somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রমেল চাকমা মানুষের বাচ্চা না !

২৪ শে এপ্রিল, ২০১৭ রাত ১২:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কল্পনা চাকমা সেই কবে জলপাই রঙের চার চাক্কার কী এক অতি আশ্চর্য বাহনে করে উড়তে উড়তে কোথায় চলে গেছেন !
এতদিনে জনতার শুধু বাহনের রঙটা মনে আছে । বাকীসব ভুলে গেছে ।
কোথায় গেছেন ? স্বর্গে না নরকে ? তা কেউ বলতে পারবে না । তবে এমন কোথাও গেছেন যা শুধু মানুষের কল্পনায় অস্তিত্বশীল । কল্পনা চাকমা কল্পরাজ্যে চলে গেছেন । সেই কবে । পৃথিবী ছেড়ে যাবার সময় তাকে ঘিরে ছিল একদল কি জানি ! পায়ে সশব্দ বুট, গায়ে জলপাইরঙের ইউনিফর্ম । ওরা ফেরেশতা না শয়তান, দেবতা না অসুর- এটা নিয়ে তর্ক আছে, মীমাংসা নেই । তবে কল্পনা চাকমাকে সুপারন্যাচারেল পাওয়ারের মাধ্যমে যেভাবে ওরা মুহূর্তেই পৃথিবী থেকে কল্পরাজ্যে পাঠিয়ে দিয়েছিল, তা দেখে জনতা নিশ্চিত, ওরা ঈশ্বরের নিকটবর্তী কেউ ।
কল্পনা চাকমার পর এবার রমেল চাকমা । সেই জলপাই রঙের অতি আশ্চর্য বাহন । সশব্দ বুট । জলপাইরঙের ইউনিফর্ম । অদ্ভুত অজ্ঞাত ওরা ! ওরা ঘিরে ধরেছে রমল চাকমাকে আর রমেল চাকমাও গায়েব ।

