somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মবসংস্কৃতি : জননিরাপত্তার সংকট

১৩ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মব এখন আর কোনো বিচ্ছিন্ন সন্ত্রাসী ঘটনা নয়। এটার বিস্তার ঘটে চলেছে সামাজিক রাজনৈতিক জীবনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে। ব্যক্তিক কিংবা সামষ্টিক স্বাধীনতার মূলে আঘাত হানবার সবচে' মোক্ষম অস্ত্র এখন মব। এই মব এখন নিজেকে উগ্র ডানপন্থী রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। এই মব এমনই বর্বরোচিত রূপ ধারণ করেছে যে, নিজেকে সভ্য জগতের মানুষ হিসাবে কল্পনা করতে পারি না!

গণ-অভ্যুত্থানের অগ্নিগর্ভ থেকে যেখানে জন্ম নেওয়ার কথা ছিল স্থিতিশীল, বৈষম্যহীন, মানবিক মর্যাদায় সমুন্নত নতুন বাংলাদেশের— সেখানে আমরা দেখলাম একটা উগ্রপন্থী শক্তির হঠাৎ হিংস্র আস্ফালন। প্রশাসনিক পদ দখল থেকে শুরু করে রাজনৈতিক সাম্প্রদায়িক ভিন্নমতাবলম্বী ব্যক্তিদের অপদস্থ করা থেকে শুরু করে মধ্যযুগীয় কায়দায় মানুষ পিটিয়ে মারার উৎসব— সবই যেন মবতন্ত্রের নিত্যনৈমিত্তিক চর্চা। এখন প্রশ্ন, এই মবকে প্রতিহত করে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব যাদের হাতে, তারা কী করছে?

একটু পিছনে ফিরে দেখা যাক। ২০২৪ এ জুলাই-অভ্যুত্থানের পর আমরা যে সরকার পেলাম। সেই সরকারের প্রেস সচিব মবকে চিহ্নিত করেছেন 'প্রেশার গ্রুপ' হিসাবে। অর্থাৎ মব যেন একটা জনবান্ধব শক্তি, যারা জনগণের অধিকার আদায়ে রাষ্ট্রযন্ত্রের উপর চাপ প্রয়োগ করছে। সরকারের উচ্চপদে আসীন ব্যক্তির এমন মন্তব্য মবকে শুধু উস্কে দেয় নি, বরং পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছিল। দীপুচন্দ্রকে পিটিয়ে উলঙ্গ করে পুড়িয়ে মারা সেই দৃশ্য যে-কোনো সুস্থ মানুষের চেতনার মর্মে চপটাঘাত করবে। একজন ওসমান হাদিকে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে একজন দীপু দাসকে অঙ্গার হতে হয়েছিল! রাষ্ট্র ছিল নির্বিকার।

শুধু জীবিত মানুষই নয়, মৃত লাশও মবের হাত থেকে রেহাই পায় নি। নুরাল পাগলার লাশ কবর থেকে তুলে আগুনে জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছিল। মাজারপন্থি, সুফি, বাউল, ফকির, জাতিগত সংখ্যালঘু, ধর্মীয় সংখ্যালঘু মানুষই মব-সন্ত্রাসের প্রধান টার্গেট। কিন্তু কেন? কারণ, এই মানুষগুলো যা যা বিশ্বাস করেন, যা চিন্তা করেন, জীবনে যেসব আচার চর্চা করেন, সেগুলো একটা গোষ্ঠীর মতবাদ প্রতিষ্ঠায় বাধা দেয়, তাদের কায়েমি স্বার্থকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, তাদের আফগানিস্তানের মতো রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাকে প্রায় অসম্ভব করে তোলে। যারা জোর করে ফ্যাসিবাদের মতই জনতার উপর তাদের মতকে চাপিয়ে দিতে চায়।

আমার খারাপ লাগে আবু সাঈদের জন্য। তার বুকই ছিল বাংলাদেশের হৃদয়! দুই হাত প্রসারিত করে ছেলেটা একটা জনতাকে মুক্তির রাস্তা চিনিয়ে দিয়ে গিয়েছিল, বিষণ্ণ লাগে মীর মুগ্ধের জন্য, যার মাথাকে বুলেটবিদ্ধ করে নোয়ানো যায় নি মাথা তুলে দাঁড়াবার স্পর্ধাকে।

