তখন ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারে পড়ি । বই পড়ার নেশাটা ভালো জমে উঠেছে । যেখানে যা পাই গোগ্রাসে গিলি । বুঝি না বুঝি গিলতে থাকি । কাটা তো আর নয় যে গলায় বিঁধবে ।
হাতে কিছু টাকা জমলে ছুটে যাই বইয়ের দোকানে । সেলফে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখি । নামাই । পাল্টা উল্টাই । গন্ধ শুকি । কিন্তু যে পরিমান টাকা থাকত তাতে ৯০ ভাগ পছন্দের বই-ই কিনতে পারতাম না । কিন্তু বইয়ের স্পর্শের মধ্যে আলাদা একটা রোমাঞ্চ আছে ! এটা টের পেতাম ।
যাই হোক । আমার শহরতলীর যে দোকান থেকে বই নিতাম, সেখানে সব টাইপের বই-ই পাওয়া যেত । ধর্মগ্রন্থ-সাহিত্য-চটি সব । তবে সবচে যে লেখকের বই বেশি চোখে পড়ত তার নাম কাসেম বিন আবু বাকার ।
বুঝতাম বাজারে ইনার চাহিদাই বেশি । কিন্তু কখনো কেনা হয়ে ওঠে নি ।
তবে কালেক্ট করেছিলাম । আমার বন্ধু সজীবের কাছ থেকে । বেশ কয়েকটা । বেশ ঝাঁঝালো রসালো সব শিরোনাম । ‘ফুটন্ত গোলাপ’, ‘পাহাড়ি ললনা’, ‘প্রেম যেন এক সোনার হরিণ’ ‘বাসর রাত’ ইত্যাদি ইত্যাদি । বুঝতেই পারছেন, নিষিদ্ধ গন্ধটা ওই বয়সে ছেলেদের খুব টানে ।
পড়তে বসলাম । পড়তে গিয়ে পুরাই হতাশ । ধর্ম-হাদিস-কোরান-প্রেম-কাম-পরকীয়া সব একাকার হয়ে যাচ্ছে । খালি পাতা উল্টাচ্ছি । কিন্তু পাতার মধ্যে যে ‘সাহিত্যের খেলা’ বলে কিছু একটা হচ্ছে তা টের পেলাম না । ক্যামনে ইনি এত জনপ্রিয়তা পেলেন !
ততদিনে আমার ‘ চাঁদের পাহাড়, ‘বড়দিদি’, ‘দেবদাস’, এমনকি তারাশঙ্করের ‘কবি’ ও পড়া হয়ে গেছে । সুতরাং ওই ঝাঁঝালো রসালো ব্যাপারটা আমাকে দ্বিতীয়বার টানল না !
আজ দেখছি ওনাকে নিয়ে আলোচনা হচ্ছে পাঠকমহলে । কারণ একটাই ওনার বাজার চাহিদা । বেশি কপি বিক্রি ।
আবার কেউ কেউ দেখছি ওনার বইয়ের বস্তা নিয়ে সাহিত্যের দুয়ারে ঠকঠক করে দরজা নাড়াচ্ছে । হাজার হাজার কপি বিক্রি হচ্ছে । পাঠককে নাড়া দিচ্ছে । নড়তে নড়তে পাঠকের এমন অবস্থা যে ভাইঙ্গা-চুইরা খান খান হয়ে যাচ্ছে । হুমায়ূন জায়গা পাইলে কাসেম কী দোষ করল !
হ্যাঁ, হুমায়ূনের বাজার-চাহিদা ছিল । এটা সত্য । কিন্তু হুমায়ূনের লেখায় ‘সাহিত্যের খেলা’ বলে কিছু ছিল । যা কাসেমের লেখায় আমি পাই নি । আর লেখক জনপ্রিয়তার বিচারে যদি সাহিত্যের মান ধরতে যান, তয়লে রসময়গুপ্তকে কেন বাদ রাখলেন । অফলাইন জেনারেশনের এমন কাউকে পাওয়া যাবে না, যে বালিশের নীচে লুকিয়ে তার চটির আদিরস আস্বাদন করে নাই !
লিখলেই তো লেখক হওয়া যায় । কিন্তু সাহিত্যিক হতে হলে ভিন্ন একটা কিছু থাকা লাগে । খালি বাজার বুঝলেই চলে না !
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ ভোর ৪:১১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