জনতার মধ্যে যারা চোখ মেলে আছে তারা ঘটনাটা বিশ্বাস করে । আর চোখ মেলেও আন্ধা তারা শুধু অবিশ্বাসের অন্ধাকারেই দেখছে চারদিকে !
বিশ্বাস-অবিশ্বাসের মিশ্রণে আলোচনা কিন্তু একটাই । রাস্তায়-হাঁটে-ঘাটে-চায়ের টেবিলে সবখানে শুধু— রমেল চাকমা !
দেশে, দেশের সীমানা পেরিয়ে দেশের বাইরেও ।
অফিস সেরে প্যারিসের লনলি অ্যাপার্টমেন্টে টিভি সেট খুলে প্রবাসী বাঙালি বলে ওঠে— জেসাস খ্রাইস্ট !
হ্যাঁ, জেসাস খ্রাইস্ট ! জেসাস খ্রাইস্ট আর রমেল চাকমা । দুইজনেই ঈশ্বরের সন্তান ! ঈশ্বরের কাছেই ওরা সবচে’ নিরাপদ । তাই বোধহয় যিশুর মত রমেলকেও ঈশ্বর নিরাপদে নিয়ে গেছেন ! তাছাড়া, পাহাড়-টাহাড়ে এখন যে পরিমান এনাকোন্ডার উৎপাত । এনাকোন্ডার পেটে যাওয়ার আগে ঈশ্বর নিয়ে গেলেন । ভালোই হল !
প্যারিসের লনলি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে এবার ফিরে আসি শাহবাগের পানশালায় ।
চার প্যাগ হুইস্কি মারা শেষে পঞ্চম প্যাগে জনপ্রতিনিধি ঢেকুর তোলে !
আজকাল কী হচ্ছে এসব, বুঝি টুঝি না । কেয়ামত বোধহয় সামনে ! অবৈধ ব্যালেন্স যা আছে দ্রুত খোদার ব্যাংক-অ্যাকাউন্টে পাঠায়া দে ! দোযখে জ্বলতে চাই না ! আমলনামা ক্লিন রাখতে হইব ।
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ জনপ্রতিনিধির ডান কাঁধে ভরসার হাত রেখে বলে— গুজব ! স্রেফ গুজব স্যার ! পাহাড়ে তো সব আদিম স্যাভেজগুলা থাকে । ওদের প্রতি সিম্প্যাথি দেখাইতে গিয়া দেশের মানুষগুলা সব মধ্যযুগের আন্ধারে ডুবে যাচ্ছে ! কুসংস্কারাচ্ছন্ন পাবলিকরে সচেতন কইরা তুলতে হবে ।
তারপর শিক্ষাবিদ তার আগামিকালের পত্রিকার কলামের জন্য একটা হট এন্ড সেক্সি টাইটেল ঠিক করে : পৃথিবীটা কবে সভ্য মানুষের কবলে আসবে ?
পানশালা থেকে চলে আসি শাহবাগে মোড়ের টি স্টলে । রাতজাগা বিপ্লবীদের আড্ডায় । বিপ্লবীদের প্রায় সবার টি শার্টের বুকে কিংবা পিঠে ঝুলন্ত ব্যাগে চে গুয়েভারা ছবি । চে বিপ্লবী, তারাও বিপ্লবী । কিন্তু রমেল ! রমেল চকমা কে !
আহা নিরীহ বেচারা ! বুর্জোয়া শালারা আর কতকাল নিরীহদের গিলে খাবি ! বিপ্লবীরা জড়ো হয় । ৭০-৮০ জন । মিছিল হয় । সমাবেশ হয় । মোমবাতি হাতে স্লোগান ওঠে, জ্বালো, জ্বালো ... । মিছিল বিশ কদম এগুলো ৫৫০ জনের পুলিশ ফোর্স ঝাপিয়ে পড়ে ৮০ জনের উপর ।
এবার চলে আসি আমি যেখানে বাদুড়ের মত ঝুলছি । জ্যামরত লোকাল বাস । আধঘণ্টা আটকে আছে ! কিন্তু উপায় নাই, ঝুলে আছি । নামলেই অন্য কেউ ঝুলে পড়বে আমার এখানে । যাত্রীদের উত্তম-মধ্যম গায়ে পড়ার আগে হেল্পার জোরে জোরে হাঁকায়- রমাল ! রমাল চাইকমার খুনের প্রতিবাদে মিছিল চইলতাছে !
খুন ! বাসের জনতা তাজ্জব হয়ে যায় ।
ধরলাম, যা শুনছি । যা দেখছি । সব গুজব । ভুয়া ।
তবুও... খুন ! মানা যায় না । প্রতিটা খুনের পিছনে এক বা একাধিক খুনি থাকে । খুনিকে ধরবার জন্য আইন থাকে, আইন অনুযায়ী চেষ্টা চলে ! গুম করে দিলেও পৃথিবীর কোথাও না কোথাও খুন হওয়া লাশটার বস্তুগত অস্তিত্ব থাকে । সে লাশ ধরে কেউ না কেউ কাঁদে । কাঁদাকাঁদি শেষে কাঁধে ভর করে শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয় ! নয়লে সোজা চিল বা শকুনে খেয়ে ফেলে ।
কিন্তু রমেল চাকমার বেলাই তো এসবের কিছুই ঘটল না ।
তয়লে ?
জনতা হতভম্ভ ।
কিন্তু ... কিন্তু মানুষ ছাড়া অন্যকিছুর বেলায় ? ধরেন, একটা ছারপোকা !
হ্যাঁ, সেটাই । জনতা একমত হয়— রমেল আর যাইহোক, মানুষের বাচ্চা না !
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে এপ্রিল, ২০১৭ রাত ১২:২১
১৬টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"নিজেদের কেলেঙ্কারিই যখন নিরাপদ নয়, প্রধানমন্ত্রী কতটা নিরাপদ"

লিখেছেন রিয়াজ হান্নান, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:২৭


মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রিয় তারেক রহমান রাহিমাহুল্লাহ,আপনাকে সবার আগে বাংলাদেশের জন্য ভালোবাসি। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি আপনার আশেপাশের লোকেরা কেলেংকারির সাথে জড়িত,এরা আবার ইলিয়াসের আগেই নিজেকে নিজে এক্সপোজ করে দেয়।

এরা নিজেরাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের আধিপত্যবাদী নীতি

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৫২

নেপাল সেনাবাহিনীর সম্মানসূচক জেনারেল পদমর্যাদা সম্প্রতি ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠকে দেওয়াকে কেন্দ্র করে আমাদের দেশের কিছু সংবাদ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি করেছে ।
গত ১৭ আগস্ট নেপালের রাজধানী... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোলাপী এখন বাসে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:২০


দেশে আজ থেকে পিংক বাস সার্ভিস চালু হয়েছে। ঢাকা সহ আরও তিনটি বড় শহরে এই বাস চলবে। খবরটা শুনে মনে হলো, দেশ যেন হঠাৎ করেই এক ধাপ আধুনিক হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

"বহু দিন পর বন্ধু"

লিখেছেন সনজিত, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


বহু বছর পর হঠাৎ তোর সঙ্গে দেখা।
প্রথমে চিনতেই পারিনি।
তারপর একচিলতে হাসি-
মনে হলো,
সময় আমাদের চেহারা বদলেছে,
কিন্তু শৈশবের মুখটা এখনো একই রয়ে গেছে।

চোখের কোণে ক্লান্তির রেখা,
চুল অর্ধেকটা সাদা রং,
কাঁধে সংসার,... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×