সংযমের মাস বলেই কিছু কথা বিশেষভাবে লিখার ইচ্ছে হলো। রোজার মাসকেই মূলত সংযমের মাস বলা হয় । এই রোজাকে সামনে রেখেই কিছু লিখে জনসচেতনতা বাড়াতে চাই। এর ফলে সারা বছরের ১২ মাসের মধ্যে কমপক্ষে একমাস আমরা ভাল থাকতে পারি। যদিও লেখা গুলো অনেকের পছন্দ হবে না পেশাগত কারনে। তার পরও বিষয় গুলো জেনে রাখা ভাল । কারন এবিষয় গুলোর মাধ্যমে আমিসহ সকল সাধারন মানুষের প্রতি কিছু দায়ীত্ব পালন হবে বলে আমি মনেকরি । আগামীকাল থেকে শুরু হতে যাওয়া সংযমের (যদি আজ চাঁদ দেখা যায়) মাসে আমারা একটু আলাদা থাকতে চাই ।
এই আলাদা থাকার জন্য কিছু পরিবর্তন দরকার । এই পরিবর্তন গুলো নিয়ে নিচে কিছু বিষয় তুলে ধরছি ।
১. চাকুরীর ক্ষেত্রে সংযম: হ্যা চাকুরীর ক্ষেত্রে আবার সংযম কিসের? এ প্রশ্ন অনেকেই করতে পারে । চাকুরীর ক্ষেত্রে সংযম মানে অফিস সময় ৯-৫ থেকে ৯-৩ টা নয়। বিশেষ করে সরকারী চাকুরী যারা করেন তাদের মধ্যে যারা ঘুষ খেতে খুব পছন্দ করেন তারা ঘুষ খাওয়া থেকে নিজেকে বিরত রাখতে পারেন।
তাতে যে উপকারটা হবে তা হলো, হয়তো নিজের সম্পর্কে বুঝতে পারবেন যে সারা বছর ঘুষ খেয়ে নিজের ও দেশ-জাতির কিভাবে ক্ষতি করছেন। ফলে নিজেকে শোধরানোর একটা সুযোগ পাবেন। কেউ যদি আমাকে কোন কাজে সরকারী অফিসে যেতে বলে তখন আমার ভিতরে একটা অজানা অস্থিরতা কাজ করে।
আমার কাছে সরকারী অফিসে যাওয়াটা একটা অনেক বড় সাহসের বিষয় মনে হয় কারন একটা ধারনা চিরস্থায়ী ভাবে মনে দানা বেধে গেছে যে সরকারী অফিসে ঘুষ না দিলে কোন কাজ হয় না । তবে সত্যি কথা এই যে সরকারী অফিসে অনেক ভাল মানুষ আছেন যারা ঘুষ খাননা বা তা পছন্দ করেন না, আবার অনেকে আছেন যারা ঘুষ প্রিয় । মূলত: ঘুষপ্রিয় ব্যক্তিদের জন্যই সাধারন মানুষের মনে অস্থিরতা কাজ করে। তাই অন্তত: আগামী একমাস সবাই যারা ঘুষ খাই তারা নিজেকে ঘুস খাওয়া থেকে বিরত রাখি এবং প্রিয় সন্তান ও পরিবারকে হালাল খাওয়ার সযোগ করে দিই। কারন এই ঘুষ ফরমালিনের চেয়েও অনেক অনেক বেশী গুন ক্ষতিকর আমাদের সকলের জন্য । বিশেষ করে আমাদের সমাজের জন্য ও পরিবারের জন্য ।
আর তা না হলে, কে জানে কোন একদিন হয়তো আসবে যেদিন সকল ঘুষখোর একজোট হয়ে রাস্তায় নামবে আর শ্লোগান দিবে ’ঘুষ খাওয়া আমাদের অধিকার, আমরা সকল ঘুষখোর ঘুষ খাওয়ার জন্য দ্রুত বৈধতা চাই । বৈধতা না দিলে কঠোর কর্মসূচী দেওয়া হবে ।’
আর বেসরকারী অফিসে যারা কাজ করি তারা ভুয়া বিল তৈরী করা একমাসের জন্য বন্ধ করি আর সাধারন কর্মচারীদের বেতন-বোনাস সময়মত দেওয়ার জন্য মালিক শ্রেনীর সাথে দরকষাকষি করি (যার যার পদ থেকে যতটুকু করা সম্ভব)।
২. ব্যবসার ক্ষেত্রে সংযম: অনেকে প্রশ্ন করতে পারেন ব্যবসার ক্ষেত্রে আবার কিভাবে সংযম হতে পারে? এখানে নিত্যপন্য কেনা আর বেচাই তো ব্যবসার মূল কাজ। হ্যা কেনা আর বেচার পার্থক্যটা যেন জনগনের হাতের নাগালে থাকে । আকাশ-পাতাল ব্যবধান না থাকে ।
আবার এই রমজান মাসে একটি মৌসুমী ব্যবসা শুরু হবে তা হলো ইফতার বিক্রয়।
৩. ফলমূলের ব্যবসা:
৪. যাকাত-ফেতরা প্রদান:
৫. পরিবারের ক্ষেত্রে: আমরা যারা বিভিন্ন চাকরী বা ব্যবসা করি তারা আমাদের পরিবারকে অন্য যেকোন মাসের চেয়ে এই সংযমের মাসে একটু বেশী ভাল রাখার চেষ্টা করি তবে তা যার যার সামর্থ অনুযায়ী। আর যাদের ঘরে গৃহকর্মী আছে তারা গৃহকর্মীদের অন্য মাসের চেয়ে কম নির্যাতন করবেন। কমপক্ষে গৃহকর্মীদের ভাল-মন্দের খোজ খবর নিবেন। সর্বোপরি সকলের সাথে ভাল ব্যবহার করি যাতে কেউ আমাদের আচার-ব্যবহারে মন:কষ্ট না পায় ।
যারা কষ্ট করে আমার এ লেখা পড়বেন তাদেরকে বলব, আমার এ লেখার উদ্দেশ্য পাঠকপ্রিয়তা পাওয়া নয়, জনসচেতনতা সৃষ্টি করা মাত্র। ১জন মাত্র পাঠকও যদি আমার এ লেখা মন দিয়ে পুরোটা পড়ে কিছু শিখতে পারেন আর তার বিন্দু মাত্র প্রয়োগ করতে পারেন সেটাই আমার স্বার্থকতা। এই সাম হোয়ার ইন ব্লগে বিভিন্ন পেশার মানুষ আছেন যদি আমার লেখা কারো মন:কষ্টের কারন হয় তার জন্য আমি দু:খিত।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




