somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

‘নিরপেক্ষ রেফারির’ ভূমিকা থেকে সেনাবাহিনীর সরে আসার নেপথ্যে

২৮ শে এপ্রিল, ২০১৫ সকাল ১১:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




আজকে নির্বাচন কেমন হচ্ছে তা ফেসবুকে না বসলে বোঝা যাবেনা। ড: এমাজ উদ্দিন আহমদের মত মানুষ লাঞ্ছিত হয়েছেন। তাই নির্বাচন কেমন হচ্ছে তা নিয়ে কিছু বলার দরকার নেই।

বর্তমান সরকার টাকা, জমি, বিভিন্ন নির্মাণ প্রকল্পের চুক্তি এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে সশস্ত্রবাহিনীকে নিয়ন্ত্রণে রাখছে। ব্রিটেনের প্রভাবশালী দৈনিক ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসে গত রোববার প্রকাশিত এক নিবন্ধে এ মন্তব্য করা হয়। “Bangladesh army funded to forget its role as neutral referee” শীর্ষক নিবন্ধটিতে বলা হয়েছে, কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশে বিবদমান রাজনীতিবিদদের মধ্যে চাপ বাড়লে এবং বিষ্ফোরোন্মুখ সহিংসতায় দেশের স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়লে তাদের নির্ভরযোগ্য একটি নিরাপদ স্থান ছিল। পরবর্তী নির্বাচন আয়োজনের জন্য সমাধানটা আসতো মূলত অন্তবর্তীকালীন একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে, যে সরকারের প্রতি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সশস্ত্রবাহিনীর সমর্থন থাকত। কিন্তু এই মুহূর্তে যখন সবচেয়ে বেশি দরকার তখন দক্ষিণ এশিয়ার ১৬ কোটি মানুষ অধ্যুষিত দেশটির সেই ভরসাস্থল আর অক্ষুণœ নেই। বর্তমানে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার ২০১৪ সালের জানুয়ারি মাসে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি নাকচ করে দেয় এবং এর অনিবার্য ফল হিসেবে ক্ষমতায় আসে। এরপর টাকা, জমি, বিভিন্ন নির্মাণ প্রকল্পের চুক্তি এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দেয়ার মাধ্যমে সশস্ত্রবাহিনীকে বাগে আনতে সক্ষম হয়। নতুন নির্বাচনের দাবিতে গত চার মাস ধরে সহিংস অবরোধ ও রাজপথে প্রতিবাদ করে ব্যর্থ হওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দল বিএনপি এবং তাদের মিত্র জামায়াতে ইসলামী বিশেষভাবে সরকারি নিষ্ঠুরতার শিকার হয়েছে। অবরোধে শতাধিক মানুষ মারা গেছে, স্কুল-কলেজ বন্ধ ছিল এবং দেশটির গার্মেন্ট খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ‘খালেদা জিয়ার কৌশল হচ্ছে সেনাবাহিনীকে মাঠে নামানো’, বলছিলেন বাংলাদেশি একজন নেতৃস্থানীয় বিশ্লেষক। যিনি নিপীড়নের ভয়ে তার নাম প্রকাশ না করতে অনুরোধ করেছেন। তিনি বলেন, ‘সহিংসতার মাত্রা আপনাকে এমন একটি পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে যাতে শৃঙ্খলা ফেরানোর জন্য হস্তক্ষেপ করাকে সেনাবাহিনী নিজেদের জন্য বাধ্যতামূলক মনে করে।’ এটা বুঝতে পেরে শেখ হাসিনা সেনাবাহিনীকে মিগ (যুদ্ধবিমান), সাবমেরিনসহ যাতবীয় জিনিসপত্র কিনে দিচ্ছেন, ক্যান্টনমেন্টের জন্য জায়গা বরাদ্দ দিচ্ছেন। তিনি এই বাহিনীর মধ্যে এমন ক্ষুধা তৈরি করছেন যে তা নিবারণ করতে ভবিষ্যৎ সরকারগুলোকে খুবই বেগ পেতে হবে। তারা চাচ্ছে কিন্তু পাচ্ছে না এমন কিছু নেই। বাংলাদেশ রাশিয়া এবং চীন থেকে ভর্তুকিমূল্যে সমরাস্ত্র কিনছে এবং গত ছয় বছরে দেশটির প্রতিরক্ষা বাজেট দ্বিগুণ বাড়িয়ে ১৬ হাজার কোটি টাকার উপরে তোলা হয়েছে। তবে সরকারিভাবে প্রতিরক্ষা খরচ গ্রহণযোগ্যভাবে জিডিপির মোটামুটি ১.