somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নস্টালজিক

১৬ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৩:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমার ঘরটা এখন আর আগের মতো লাগে না। দরজার লক নষ্ট, বন্ধ করলেও পুরোপুরি বন্ধ হয় না, আধখোলা হয়ে থাকে। বুকশেলফে ধুলো জমে আছে, ড্রেসিং টেবিলের পর্দাটা এলোমেলোভাবে ঝুলে থাকে, ফ্যানটাও অনেকদিন ধরে নষ্ট দেয়ালের রঙ খসে পড়ে গেছে অনেক টুকু।

সবকিছু মিলিয়ে ঘরটার ভেতরে এক ধরনের অগোছালো অসামঞ্জস্য কিছু জমে আছে।
এই ঘরেই আব্বার জীবনের শেষ তিন দিন ছিলেন। হাসপাতাল থেকে যখন তাকে বাসায় নিয়ে এলাম, তখন নিজের ঘরটাই আমি তার জন্য ঠিক করেছিলাম। নিজের সংসার রয়েছে আমার, এই ঘর খালি পড়ে আছে অনেকদিন, সবাই বলেছিল অন্য কোথাও ব্যবস্থা করতে, মাও মানা করেছিলেন, কিন্তু আমি শুনিনি। আমার মনে হয়েছিল, এই ঘরটাই সবচেয়ে নিরিবিলি, সবচেয়ে নিরাপদ, একজন গুরুতর অসুস্থ মানুষের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত।

তারপর এখানে অক্সিজেন সাপোর্ট বসানো হলো, বিশেষ হসপিটাল বেড আনা হলো, নানা রকম চিকিৎসার জিনিসপত্রে আমার পরিচিত ঘরটা ধীরে ধীরে ছোট্ট এক হাসপাতাল কক্ষে বদলে গেল।
সবকিছু খুব দ্রুত ঘটেছিল। আর মাত্র তিন দিনের মধ্যেই এই ঘরেই আব্বা তার শেষ নিঃশ্বাস ফেললেন।


সেই সময়ের একটা দৃশ্য বারবার মনে পড়ে। আত্মীয় স্বজনের ভীড়, আব্বার হসপিটালের দিন গুলোতে সবথেকে বেশি যে ইচ্ছেটা করেছিলেন সেটা ছিল বাড়ি আসা, আমি তার হাত ধরে বলেছিলাম বার বার কাঁপতে কাঁপতে খুব খুশি হয়ে, আব্বা আপনাকে বাড়ি এনেছি আর ভয় নেই আপনি সুস্থ হয়ে যাবেন।

তিক্ত একটা ব্যাপার হলো এরপর আর আব্বার সাথে দেখা হয় নাই আমার, একটা কান্না চলছে ভেতরে আজ অনেকদিন পর নিজের ঘরে শুয়ে।মানুষের শেষ সময়ে অনেক কথা আর বলা হয় না, শুধু চোখের ভেতর, কণ্ঠের কম্পনে, নিঃশ্বাসের ভাঙনে সব হারিয়ে যায়।


আগে আমার রুমে খুব কমই আসতো আব্বা অথবা মা। সারাদিন অফিস আর ভার্সিটি শেষে ক্লান্ত হয়ে ফিরতাম, আব্বা আর মা বুঝতেন আমার বিশ্রাম দরকার, তাই এই ঘরটা ছিল আমার নিজের মতো একান্ত বিশ্রামের জায়গা। এখন এই ঘরে ঢুকলেই প্রথমে চোখ চলে যায় সেই জায়গাটায়, যেখানে হাসপাতালের বেডটা রাখা ছিল। অজান্তেই পা কেঁপে ওঠে।
এখন আর সহজে এই ঘরে ঘুমাতে পারি না। একা থাকলে অকারণ ভয় কাজ করে। ঠিক কিসের ভয়, তা স্পষ্ট করে বলতে পারি না, শুধু মনে হয় ঘরের ভেতরে জমে থাকা ভারী কষ্ট বুকের ওপর চাপ ফেলে।

আমি কাকে দোষ দেব, আমার এই রুমকে, না সময়কে। রুম তো এমন যেমন আছে কিন্তু সময়! আগের কিছুই যে নেই, সময় আমার আগের জীবনের সমস্ত কিছু ওলটপালট করে এক অদ্ভুত অন্য আরেকটি জীবন দিয়েছে যে জীবনে এই ঘরটার আর কোন প্রয়োজন নেই। তবে হ্যাঁ আব্বাকে প্রয়োজন ছিল, খুব প্রয়োজন ছিল, অনেক ব্যাপারেই প্রয়োজন ছিল। এই জীবনে কিছুই তো করা হয়ে ওঠেনি তার জন্য।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৩:৪০
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চরিত্রহীন

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ১৫ ই মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৬


নিপীড়িত ভেবে যাকে করে যাবে মায়া,
সর্বস্ব বিলিয়ে দেবে যার উপকারে;
কলির সন্ধ্যা কাটলে পাবে না তো তারে,
সে তখন হয়ে যাবে নিশ্চিন্ত প্রচ্ছায়া।
যাবে না ধরা হাঁটলেও সে কাছে-ধারে;
ভুজঙ্গের ন্যায় দেখাবে বিষাক্ত কায়া,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্ব রাজনীতি, শক্তির খেলা এবং ন্যায়ের প্রশ্ন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৫ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:৩৫

বিশ্ব রাজনীতি, শক্তির খেলা এবং ন্যায়ের প্রশ্ন

বিশ্বরাজনীতির ইতিহাসে বারবার এমন অভিযোগ উঠেছে যে শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো অনেক সময় নিজেদের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থ রক্ষার জন্য দুর্বল বা উন্নয়নশীল দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নস্টালজিক

লিখেছেন সামিয়া, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৩:৩৩



আমার ঘরটা এখন আর আগের মতো লাগে না। দরজার লক নষ্ট, বন্ধ করলেও পুরোপুরি বন্ধ হয় না, আধখোলা হয়ে থাকে। বুকশেলফে ধুলো জমে আছে, ড্রেসিং টেবিলের পর্দাটা এলোমেলোভাবে ঝুলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বপ্ন যখন মাঝপথে থেমে যায়: ঢাকার জলপথ ও এক থমকে যাওয়া সম্ভাবনার গল্প

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:২৫

ঢাকার যানজট নিয়ে আমরা অভিযোগ করি না এমন দিন বোধহয় ক্যালেন্ডারে খুঁজে পাওয়া যাবে না। অথচ এই যানজট নিরসনের চাবিকাঠি আমাদের হাতের নাগালেই ছিল—আমাদের নদীগুলো। সম্প্রতি বিআইডব্লিউটিএ ঘোষণা করেছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাগাভাগি

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৭

ভাগাভাগি
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

এলাকায় এক ইফতার মাহফিল-এ
দাওয়াত পাই আর যথাসময় চলে যাই।
অনেক মানুষ পড়ছে দোয়া দুরুদ
ঘনিয়ে আসছে রোজা ভাঙার সময়।

তখন সবার সামনে বিলিয়ে দিচ্ছে বিরিয়ানি
আমার ভাবনা- হয়ত কেউ ভাবছে
যদি একসাথে খাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

×