somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ট্রেকিং সঙ্গী ও ইমিগ্রেশন... (স্বপ্নের সান্দাকুফু-৩)

১৯ শে অক্টোবর, ২০১৬ সকাল ১১:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


গত বছরের শেষ দিকে আমাদের নিজস্ব ভ্রমণ টিম নিয়ে পঞ্চগড় আর তেতুলিয়া গিয়েছিলাম। এবং বাংলাবান্ধা গিয়ে জানতে পেরেছিলাম যে এই (বাংলাবান্ধা-ফুলবাড়ি) পোর্ট পন্যের পাশাপাশি, সাধারণ মানুষের জন্যও খুলে দেয়া হয়েছে। তখনই ভেবে রেখেছিলাম যে এরপর ভিসা করার সময় এই পোর্ট দিয়ে ভিসা করবো। তাইএবার ভিসা করার সময় থেকেই মাথায় ছিল যে বাংলাবান্ধা-ফুলবাড়ি পোর্ট দিয়ে ভিসা নেব যদি কোন সমস্যা না থাকে।

আর যদি পেয়েই যাই তবে অনেক দিনের স্বপ্ন সান্দাকুফু ট্রেকটা শেষ করতে চাই, পাশাপাশি আর একটি আকাঙ্ক্ষা রিশপ-লাভা দেখার সেটাও শেষ করবো, আরও সম্ভব হলে ডুয়ার্স টাও শেষ করতে চাই! তাহলে মোটামুটি পশ্চিমবঙ্গটা শেষ হয়ে যায়। তাই এই পোর্ট দিয়েই ভিসার জন্য আবেদন করেছিলাম আর পেয়েও গিয়েছিলাম। যার ইতিবাচক ফলাফলটা হাতে নাতে পেয়েছি আর পাচ্ছি প্রতি ভ্রমনেই!

আগের গুলো তো সবাই কমবেশী জানেন-ই, এবার এই ভ্রমণের তিক্ত গল্পটি বলি। সান্দাকুফু যাবার জন্য প্রাথমিকভাবে চারজনের একটি টিম হয়েছিল, যেটা শেষ দিনে দুইজনে এসে ঠেকেছিল। যার একজন আমি আর একজন তুষার। আমার তো এই পোর্ট দিয়ে ঝামেলাহীন ভাবে শিলিগুড়ি পৌঁছে যাবার অভিজ্ঞতা আছেই।

তাই ভেবেছিলাম তুষারও যদি বুরিমাড়ি বর্ডার দিয়ে ১১/১২ টার মধ্যে শিলিগুড়ি এসে পৌছাতে পারে তবে দুজনে মিলে প্রথম দিনেই মানেভাঞ্জন গিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে চিত্রে বা মেঘমা গিয়ে প্রথম রাত্রি থাকবো। দুজনে মিলে সেভাবেই পরিকল্পনা সাজালাম। এরপর চললাম যে যার বাসে, তার নিজ নিজ বর্ডারের দিকে।

আমার বাস যথারীতি ৮ টার মধ্যে সীমান্তে পৌঁছে দিল। ওদিকে তুষারের বাসও ঠিক সময়েই পৌঁছে গেল বুড়িমারি সীমান্তে, ফোনে কথা হল। তার মানে তেমন কোন সমস্যা না হলে আমরা আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোতে পারবো। মনটা বেশ খুশি খুশি লাগছে, এই ভেবে যে শিলিগুড়ি-দার্জিলিং আর মানেভাঞ্জনের যান্ত্রিকতার মধ্যে খুব বেশিক্ষণ থাকতে হবেনা। বিকেলের মধ্যেই কোন এক নির্জন পাহাড়ি পাড়া-গ্রাম বা লোকালয়হীন অরন্যের মাঝে চলে যেতে পারবো এই ভেবে।

কিন্তু সব ভাবনাই কি আর সত্য হয় বা ভাবনার মত করে হয়? হয়না, আর তাই সেই দিনটি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল দেখে আমি আর দেরি না করে আমার প্রেয়সীর পানে ছুটে গিয়েছিলাম তাকে একান্ত আলিঙ্গনে বাঁধতে...!! সেটা কি রকম?

