
আমি সেদিন ঢাকা ময়মনসিং এর রুটের বাসে উঠেছিলাম, এই বাস গুলো মহাখালী পর্যন্ত যায় আর এখানে ওখানে কম থামে একটানে বেশির ভাগ এই বাস গুলো চলে বলে সময় ও কম লাগে, উঠার পর দেখলাম একটাও বারতি সীট নেই। আমি অল্প কিছুক্ষন দাঁড়াবার পরই একদম সবার সামনের সীট এর একজন নেমে গেল, আমি সেখানে গিয়ে বসলাম।
বসতে বসতে হাল্কার উপর চোখে পড়লো ছুঁচোর মত চেহারার এক ছেলে বসে আছে, সকালে ঘুম থেকে উঠে হাত মুখ ধোয়া হয়নি বেশ কয়েকদিন এই রকম চেহারা, সচেতন ভাবে হোক আর অসচেতন ভাবে কেউ এর দিকে দ্বিতীয় বার ফিরে তাকাতে চাইবেনা, আমিও চাইনি। যতটা সম্ভব অন্যদিকে ঘুরে বসে আছি এমন সময় শুরু হল ছেলেটির ফোন আলাপ। প্রথমে ভাবলাম ছেলেটি হয়ত দরকারি কোন কথা সেরে নিচ্ছে কিন্তু পরবর্তীতে একই কথা রিপিট এন্ড রিপিট এন্ড রিপিট হতেই থাকল, তার ফোনে কথোপকথন তুলে দিচ্ছি,
- হ্যালো কিরে কেমন আছস? কোন খোঁজ খবর নাই! যাই হোক কাজের কথায় আসি, আমার একজন মেয়ে লাগবে, (অপর পাশের কথা শুনে কুৎসিত হাসি) আরে হালা আমাদের কোম্পানিতে একটা মেয়ে লাগবে, বস দুইদিন আমারে টাইম দিছে এই দুই দিনের ভেতর জোগাড় করতে হবে, কাজ কি! আরে কাজ কিছুই না খালি গেস্টরা এলে বসতে বলতে হবে আর কিছু না, বেতন মাসে ১৬ হাজার টাকা। শুক্র শনি বন্ধ আর নয়টা ৫ টা অফিস। আর খালি চেহারা সুন্দর হলেই হবে লেখাপড়া কম হলেও চলবে, আরে বুঝস না তেমন কোন কাজ না, খালি গেস্ট আইলে বসতে বলা লাগবে, হ। আচ্ছা আমার কিন্তু খুব দরকার দেখিস কিন্তু তাড়াতাড়ি, পেলে এই নাম্বারে ফোন করে জানাস আমার মোবাইল নাম্বার জিরো ওয়ান নাইন ওয়ান নাইন জিরো জিরো ওয়ান..........।।
ওকে রাখি। সে ফোন রাখছে আবার করছে সেখানেও একই কথা বলছে, আবার রাখছে আবার করছে, খুব ঘন ঘন ব্যাপারটা চলতে থাকল,
- হ্যালো কিরে কেমন আছস? কোন খোঁজ খবর নাই! যাই হোক কাজের কথায় আসি, আমাদের কোম্পানিতে একটা মেয়ে লাগবে............. বস দুইদিন আমারে টাইম দিছে এই দুই দিনের ভেতর জোগাড় করতে হবে......... আরে কাজ কিছুই না খালি গেস্টরা এলে বসতে বলতে হবে আর কিছু না, বেতন মাসে ১৮/১৯ হাজার টাকা। শুক্র শনি বন্ধ আর নয়টা ৫ টা অফিস। আর খালি চেহারা সুন্দর হলেই হবে লেখাপড়া কম হলেও চলবে আমার মোবাইল নাম্বার জিরো ওয়ান নাইন ওয়ান নাইন জিরো জিরো ওয়ান...
