somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পথে ঘাটে পর্ব (৬)

১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ দুপুর ১২:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমি সেদিন ঢাকা ময়মনসিং এর রুটের বাসে উঠেছিলাম, এই বাস গুলো মহাখালী পর্যন্ত যায় আর এখানে ওখানে কম থামে একটানে বেশির ভাগ এই বাস গুলো চলে বলে সময় ও কম লাগে, উঠার পর দেখলাম একটাও বারতি সীট নেই। আমি অল্প কিছুক্ষন দাঁড়াবার পরই একদম সবার সামনের সীট এর একজন নেমে গেল, আমি সেখানে গিয়ে বসলাম।

বসতে বসতে হাল্কার উপর চোখে পড়লো ছুঁচোর মত চেহারার এক ছেলে বসে আছে, সকালে ঘুম থেকে উঠে হাত মুখ ধোয়া হয়নি বেশ কয়েকদিন এই রকম চেহারা, সচেতন ভাবে হোক আর অসচেতন ভাবে কেউ এর দিকে দ্বিতীয় বার ফিরে তাকাতে চাইবেনা, আমিও চাইনি। যতটা সম্ভব অন্যদিকে ঘুরে বসে আছি এমন সময় শুরু হল ছেলেটির ফোন আলাপ। প্রথমে ভাবলাম ছেলেটি হয়ত দরকারি কোন কথা সেরে নিচ্ছে কিন্তু পরবর্তীতে একই কথা রিপিট এন্ড রিপিট এন্ড রিপিট হতেই থাকল, তার ফোনে কথোপকথন তুলে দিচ্ছি,

- হ্যালো কিরে কেমন আছস? কোন খোঁজ খবর নাই! যাই হোক কাজের কথায় আসি, আমার একজন মেয়ে লাগবে, (অপর পাশের কথা শুনে কুৎসিত হাসি) আরে হালা আমাদের কোম্পানিতে একটা মেয়ে লাগবে, বস দুইদিন আমারে টাইম দিছে এই দুই দিনের ভেতর জোগাড় করতে হবে, কাজ কি! আরে কাজ কিছুই না খালি গেস্টরা এলে বসতে বলতে হবে আর কিছু না, বেতন মাসে ১৬ হাজার টাকা। শুক্র শনি বন্ধ আর নয়টা ৫ টা অফিস। আর খালি চেহারা সুন্দর হলেই হবে লেখাপড়া কম হলেও চলবে, আরে বুঝস না তেমন কোন কাজ না, খালি গেস্ট আইলে বসতে বলা লাগবে, হ। আচ্ছা আমার কিন্তু খুব দরকার দেখিস কিন্তু তাড়াতাড়ি, পেলে এই নাম্বারে ফোন করে জানাস আমার মোবাইল নাম্বার জিরো ওয়ান নাইন ওয়ান নাইন জিরো জিরো ওয়ান..........।।

ওকে রাখি। সে ফোন রাখছে আবার করছে সেখানেও একই কথা বলছে, আবার রাখছে আবার করছে, খুব ঘন ঘন ব্যাপারটা চলতে থাকল,
- হ্যালো কিরে কেমন আছস? কোন খোঁজ খবর নাই! যাই হোক কাজের কথায় আসি, আমাদের কোম্পানিতে একটা মেয়ে লাগবে............. বস দুইদিন আমারে টাইম দিছে এই দুই দিনের ভেতর জোগাড় করতে হবে......... আরে কাজ কিছুই না খালি গেস্টরা এলে বসতে বলতে হবে আর কিছু না, বেতন মাসে ১৮/১৯ হাজার টাকা। শুক্র শনি বন্ধ আর নয়টা ৫ টা অফিস। আর খালি চেহারা সুন্দর হলেই হবে লেখাপড়া কম হলেও চলবে আমার মোবাইল নাম্বার জিরো ওয়ান নাইন ওয়ান নাইন জিরো জিরো ওয়ান...
আমার Random একই কথা চলায় সন্দেহ হল, সাইডে তাকিয়ে দেখলাম ও আমার দিকে তাকিয়ে তাকিয়েই কথা বলছে আর সেই তাকানোতে আছে কুৎসিত প্রবৃত্তি । লক্ষ্যবস্তু আমি সেটা বুঝতে পেরে বিস্মিত হলাম! আমাকে দেখে আমার লেখাপড়া এতই কম মনেহয়!!
আমি চারদিকে তাকালাম ততোক্ষণে ভরে গেছে বাসটা উঠে গিয়ে অন্য কোথাও বসব কিংবা দাঁড়াবো সেই অবস্থা তখন আর নেই। সাইড থেকে এলার্ম ক্লক বেজেই চলেছে।
আমাদের কোম্পানিতে একটা মেয়ে লাগবে............. বস দুইদিন আমারে টাইম দিছে এই দুই দিনের ভেতর জোগাড় করতে হবে......... বেতন মাসে ২০/২৫ হাজার টাকা।
শুক্র শনি বন্ধ আর নয়টা ৫টা অফিস। আর খালি চেহারা সুন্দর হলেই হবে লেখাপড়া লাগবেনা অথবা কম হলেও চলবে, আমার মোবাইল নাম্বার জিরো ওয়ান নাইন ওয়ান নাইন জিরো জিরো ওয়ান..... ক্রমেই হাজার টাকা করে বেড়ে চলেছে, আর যাকে ফোন করেছে তার স্ক্রিনে নিশ্চয়ই নাম্বার আছে আলাদা করে নাম্বার বলার কি মানে স্পষ্টই বোঝা যায়। আমাদের দেশে শিক্ষিত সল্প শিক্ষিত মেয়েরা আজকাল কেউ পিছিয়ে নেই সবাই কম বেশি নানা কাজেকর্মে যুক্ত, হয়ত অফিস আদালতে অথবা গার্মেন্টস এ, কোন না কোন কাজ তারা জুটিয়েই নেয়। কাজ না থাকলে চেষ্টা করে কাজের, আর সেই সুযোগটাই নিতে চায় এরকম একদল পিশাচ শ্রেণীর প্রাণী।