জুলাই গেল, ইউনূস গেল, নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক উত্তরণ হল। কিন্তু মব? মব গেল না। শাহবাগ থেকে কুষ্টিয়া। পর পর দুদিন। কোথাও লাঞ্চনা, কোথাও প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যা। বাবা শামীমের হত্যাকাণ্ডের পরবর্তী শিকার কে? তারপর কে?
না। এভাবে চলতে দেয়া যায় না। রাষ্ট্র যদি এই মব-সংস্কৃতি নির্মূল করতে না পারে, তবে কি এই রাষ্ট্রকে ব্যর্থ রাষ্ট্র বললে ভুল হবে? একটা রাষ্ট্রের কাছে একজন নাগরিকের প্রধানত মৌলিক যে চাওয়া, তা হল নিরাপত্তা। শুধু রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণদের নিরাপত্তা নয়, জননিরাপত্তা। সেই জননিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ সজাগ হোন। মব-সংস্কৃতির বিষবৃক্ষকে উপড়ে ফেলে দেশের জননিরাপত্তাকে সুসংহত করতে না পারলে আপনারা মব দ্বারা সৃষ্ট হত্যাকাণ্ডের শিকার আত্মাগুলো আপনাদের অভিশাপ দিবে । আক্রান্ত জীবন্ত হৃদয়গুলো ক্ষমা করবে না!

সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৫৫
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথঃ দ্য আয়নাঘর ফাইলস"..

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৯

"আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথঃ দ্য আয়নাঘর ফাইলস"
-একজন গুমের শিকার মানুষের চোখে একটি ভয়াবহ সত্যের দলিল।

“আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথ: দ্য আয়নাঘর ফাইলস”- নামটি যতটা আকর্ষণীয়, বইটির ভেতরের সত্য তার চেয়েও বেশি নির্মম, বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষের অহংকার ও বুদ্ধিমত্তার ভ্রান্ত ধারণা

লিখেছেন শেরজা তপন, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৫২


উৎসর্গঃ ব্লগার রাজীব নুর( ঈশ্বর বিশ্বাসের কোল ঘেঁষে যাওয়া কোন লেখা এলেই যিনি লেখককে ভীষন সন্দেহের চোখে দেখেন- ভাবেন; কি অদ্ভুত কথা- ইনি দেখি ঈশ্বর বিশ্বাসী!!))
ধর্ম ও বিজ্ঞান: সংঘর্ষ না... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনার মত তারেক জিয়াও কি ভারতে ইলিশ পাচার করছে?

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:২৬



চলছে ইলিশের ভরা মৌসুম কিন্তু বাজারে কোন ইলিশ নেই.... ইলিশ নেই বললে ভুল হবে ইলিশ আছে কিন্তু উহা সাধারণ মানুষের ধরা ছোঁয়ার বাইরে। আওয়ামীলীগ আমলের ১৭ টি বছর... ...বাকিটুকু পড়ুন

~~~সংশয়~~~

লিখেছেন জটিল ভাই, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০৩

♦أَعُوْذُ بِاللهِ مِنَ الشِّيْطَانِ الرَّجِيْمِ (বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহ্'র নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি)
♦بِسْمِ ٱللَّٰهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ (পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহ্'র নামে)
♦ٱلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ (আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক)


(ছবি নেট হতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে “উপজাতি” নাকি “আদিবাসী”? আন্তর্জাতিক আইন ও ইতিহাসের নির্ভেজাল সত্য!​

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২৭


সূচনা ও প্রেক্ষাপট:
লেখক পার্বত্য চট্টগ্রামে ২০০১ সালে তিনি যখন সেখানে দায়িত্ব পালন করেন, তখন পাহাড়ি জনগোষ্ঠীকে 'উপজাতীয়' (Tribal) হিসেবে ডাকা হতো। কিন্তু ২০১৫-১৬ সালের দিকে সেখানে পুনরায় পোস্টিং পাওয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×