somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রেয়সীর আলিঙ্গনে...! একটি খোলা চিঠি (স্বপ্নের সান্দাকুফু-৪)

২০ শে অক্টোবর, ২০১৬ দুপুর ১২:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


প্রথম যেদিন তোমাকে দেখে ছিলাম দূর থেকে, সবুজ শাড়িতে, নীল সাঁজে আর সাদা ঝিকঝিকে হাসিতে। উহ তুমি জানোনা প্রথম দেখাতেই কতটা মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম আমি তোমাতে। তারপর ধীরে ধীরে এগোতে থাকলাম তোমার কাছে, এঁকেবেঁকে, কিছুটা ভঁয়, সংকা আর দুরুদুরু বুকে, নিজের অজান্তেই দু-চোখের কোনে সুখের অশ্রু জমেছিল দু-ফোঁটা, ভীষণ আনন্দের আর অসীম উচ্ছ্বাসের।

এরপর যখন তোমার আরও কাছে এলাম, বেশ অনেকটা কাছে, প্রায় হাত ছোঁয়া দুরত্তে, তুমি লাজুক হেসেছিলে ঘোমটার আড়াল থেকে মুখ বের করে, ক্ষীণ সময়ের জন্য। আর পরোক্ষণেই আবার ঢেকে ফেলছিল নিজেকে ধূসর ঘোমটার আড়ালে নিজেকে। তবে সেই ক্ষণিকের দেখাতেই হারিয়ে ফেলেছিলাম নিজেকে তোমার মাঝে, অনন্তকালের জন্য। সেদিন আর দেখা পাইনি তোমার সেভাবে, তবে খুঁজেছিলাম অনেক অনেক, চোখ পিটপিট করে, এখানে-সেখানে, চুপিচুপি।

দেখা পেয়েছিলাম পরদিন আবার খুব খুব ভোরে। সেজেছিলে কি দারুণ সাঁজে, হয়েছিলে একেবারের রঙিন ঝলমলে, কোন রঙের কমতি ছিলোনা তোমাতে। আমি শুধু অপলক তাকিয়েই ছিলাম তোমার রূপের পানে। বাঁকরুদ্ধ ছিলাম কিছুক্ষণ, চোখ ঝাপসা হয়ে গিয়েছিল তোমার রূপের ঝলকে। নিজেকে হারিয়ে আবার খুঁজে ফিরেছিলাম বারে-বারে। আহা কি ছিল সেই সকালটা। আমার জীবনের অন্যতম সুন্দর আর সার্থক একটি সকাল ছিল সেটি।


এরপর আরও কাছে গিয়েছিলাম তোমার, দেখেছিলাম তোমাকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে। খুব আপন করে আর কাছ থেকে। দেখেছিলাম তোমার গালে দিয়েছিলে ব্লাসারের নরম স্পর্শ, গাল দুটোকে রাঙিয়েছিলে হালকা গোলাপি-বেগুনী আর হলুদাভ আভায়! কপালের সাদা-কালো তিল দিয়েই বানিয়েছিলে টিপ! আর দুই গালের দুই তিল তো মাধুর্য বাড়িয়েছিল তোমার আরও বহুগুণ! আমি উন্মাদ হয়ে গিয়েছিলাম তোমার মাঝে।

এরপর ফিরে গিয়েছিলাম নিজ লোকালয়ে। তবে কখনোই ভুলে যেতে পারিনি তোমাকে, মুছে ফেলতে পারিনি তোমার সেই চাহুনি, লাজুক অভিব্যাক্তি, ঘোমটায় ঢাকা মিষ্টি মুখখানি, বর্ণিল সাঁজ, ঝকঝকে হাসি, মায়াবী তিল, আরও যে কত কি?

এরপরও বহুবার এসেছি জানো, তোমার খুব-খুব কাছে, আশেপাশে কিন্তু ঠিক তোমার কাছে নয়, সাহস করে উঠতে পারিনি তোমার কাছে যাবার, একটু চোখে চোখ রাখার, পাশে বসার, গল্প করার, আলতো করে ছুঁয়ে তোমার স্পর্শ নেবার। পারিনি আমি ইচ্ছা ছিলে, ছিল আকাঙ্ক্ষাও, ছিল আকুল আবেগ আর অসীম চাওয়া, তবুও পারিনি নিজেকে নিয়ে যেতে, ভঁয়ে-শঙ্কায়-অস্থিরতায় পাছে হারিয়ে ফেলি নিজেকে, তোমার মাঝে! যদি ফিরে যেতে না পারি নিজের আবাসে, তাই খুব কষ্ট করে হলেও নিজেকে সামলে রেখেছিলাম এতগুলো দিন-রাত, মাস আর বছর!



কিন্তু এবার? এবারও ইচ্ছা ছিলোনা তোমার কাছাকাছি যাবার, তোমার স্পর্শ পাবার, তোমাকে ছোঁয়ার, তোমার কাছে গিয়ে একটুক্ষণ থেকেই ফিরে যাবার! ভেবেছিলাম এরপর যখন তোমার কাছে যাবো, অনেকটা সময় নিয়ে যাবো। তুমি-আমি হাঁটবো পাশাপাশি, ছুঁয়ে-ছুঁয়ে এঁকে অন্যকে। তুমি-আমি দেখবো দুজন-দুজনকে দু-চোখ ভোরে, দেখে-দেখে তৃষ্ণা মেটাবো তোমাকে দেখার। কিন্তু তবুও যেতেই হল, একেবারেই নিরুপায় হয়ে, খুবই অল্প সময়ের জন্য। আর তাই মন কাঁদছিল এই গানের মত করে...

