somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একজন নাজাতের বদলে যাওয়া জীবন!

১৭ ই এপ্রিল, ২০১৬ রাত ৮:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



নাজাতের জীবন যেন রূপকথার গল্পের চেয়ে বেশী রোমাঞ্চকর। ১৯৭৭ সালের ৪ অক্টোবর উত্তর মরক্কোর এক পাহাড়ী অঞ্চলে নাজাতের জন্ম। যেখানে মানুষের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন হচ্ছে মেষপালন। সাত ভাইবোনের মধ্যে দ্বিতীয় নাজাতের বেড়ে ওঠাও মেষ প্রতিপালন করে। এমনি ভাবেই মরক্কোর এক দরিদ্র মুসলিম পরিবারে স্বাভাবিক নিয়মে কাটছিলো তাঁর শৈশবের জীবন। তারপর, নাজাত স্মরণ করে সেই দিনটি যেদিন তাঁর পরিবার বড়বোন ফাতিহা আর তাকে নিয়ে নতুন জীবনের আশায় ফ্রান্সে চলে আসে। ফ্রান্সে শুরু হলো এক ইমিগ্রান্ট মুসলিম পরিবারের নতুন সংগ্রামমূখর অধ্যায়।

প্রতিটি স্কুলে অসাধারণ সব রেজাল্ট করে মেধাবী নাজাত পার হতে লাগলো সাফল্যের একেকটি ধাপ। ২০০২ সালে সে Institut d'études politiques de Paris থেকে Political Studies এ ডিপার্টমেন্টের সেরা ছাত্রী হিসাবে গ্রাজুয়েশন এবং রাষ্ট্রীয় সম্মানজনক পদক লাভ করে। তারপর ঐ বছরই Socialist Party তে যোগদান। এরপর ২০০৪ সালে ফ্রান্সের Culture Commission'র চেয়ারম্যান এবং ২০০৫ সালে Socialist Party'র এ্যাডভাইজার হিসাবে যোগদান। ২০০৮ সালের নির্বাচনে ৫৮.৫২% ভোট পেয়ে conseillère générale নির্বাচিত।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ ১৬ই মে ২০১২ সালে Minister of Women's Rights হিসাবে মন্ত্রীপরিষদে নাজাতকে নিয়োগ দেন। তাঁর জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় দিনটি হলো-২৫ শে আগস্ট ২০১৪ সাল। সেদিন তিনি ফ্রান্সের প্রথম মহিলা শিক্ষামন্ত্রী হিসাবে নিয়োগ পান।

খেয়াঘাটের মাঝির সন্তান, শৈশবের এক পত্রিকার হকার থেকে ভারতের প্রেসিডেন্ট আব্দুল কালাম কিংবা কেনিয়া থেকে ইমিগ্রান্ট হয়ে আসা এক দরিদ্র পরিবারের সন্তান আর ইন্দোনেশিয়ার মক্তবে শৈশব কাটানো আমেরিকার বর্তমান প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আর মরক্কোর রাখাল বালিকা থেকে ফ্রান্সের প্রথম মহিলা শিক্ষামন্ত্রী নাজাত-এদের জীবন কাহিনী যেন রুপকথার গল্পকেও হার মানায়। অদম্য ইচ্ছাশক্তি, মেধা, পরিশ্রম, অধ্যবসায় আর যোগ্যতায় মানুষ কিনা করতে পারে। মেঠোপথ থেকে উঠে আসা জীবনজয়ী এসব মানুষের দেখানো আলোর পথ কোটি কোটি স্বপ্নশিকারী তারুণ্যের জন্য অনুপ্রেরণা, শক্তি, সাহস আর দীপ্ত মনোবলের এক অনুপম দৃষ্টান্ত।


সূত্র: Najat Vallaud-Belkacem (wikipedia) & bdlive24
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই এপ্রিল, ২০১৬ রাত ৮:২৮
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ১৯৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০



আর্জেন্টিনা দুই গোল খেয়ে গেছে!
মেসি পেনাল্টি মিস করেছে। এদিকে খেলা অর্ধেক শেষ। তখনও আমি বলেছি, আর্জেন্টিনা জিতবে। কোনো চিন্তা নাই। প্যারা নাই। চিল। হ্যা আমার কথাই সত্য হয়েছে। আর্জেন্টিনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

এদেরকে না রুখলে চড়া মূল্য দিতে হবে

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৬



মাহবুব আজিজ, আনিস আলমগীর, সোমা ইসলাম, শাওন, মঞ্জুরুল পান্না, শম্পা রেজা, কালচারাল ফ্যাসিস্ট ফরিদুর রেজা শাইখ সিরাজ এদেরকে এখনই বন্ধ করতে হবে না হলে বাংলাদেশকে চড়া মূল্য দিতে হবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

কত ভেবেছি, আমাদের একদিন দেখা হবেই

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৯

কত ভেবেছি,
আমাদের একদিন দেখা হবেই।
হয়তো হঠাৎ সামনে এসে
আমাকে চমকে দেবে।
হায়,
ওরা কেন জানালো,
পৃথিবীতে
তুমি আর বেঁচে নেই!

কত ভেবেছি,
চলতে চলতে পথে
সামনে একটা রিকশা থেমে যাবে।
কী মোহন ভঙ্গিমায়
রাজাসনে বসে আছো তুমি,
রোদে ভেজা মুখ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পি ভি নরসিমা রাও - ভারতের অর্থনৈতিক সংস্কারের জনক

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৪৩



পি ভি নরসিমা রাও ১৯৯১ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তৎকালীন ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় যে ঐতিহাসিক সংস্কারনীতি গ্রহণ করেন, তা "এলপিজি সংস্কার" (LPG Reforms - Liberalisation,... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব দোষ গাজী সাহেবের!

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ২:৫৩



ধরেন, এখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে। শেখ হাসিনা সংসদ ভবনের সামনে ভারতের স্বাধীনতা দিবস জাঁকজমক করে পালন করলেন। ভারতের শীর্ষ নেতা এলেন, ভারতের পতাকা উড়ল...

এখন চুপ করে থাকা পাকিস্থানপন্থীরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×