৪ শতাংশই আছে বলে দেখানো হচ্ছে। সরকার বলছে, ২ লাখ ৬০ হাজার সদস্যের শক্তিশালী এই সেনাবাহিনীর ক্যু করার কোনো ইচ্ছা নেই। বাহিনীটি জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে সবচেয়ে বড় অংশগ্রহণকারী হিসেবে লাভবানও হচ্ছে। শেখ হাসিনার উপদেষ্টা এইচটি ইমাম বলেন, ‘এটা এমন কিছু যা সেনাবাহিনী হারাতে চাইবে না।’ তবে হাসিনার বিরোধীরা তার সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ওপর ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের’ অভিযোগ তুলে এসবের সাথে জড়িত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদেরকে শান্তি মিশন থেকে প্রত্যাহার করার আহ্বান জানিয়েছেন। বিএনপি নেতা এবং সাবেক সেনাপ্রধান মাহবুবুর রহমান অবশ্য পেশাদারিত্বের ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর পক্ষাবলম্বন করে বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা হুমকিতে পড়লেই শুধু দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সেনাবাহিনী রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করতে পারে। তবে তিনি এ বিষয়ে একমত যে, শুধু সিনিয়র কর্মকর্তাদের পদোন্নতির ক্ষেত্রেই উদারতা নয়, হাসিনা সরকার সশস্ত্রহিনীকে তাদের পক্ষে রাখতে আর্থিকসহ অন্যান্য সুবিধাও দিচ্ছে। মাহবুব জানান, সেনাপ্রধান থাকা অবস্থায় বাহিনীতে তিনিই ছিলেন একমাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল, সেখানে বর্তমানে আছেন ছয়জন। তিনি বলেন, ‘এই সরকার সেনাবাহিনীকে জনশক্তি, অস্ত্র-সরঞ্জাম সবদিক থেকেই আসলে বড় করেছে। বর্তমানে সেনাবাহিনীর জন্য অনেকগুলো কল্যাণমূলক প্রকল্প রয়েছে। বেতন-ভাতাও আগের চেয়ে ভালো।’ বিএনপির কিছু নেতার পাশাপাশি স্বতন্ত্র বিশ্লেষকরাও এই উপসংহারে আসছেন যে, অপরাধ দমনে কাজ করা এবং বিরোধীদের ওপর নিপীড়ন চালানোর অভিযোগে অভিযুক্ত এলিট ফোর্স র‌্যাব থেকে শুরু করে সেনাবাহিনীর মূল গোয়েন্দা সংস্থা এবং অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর প্রত্যেক শাখার সাথে বোঝাপড়ার মাধ্যমে অন্তত বর্তমান সময়ের জন্য হলেও শেখ হাসিনা খালেদা জিয়াকে অনেকটা ধরাশায়ী করে রেখেছেন। সম্প্রতি সেনাবাহিনীর মালিকানাধীন একটি নির্মাণ কোম্পানিকে সড়ক নির্মাণের চুক্তি এবং আবাসনের জন্য জমি বরাদ্দ দেয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ঢাকার একজন বাংলাদেশি পর্যবেক্ষক বলেন, ‘প্রকৃত অর্থে এটি সেনা-সমর্থিত হাসিনা সরকার।’ ট্রাস্ট ব্যাংক নামে সেনাবাহিনীর নিজস্ব ব্যাংকও আছে। ‘তারা (সরকার) বিএনপিকে ঘায়েল করে রেখেছে। ক্ষমতা ব্যবহার করে নয়, বরং টাকার ভাগ দিয়ে সেনাবাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হাতে নিয়ে নিয়েছে’, ওই পর্যবেক্ষক বলেন। বাংলাদেশের রাজনীতি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ অন্য একজন মনে করেন এর অবশ্যম্ভাবী ঝুঁকি রয়েছে। তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনী বিশাল সুযোগ সুবিধা ভোগ করায় অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। দেশে গণতন্ত্র টিকে থাকার ক্ষেত্রে এটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিকর।’

তাহলে জনগন কি বাংলাদেশের কেউ না! তাদের কোন অধিকার নেই?


তথ্যসূত্র: এখানে পাওয়া যাবে
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×