“একটু চাওয়া আর একটু পাওয়া,
কাছে এসে চলে যাওয়া,
আর তো ভালো লাগেনা...”

কিন্তু এবার আমি যেতেই তুমি মন খারাপ করে রইলে খুব। একেবারে গুমোট হয়ে রইলে পুরোটা বিকেল-সন্ধা-রাত। দুই-একবার অশ্রুও ঝরিয়েছিলে তুমি ঢেকে তোমার দু-হাত। আমি দেখেছি, আমি বুঝেছি, আমি অনুভব করেছি, তোমার সেই ব্যাথা। বাঁধা দেইনি কোন, মন খারাপ করিনি এতোটুকু, কাঁদতে দিয়েছি তোমায়, তোমার মত করে। হালকা হতে দিয়েছি তোমায়, কাঁদার সুযোগ করে দিয়ে। আর আমিও পাথর বেঁধেছিলাম বুকে, তোমাকে বুঝতে না দিয়ে। তুমি জানোনা...।

তবুও তুমি বেঁধেছিলে আমায়, তোমার পরম আলিঙ্গনে, দিয়েছিলে উষ্ণ আদর, ছুঁয়ে ছিলে হৃদয়ের গহীনের কোন, একান্ত আদর, পরম মমতা আর নিখাদ ভালোবাসা দিয়ে। আমায় নিয়ে গিয়েছিলে তোমার প্রিয় যায়গায়, যেখানে সবাই যেতে চায়, যেখানে এর আগে আমার যাওয়া হয়নি তোমার সাথে। তুমি হাতে রেখেছিলে হাত, আমার কাঁধে তোমার কাঁধ, বেঁধেছিলে বুকে তোমার অবিচ্ছেদ আবেগে...

আর পরদিন যখন ফিরে যাবো তোমার কাছ থেকে, দেখেছি তোমার অবিরত অশ্রুঝরা কপোল, দু-চোখের অশ্রুতে ভেসে যাওয়া সাঁজ, আছড়ে পড়েছিলে আমার বুকে ভেঙে দিয়ে সব লাজ। আমি শক্ত পাথর হয়ে গিয়েছিলাম, তোমাকে ছেড়ে আসার অসহ্য বেদনায়। তুমি জানোনা...



এই জীবনে কেউ যদি জানতে চায়, সময়-সুযোগ পেলেই কার কাছে যেতে চাও, আমি বলি, আমি তোমার কাছে যেতে চাই, শুধু তোমার কাছেই গিয়ে নিজের একান্ত সময়গুলোকে তোমার সাথে কাটাতে চাই, প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করতে চাই, তোমার মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে থেকে অপলক দৃষ্টিতে নিজেকে হারিয়ে ফেলতে চাই, তোমার মাঝে।

তুমি আমার এতটা আপন, এতটা কাছের-আবেগের আর ভালোবাসার তুমি জানোনা।

তুমি আমার আমৃত্যু প্রেয়সী......
বেঁধেছি তোমায়, অনন্ত আলিঙ্গনে...

প্রেয়সী দার্জিলিং......

গাইডহীন সান্দাকুফু অভিযান! (পরের গল্প)

সর্বশেষ এডিট : ২০ শে অক্টোবর, ২০১৬ দুপুর ১২:৩০
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৫ই আগস্ট ছিলো আরো একটি ১৫/২১শে আগষ্টের অপচেষ্টা।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫২



২১শে আগস্ট পালন করা অর্থে , আমার কাছে মনে হচ্ছে আবারো জঘন্য কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে। কারন আমরা ঐ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার সম্পন্ন করতে পারিনি। আমরা যারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা - প্রমাণ

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:১২



ব্লগার সাহেব আমেরিকা থেকে লিখেছেন, “অমুক আসলে মুক্তিযোদ্ধা নন।”

আমি বন্ধুকে ফোন করলাম।
বললাম, “তুমি নাকি ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা?”

সে বলল, “বুঝতে পারছি না।”

“কেন?” আমি প্রশ্ন করলাম।

“১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন লা-মাযহাবিকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার কারণ কী ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৩২


আজকে নতুন চারটি মুখ মন্ত্রিসভায় যুক্ত হলো। এর মধ্যে একজনকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে । বলছি ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকনের কথা। তিনি একজন লা মাযহাবি বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেবীপ্রসাদ যাত্রা

লিখেছেন জ্যোতির্ময় ধর, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৩:২১


আমি তখন ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র। চট্টগ্রামের মোমিন রোডের রুচিশীল বই বিপণি কথাকলির বুকশেলফে চোখ বুলাচ্ছিলাম । হঠাৎ একখানি বইয়ের ওপর এসে থমকে গেল আমার চোখ । "ক্ষুদে... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুর্ভিক্ষের আওয়াজ কি আমরা বাংলাদেশিরা শুনতে পাচ্ছি?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৪৩

মুচলেকা দিয়ে, গোপন সমঝোতা করে মীর জাফর কিংবা মীর কাসিমের মতো “কথিত ক্ষমতার” সিংহাসনে বসা যায় ঠিকই কিন্তু বসে বসে জনগণের সর্বনাশ দেখা ছাড়া তাদের বিশেষ কিছু করার থাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×