আমার Random একই কথা চলায় সন্দেহ হল, সাইডে তাকিয়ে দেখলাম ও আমার দিকে তাকিয়ে তাকিয়েই কথা বলছে আর সেই তাকানোতে আছে কুৎসিত প্রবৃত্তি । লক্ষ্যবস্তু আমি সেটা বুঝতে পেরে বিস্মিত হলাম! আমাকে দেখে আমার লেখাপড়া এতই কম মনেহয়!!
আমি চারদিকে তাকালাম ততোক্ষণে ভরে গেছে বাসটা উঠে গিয়ে অন্য কোথাও বসব কিংবা দাঁড়াবো সেই অবস্থা তখন আর নেই। সাইড থেকে এলার্ম ক্লক বেজেই চলেছে।
আমাদের কোম্পানিতে একটা মেয়ে লাগবে............. বস দুইদিন আমারে টাইম দিছে এই দুই দিনের ভেতর জোগাড় করতে হবে......... বেতন মাসে ২০/২৫ হাজার টাকা।
শুক্র শনি বন্ধ আর নয়টা ৫টা অফিস। আর খালি চেহারা সুন্দর হলেই হবে লেখাপড়া লাগবেনা অথবা কম হলেও চলবে, আমার মোবাইল নাম্বার জিরো ওয়ান নাইন ওয়ান নাইন জিরো জিরো ওয়ান..... ক্রমেই হাজার টাকা করে বেড়ে চলেছে, আর যাকে ফোন করেছে তার স্ক্রিনে নিশ্চয়ই নাম্বার আছে আলাদা করে নাম্বার বলার কি মানে স্পষ্টই বোঝা যায়। আমাদের দেশে শিক্ষিত সল্প শিক্ষিত মেয়েরা আজকাল কেউ পিছিয়ে নেই সবাই কম বেশি নানা কাজেকর্মে যুক্ত, হয়ত অফিস আদালতে অথবা গার্মেন্টস এ, কোন না কোন কাজ তারা জুটিয়েই নেয়। কাজ না থাকলে চেষ্টা করে কাজের, আর সেই সুযোগটাই নিতে চায় এরকম একদল পিশাচ শ্রেণীর প্রাণী।
যেহেতু অধিকাংশ মেয়ে গ্রাম থেকে আসে সল্প শিক্ষিত হয়ে, তাদের জন্য এই অফার হচ্ছে লুফে নেয়ার মত। বস্তুত এই ধরনের কাজের মানে একধরনের prostitution এর আমান্ত্রন ছাড়া আর কিছুই নয়, কিংবা আরও ঘৃণ্য কোন মতলব। তাই রাস্তা ঘাটে মেয়েদের অনেক সাবধানে চলতে হবে, অচেনা অজানা পুরুষের কথায় চাকরীতে যাওয়ার তো প্রস্নই আসেনা। আমি হয়ত বাসের যাত্রীদের কাছে ব্যাপারটা বলতে পারতাম কিন্তু ফলাফল এক্ষেত্রে হতো জিরো।
সবার নিজ নিজ জীবন নিয়ে busy, কে এই ঝামেলার ভেতর পরত, আর পড়লেও একটা বিশাল শ্রেণীর মানুষ মজা নিত মাঝখান থেকে আমি পরতাম বিপাকে। এসবের মাঝে আমি আমার গন্তব্য পৌঁছে গেলাম নামতে নামতে শুনলাম ছেলেটি জোরে জোরে বলছে লেখাপড়া কম হলেও চলবে বেতন ৩০ হাজার টাকা। ১৬ হাজার টাকা লাফ দিয়ে ৩০ হাজারে পৌঁছে গেছে!! আমার মোবাইল নাম্বার জিরো ওয়ান নাইন......
বিঃ দ্রঃ এটা কোন গল্প নয় আমার জীবনে পথে ঘাটে ঘটে যাওয়া ঘটনার বর্ণনা।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই নভেম্বর, ২০১৬ দুপুর ১২:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