যেহেতু অধিকাংশ মেয়ে গ্রাম থেকে আসে সল্প শিক্ষিত হয়ে, তাদের জন্য এই অফার হচ্ছে লুফে নেয়ার মত। বস্তুত এই ধরনের কাজের মানে একধরনের prostitution এর আমান্ত্রন ছাড়া আর কিছুই নয়, কিংবা আরও ঘৃণ্য কোন মতলব। তাই রাস্তা ঘাটে মেয়েদের অনেক সাবধানে চলতে হবে, অচেনা অজানা পুরুষের কথায় চাকরীতে যাওয়ার তো প্রস্নই আসেনা। আমি হয়ত বাসের যাত্রীদের কাছে ব্যাপারটা বলতে পারতাম কিন্তু ফলাফল এক্ষেত্রে হতো জিরো।

সবার নিজ নিজ জীবন নিয়ে busy, কে এই ঝামেলার ভেতর পরত, আর পড়লেও একটা বিশাল শ্রেণীর মানুষ মজা নিত মাঝখান থেকে আমি পরতাম বিপাকে। এসবের মাঝে আমি আমার গন্তব্য পৌঁছে গেলাম নামতে নামতে শুনলাম ছেলেটি জোরে জোরে বলছে লেখাপড়া কম হলেও চলবে বেতন ৩০ হাজার টাকা। ১৬ হাজার টাকা লাফ দিয়ে ৩০ হাজারে পৌঁছে গেছে!! আমার মোবাইল নাম্বার জিরো ওয়ান নাইন......

বিঃ দ্রঃ এটা কোন গল্প নয় আমার জীবনে পথে ঘাটে ঘটে যাওয়া ঘটনার বর্ণনা।

সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই নভেম্বর, ২০১৬ দুপুর ১২:০০
১২টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ব্যাটারিচালিত রিকশা , তিন-চাকার যানবাহন ব্যবস্থাপনা, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ন্ত্রণ, সড়ক নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও জীবিকা সুরক্ষা এবং সিসা-দূষণরোধ বিষয়ে একটি সমন্বিত নীতিগত প্রস্তাব।

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮


বাংলাদেশের নগর ও শহরতলির পরিবহন ব্যবস্থায় ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজি-বাইক ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক তিন-চাকার যান ইতোমধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের যাত্রীদের জন্য অপেক্ষাকৃত কম খরচের পরিবহন, বিপুলসংখ্যক চালক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২: মানুষের হৃদয়ে যে বাড়ি আজও দাঁড়িয়ে আছে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:০৭



ধানমন্ডি ৩২: মানুষের হৃদয়ে যে বাড়ি আজও দাঁড়িয়ে আছে

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি কেনা ও নির্মাণের টাকা কোথা থেকে এসেছিল-এই প্রশ্নটা মাঝেমধ্যেই অনলাইনে ঘুরেফিরে আসে। উত্তরটা আসলে লুকিয়ে নেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী লীগ দিয়ে উন্নয়ন সম্ভব নয় - দরকার বিকল্প সরকার

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৪



জামাতকে সংগঠন হিসেবে নিখুঁত বলা যায়, আলেম হতে হলে দীর্ঘদিন পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে যেতে হয় - মানে নেতা হবার আগে অবশ্যই পড়াশোনা করতে হবে, বিএনপি-লীগের এমন কোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেলাশেষে

লিখেছেন নীল-দর্পণ, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৪

বাসায় আত্নীয় আসলে চলে যাবার সময় কিংবা তাদের বাড়ী থেকে ফেরার সময় ঘরের ছোট সদস্যের হাতে টাকা গুঁজে দেবার যে চল ছিল নিশ্চই আমরা কম বেশি সবাই সেটা সাথে পরিচিত।... ...বাকিটুকু পড়ুন

অসংখ্য মানুষের স্বপ্নের নায়িকা যিনি।

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:১২



একদিন যে বিয়েকে ঘিরে ছিল পাঁচতারকা হোটেলের ঝলমলে আলো, ক্যামেরার অসংখ্য ফ্ল্যাশ আর শত মানুষের করতালি, সেই সংসারের আকাশেই কয়েক বছরের মধ্যে জমেছিল বিচ্ছেদের মেঘ। ১৯৮৭ সালের মে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×