আমার ইমিগ্রেশন শেষ করে আমি শিলিগুড়ি পৌঁছে গেলাম বেলা ১০:৩০ এর মধ্যে। এরপর আমার ট্রেকিং সঙ্গীর জন্য অপেক্ষার প্রহর গোনা শুরু হল। কিন্তু যা হয় আর কি... একা একা সময় তবুও নিজের মত করে কেটে যায়, কিন্তু কারো জন্য অপেক্ষার প্রহরগুলো কেন যেন দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়ে থাকে।

এক একটা মিনিট যেন এক একটা ঘণ্টার চেয়েও দীর্ঘ আর ভারী নিশ্বাসে কাটতে লাগলো। মিনিটে সাত-আটবার করে ঘড়ির দিকে তাকালে কি আর ঘড়ির কাঁটা এগোয়? এগোয়না, আমার তাই সময় গুলো অত্যন্ত অস্থিরভাবে কাটতে লাগলো। আর শিলিগুড়ি জংশন এমন একটি যায়গা, যেখানে দু-দণ্ড কোথাও বসে থাকার উপায় নেই চুপচাপ। এমনকি বাস স্ট্যান্ডে গিয়েও বসে থাকার উপায় নেই এতটুকু!

এতো এতো বাস ছেড়ে যায় পুরো পশ্চিমবঙ্গময় যে সারাক্ষণই মাইকে বিভিন্ন বাস আর তার সময়ের উল্লেখ করে ঘোষণা চলতে থাকে অনবরত। তাই সেখানে আর যাই হোক কয়েক দণ্ড বসে সময় কাটানোর কোন উপায় থাকেনা। যে কারণে এখানে সেখানে ঘোরাঘুরি আর হাঁটাহাঁটি করে ঘণ্টাকাল অতিবাহিত করার পরে ট্রেকিং এর জন্য নিজের পছন্দ-চাহিদা আর সাধ্যমত শুকনো খাবারের কেনাকাটা শুরু করে দিলাম।

খুবি ধীরে ধীরে কেনাকাটাশেষ করে প্রায় এক ঘণ্টা কাটানোর পরেই আমার সঙ্গীর কোন আপডেট পেলামনা। এদিকে সময় সময়ের মত চলে যাচ্ছে তার নিজস্ব নিয়মে। সেতো আর আমাদের পরিকল্পনামত অপেক্ষা করবেনা কোথাও কারো জন্য। এদিক সেদিক ঘুরে আর প্রায় ৩০ মিনিট সময় কাটানোর পরে তুষারের ফোন এলো ওর বাংলাদেশী নাম্বার থেকেই!

যা দেখে আমি পুরোপুরি ভড়কে গেলাম। তার মানে সে এখনো বাংলাদেশেই পেরোতে পারেনি? তাহলে আর আসবে কবে? রাতে থাকবো কোথায়? আর আজকের চিত্রা বা মেঘমায় থাকার কি হবে তবে? এসব ভাবতে ভাবতেই ফোনটা ধরলাম। এরপর যা যা ভেবেছি ঠিক তাই। তিনি জানালেন যে এখনো তার কোন কাজই তেমন হয়নি কখন শেষ হবে সেটাও ঠিক বুঝতে পারছেননা!

হায় হায় এখন তবে কি হবে? তবে আমি তাকে তার মত করে ধীরে ধীরে আসার কথা বললাম, আর মেসেজ নিয়ে দিলাম আমি তবে এই সুযোগে আমার পুরনো প্রেয়সীর কাছে যাই, বাঁধি তাকে একান্ত আলিঙ্গনে! হ্যাঁ তাই-ই করেছিলাম। আমি শিলিগুড়ি থেকে সোজা চলে গিয়েছিলাম আমার প্রথম প্রেম আর একান্ত ভালোবাসার আচল বিছিয়ে রাখা প্রেয়সীর গহীন আদরের আড়ালে! বেঁধেছিলাম তাকে আর সে আমাকে একে অন্যের একান্ত আলিঙ্গনে!! সেই গল্পটা এরপর বলবো, একান্ত আবেগে...

এরপর অপেক্ষা অপেক্ষা আর অপেক্ষা... কিন্তু তার তেমন কোন খবর নেই। বিকেল চারটার পরে তিনি একটি নাম্বার থেকে ফোনে জানালেন যে তিনি আসছেন আমি যেখানে আছি সেখানে, আমার অবস্থান তাকে আমি মেসেজ দিয়ে জানিয়ে দিয়েছিলাম ফেসবুকের মেসেঞ্জারের মাধ্যমে। আমি আমার মত করে একান্ত সুখের, গভীর আবেগের আর পরম মমতাময় ভালোবাসার সময় কাটাচ্ছিলাম আমার প্রেয়সীর সাথে, বর্ণিল বিকেল-সোনালি সন্ধা আর তারা ভরা রাত্রিতে!

