somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

৫ বছর বয়সে ধর্ষিতা হওয়া শিশুর চিঠি

১৮ ই নভেম্বর, ২০১৪ রাত ৯:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শিশুটির বর্তমান বয়স মাত্র আট বছর। তিন বছর আগে এমন এক ঘটনা ও অভিজ্ঞতা তার হয়েছে যার ফলে এক ধাক্কায় মনে বয়সটা বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর কেটে গেছে তিন বছর। কিন্তু বিচার পায়নি। কেউ তাকে ফিরে দিতে পারেনি স্বাভাবিক জীবন।




২০১১ সালের আগস্ট মাসের ঘটনা। ব্রিটেনের এসেক্সে এক দুপুরবেলা সারা ও পিটারের (ছদ্মনাম) একমাত্র মেয়েকে ধর্ষণ করে তাদেরই পরিবারিক বন্ধুর ১২ বছরের ছেলে। সেদিন ভয়ে-লজ্জায় কাউকে কিছু বলেনি সে। কিন্তু পরের দিন মাকে সব খুলে বলে। তার কথা মতো থানায় অভিযোগ করেন সারা ও পিটার। যদিও উল্টো নিজেদেরকেই হেনস্থা হতে হয়েছে পুলিশের হাতে।


গত দেড় বছর ধরে মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তাদের মেয়ে। ঘটনার পর থেকে সে মানসিকভাবে এতটাই বিপর্যস্ত যে অতটুকু বয়সে দিনের পর দিন ঘরের দরজা বন্ধ করে ভেতরে বসে থাকত। কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর তদন্তকারী দুই কর্মকর্তাকে সে একটি চিঠি লিখেছে। যেটা পড়লে বিশ্বের যে কোনও পুলিশের মাথা লজ্জায় হেঁট হয়ে যাবে।

তার চিঠির সরল অনুবাদ করলে যা দাঁড়ায়:

ডিয়ার স্যার,

যখন পাঁচ বছরের ছিলাম, তখন আমার সঙ্গে খুব বাজে একটি ঘটনা ঘটে। আপনাদের দায়িত্ব ছিল যাতে দোষী শাস্তি পায়। কিন্তু আপনারা আপনাদের কাজ ঠিক করে করেননি। আমায় খুব হতাশ করেছেন। খুব রাগও হচ্ছে আমার, আমি তখন ছোট্ট একটি মেয়ে ছিলাম। এখন আমার বয়স আট। এখনও পর্যন্ত সে কোনও শাস্তি পায়নি।

সে আমার থেকে বয়সে বড় ছিল বলেই কি আপনারা বুঝে-শুনে করেছেন? আমি আপনাদের বিশ্বাস করেছিলাম। ভেবেছিলাম এই মানসিক যন্ত্রণা থেকে আপনারা আমায় মুক্তি দেবেন। কিন্তু তা করেননি। ভাবতাম, পুলিশের কাজ বাজে লোকদের ধরে তাদের উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা। আপনারা তা করেননি। আশা করি আপনারা বুঝতে পারছেন আমি আপনাদের ওপর খুবই হতাশ।

আমার মনে হয় আপনাদের আমায় দুঃখ প্রকাশ করে একটা চিঠি লেখা উচিৎ। আমি যখন বন্ধুদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করি আমিও তাদের চিঠি লিখে দুঃখ প্রকাশ করি। আশা করি ভবিষ্যতে আপনারা এমন কাজ করবেন না। আশা করি, দোষী খুব শিগগিরই উপযুক্ত শাস্তি পাবে।


তথ্যসূত্র: এখানে
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গাজীপুর থেকে কক্সবাজার: চার বাইকে ছয় সহকর্মীর ১৪ ঘণ্টার নাইট রাইড অ্যাডভেঞ্চার

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:০২


আমি শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, থাকি সাভার এলাকায়। ভ্রমণের নেশা আর মোটরসাইকেলের প্রতি ভালোবাসা আমার দীর্ঘদিনের। আজ আপনাদের সাথে শেয়ার করব গাজীপুর থেকে কক্সবাজার হয়ে টেকনাফ ও শাহপরীর দ্বীপের দিকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

Personal Cancer Vaccine: আশার আলো দেখাচ্ছে

লিখেছেন কলাবাগান১, ২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৩২


আপনি কি কখনও চিন্তা করে দেখেছেন যে ক্যান্সার টিউমারকে কেন শরীর এর রোগ প্রতিরোগ করা ইমিউন সেল (যেমন টি সেল) একেবারে ধ্বংস করতে পারে না!!! যেখানে টি সেল... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের শাহেদ জামাল- ১০০

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৮



মাঝে মাঝে খুব অবিশ্বাস্য ব্যাপার সহজ ভাবে ঘটে যায়।
এই যে আমি শাহেদ। শাহেদ জামাল। রমিজ উদ্দীনের ছেলে। আমাকে একটা ঘরে বন্ধী করে রাখা হয়েছে। ছোট ঘর। ঘরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিশুর নিরাপত্তা কোনো প্রতিষ্ঠানের সুনামের চেয়ে বড়

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:০২



শিশুর নিরাপত্তা কোনো প্রতিষ্ঠানের সুনামের চেয়ে বড়

গতকাল এক বাবার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। অভিযোগ, তাঁর মেয়েকে একটি মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল যৌন নিপীড়ন করেছেন। বাবার প্রতিক্রিয়া সঠিক ছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশটাতো এখন রাজাকারদের....

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:২৮




একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে বাদী ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী (৮৭)। মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়ার প্রস্তুতি চলার সময় জামাতের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×