটা শিরোনাম সামনে এলো। পড়েই কয়েক সেকেন্ডের জন্য মনে হলো, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে বুঝি বিশাল কোনো ঘটনা ঘটে গেছে। শিরোনাম, “আধ পয়সা বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×