দারুণ কাটছিল প্রতিটি প্রহর, আবেগে-উচ্ছ্বাসে-ভালোবাসায় আর খুনসুটিতে। কিন্তু সেই আবেগে গরম জল ঢেলে দিল আমার সঙ্গে সঙ্গী হবেন যে তার বাসার ফোন, তার কোন খোঁজ না পেয়ে। আমার কাছে খোঁজ-খবর জানতে চাইছে তার বাসা থেকে?

কিন্তু আমি কি বলবো, আমি নিজেই তো কোন খোঁজ খবর জানিনা। তবুও সান্ত্বনা দিতে আর টেনশন থেকে মুক্ত রাখতে জানালাম যে তিনি আসছেন, আমার সাথে কথা হয়েছে, এলেই আপনাকে ফোন করে জানানো হবে, আপনি নিশ্চিন্তে থাকেন।

আমার মত টেনশনহীন একজনও এখন টেনশনে পরে গেলাম। যতটা না সঙ্গীর তার চেয়ে বেশী তার শেষ আপডেটের। যেটা তার পরিবারের জন্য আরও বেশী দরকার। কারণ প্রিয়জনের খোঁজ খবর না পাওয়ার যন্ত্রণা আর কিছুতে হয়না। এটা একটা অব্যাক্ত যন্ত্রণা, কাউকে সেভাবে বলে বোঝানো যায়না, আবার স্থির থাকাও যায়না।
ভিতরে কুঁকড়ে যায়, অস্থিরতায়, যন্ত্রণায় আর নীরব কষ্টে। কেউ বুঝবেনা সেটা, শুধু নিজে নিজে বোঝা যায়, এই কষ্টের গভীরতা কত...

এরপর আরও প্রায় ২ ঘণ্টা বাস স্ট্যান্ডে অপেক্ষার পরে রাত ৯ টার দিকে তিনি এলেন। এবং আমাকে আর তার পরিবারকে দুশ্চিন্তা থেকে উদ্ধার করলেন।

তার এই দেরি বা একটি দিন নষ্ট হয়ে যাবার পিছনে কারণ ছিল শুধু মাত্র বুড়িমারি সীমান্তে আমাদের ইমিগ্রেশন আর কাস্টমসের নিদারুণ দক্ষতা আর দ্রুতগতির সেবা মানসিকতা! সেই তিক্ত গল্প বলে বা লিখে নিজ দেশ, মানুষ আর সেবার মানের সাথে সবাইকে পরিচিত করে ধিক্কারের অংশীদার করতে চাইনা। তাই ওটা গোপন আর একান্ত আক্ষেপ হয়েই থাক।

প্রেয়সীর আলিঙ্গনে...!! (পরের বিশেষ গল্প)
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে অক্টোবর, ২০১৬ সকাল ১১:২৩
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৫ই আগস্ট ছিলো আরো একটি ১৫/২১শে আগষ্টের অপচেষ্টা।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫২



২১শে আগস্ট পালন করা অর্থে , আমার কাছে মনে হচ্ছে আবারো জঘন্য কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে। কারন আমরা ঐ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার সম্পন্ন করতে পারিনি। আমরা যারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা - প্রমাণ

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:১২



ব্লগার সাহেব আমেরিকা থেকে লিখেছেন, “অমুক আসলে মুক্তিযোদ্ধা নন।”

আমি বন্ধুকে ফোন করলাম।
বললাম, “তুমি নাকি ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা?”

সে বলল, “বুঝতে পারছি না।”

“কেন?” আমি প্রশ্ন করলাম।

“১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন লা-মাযহাবিকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার কারণ কী ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৩২


আজকে নতুন চারটি মুখ মন্ত্রিসভায় যুক্ত হলো। এর মধ্যে একজনকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে । বলছি ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকনের কথা। তিনি একজন লা মাযহাবি বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেবীপ্রসাদ যাত্রা

লিখেছেন জ্যোতির্ময় ধর, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৩:২১


আমি তখন ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র। চট্টগ্রামের মোমিন রোডের রুচিশীল বই বিপণি কথাকলির বুকশেলফে চোখ বুলাচ্ছিলাম । হঠাৎ একখানি বইয়ের ওপর এসে থমকে গেল আমার চোখ । "ক্ষুদে... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুর্ভিক্ষের আওয়াজ কি আমরা বাংলাদেশিরা শুনতে পাচ্ছি?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৪৩

মুচলেকা দিয়ে, গোপন সমঝোতা করে মীর জাফর কিংবা মীর কাসিমের মতো “কথিত ক্ষমতার” সিংহাসনে বসা যায় ঠিকই কিন্তু বসে বসে জনগণের সর্বনাশ দেখা ছাড়া তাদের বিশেষ কিছু করার থাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×