
সবকিছুর কি সত্যিই ক্ষমা হয়? মানুষ খুব সহজেই বলে, ক্ষমা করে দাও, কিন্তু ক্ষমা এত সহজ?
আমার মনে হয়, সবকিছুর ক্ষমা হয় না।
এই যে মাঝরাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে যায়, বুকের ভেতরটা অকারণ ভারী হয়ে ওঠে, দীর্ঘশ্বাস নিজের অজান্তেই বুক চিরে বেরিয়ে আসে, কিংবা কোনো পুরোনো গান শুনে চোখের কোণে জল জমে ওঠে, এগুলো কি প্রমাণ করে না যে কিছু ক্ষত আসলে কখনও পুরোপুরি শুকায় না?
আমরা অনেক সময় মানুষটাকে ক্ষমা করে দিই, কিন্তু ঘটনাটাকে ভুলতে পারি না। শুধু ভুলে যাওয়ার অভিনয় করি, অথচ স্মৃতিগুলো নীরবে আমাদের ভেতরেই বেঁচে থাকে। বাইরে থেকে সবাই ভাবে আমরা ভালো আছি, অথচ ভেতরে ভেতরে সেই পুরোনো ব্যথাগুলো নিঃশব্দে নিঃশ্বাস নিতে থাকে।
কিছু মানুষ আমাদের জীবন থেকে চলে যায়, কিন্তু তাদের রেখে যাওয়া যন্ত্রণা কোথাও যায় না। সময় তাকে ভোঁতা করে, ছোট করে, কিন্তু মুছে দেয় না। তাই তো বহু বছর পরও হঠাৎ কোনো গন্ধ, কোনো বিকেল, কোনো রাস্তা কিংবা কোনো নাম আমাদের ফিরিয়ে নিয়ে যায় সেই পুরোনো দিনে।
অনেকে বলে, সময় সব ঠিক করে দেয়। আমার মনে হয়, সময় সব ঠিক করে দিতে পারে না। সময় শুধু মানুষকে ব্যথা নিয়ে বাঁচতে শিখিয়ে দেয়।
ক্ষমা করারও সীমা আছে। কিছু অন্যায়, কিছু বিশ্বাসঘাতকতা, কিছু অবহেলা এমনভাবে মানুষের ভেতরে গেঁথে বসে যে সেগুলোকে ক্ষমা করতে চাইলেও মনকে মানাতে পারে না। সেখানে যুক্তি হার মানে অনুভূতির কাছে।
তাই আমি আজ আর কাউকে ক্ষমা করতে পারি কি না, সেই হিসাব করি না। শুধু এতটুকুই চাই, স্রষ্টা তাকে ক্ষমা করুন। তার জীবন শান্ত হোক সে ভালো থাকুক। কারণ আমার ভেতরে যতটুকু ভালোবাসা অবশিষ্ট আছে, তা আর প্রতিশোধ চায় না; শুধু দূর থেকে তার মঙ্গল কামনা করে।
হয়তো এটাই পরিণত মানুষ হওয়া।
হয়তো এটাই নিজেকে ভালো রাখার প্রচেষ্টা।
হয়তো এটাই নিজের জন্য মঙ্গল।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।
