somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আজকে আমার মন ভালো নেই

২১ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



দুঃখের সময়ে নানান মানুষের কথা মনে পড়ে। খুব কাছের মানুষের কথা মনে পড়ে আবার অনেক দূরের মানুষের কথাও মনে পড়ে। রক্তের আপন মানুষের কথা তো মনে পড়েই তবু একদিন কীভাবে যেন সবাই দূরে অনেক দূরে সরে যায়।

মোবাইলের কন্ট্রাক্ট লিস্টে শত শত নাম পড়ে আছে। প্রতিটি নামের পাশে একটি করে ছবি, একটি করে পরিচয়, একটি করে ইতিহাস। তবু রাত গভীর হলে, বুকের ভেতরটা হঠাৎ ভারী হয়ে উঠলে, কোনো নামের ওপর প্রেস করে কল করা যায় না, নিয়ম নেই, অপর প্রান্তের বিনীত প্রত্যাখ্যানকে উপেক্ষা করার সাহসটুকু যে হয় না।

জীবনে কথা বলার মানুষ কমে যায় না, কিন্তু কথা বলা যায় এমন মানুষ কমে যায়। এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্যটা অনেক বড়।
একটা সময় দুঃখ, কষ্ট, যন্ত্রণা, অসুখ, দুশ্চিন্তা কিংবা বিপদে মানুষ একা থাকতো না। কারও মন খারাপ হলে আরেকজন টের পেয়ে যেত। আনন্দও লুকিয়ে রাখতো না কেউ কারো থেকে। ছোট্ট একটি সুখ পুরো মহল্লায় উৎসব বানিয়ে দিত।

এখন ভালো লাগার খবর নিজের ভেতরেই থেকে যায়, খারাপ লাগার খবরও তাই। দুটোই নিঃশব্দে বুকের ভেতর জমতে থাকে। আনন্দ বলতে মানুষ এখন নতুন বছর উদ্‌যাপন করে একা। ছাদে উঠে ফানুস ওড়ায়, ছবি তোলে, সামাজিক মাধ্যমে হাসিমুখ দেখায়। অথচ সেই হাসির ভেতরের নিঃসঙ্গতার খবর কারো রাখার সময় নেই। এটাই আমাদের এ সময়ের পৃথিবী, কি নিষ্ঠুর মনে হচ্ছে না?।

জীবনে একা হয়ে যাওয়া হঠাৎ ঘটে না। একটু অভিমান, একটু ব্যস্ততা, একটু ভুল বোঝাবুঝি, কিছু না বলা কথা, কিছু না শোনা কথা। তারপর একদিন অহংকার এসে চুপচাপ কাঁধে বসে বলে, আমি একাই পারব, আমার কাউকে লাগবে না।
আমরা সেই কথায় বিশ্বাস করি। ধীরে ধীরে মানুষের বদলে নিজের চারপাশে দেয়াল তুলতে শুরু করি।
দেয়াল কোনো দিনই একদিনে তৈরি হয় না। আজ একটি ইট, কাল আরেকটি। তারপর একদিন দেখি, ওপাশেও মানুষ আছে, এই পাশেও মানুষ আছে, শুধু দেখা হয় না কারও সঙ্গে কারও।


জীবনে বড় হই, চাকরি হয়, পদোন্নতি হয়। বাড়ি হয়, গাড়ি হয়, সামাজিক মর্যাদা বাড়ে। শুধু যাদের সামনে নিঃসংকোচে কাঁদা যেত, যাদের সামনে কোনো অভিনয় করতে হতো না, যাদের সামনে অবলীলায় কষ্টের কথা বলা যেত, তারা ধীরে ধীরে হারিয়ে যায়।

একটা সময় অধিকার ছিল। রাত দুটায় ফোন করার অধিকার, দরজায় গিয়ে দাঁড়ানোর অধিকার, চুপচাপ পাশে বসে থাকার অধিকার, কোনো কথা না বলেও বোঝানোর অধিকার।

এখন আমরা কষ্টের কথাও খুব ভদ্র করে বলি। চোখের জল মুছে ফেলি আগে থেকেই, যেন কারও বিরক্তির কারণ না হয়ে যাই। নিজের দুর্বলতাকে লুকিয়ে রাখাটাই একমাত্র চেষ্টা। বাধ্য হয়েই নিজের যুদ্ধ নিজেই লড়তে হয়, পড়ে গেলে উঠে দাঁড়াতে হয়, উঠে দাঁড়াতে না পারলে ধ্বংস হতে হয়। নিজের কান্না নিজেই মুছে নিজের ভাঙা মন নিজেই জোড়া লাগাতে হয়।

মানুষ টাকা না থাকলে এতটা একা হয় না। সম্মান না থাকলেও না। মানুষ সত্যিকারের একা হয় তখন, যখন তার জীবনে এমন একজনও থাকে না, যার সামনে মুখোশ খুলে রাখা যায়। যার সামনে চুপ থাকলেও মনের যন্ত্রণা প্রকাশ যায়, কান্না লুকানো লাগে না, আর কাঁদলেও নিজেকে ছোট মনে হয় না।

আমরা ব্যক্তি স্বাধীনতা চাইতে চাইতে এমন এক জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছি, যেখানে কারও দরজায় কড়া নাড়তেও সংকোচ লাগে অথবা অবধারিতভাবে নিষেধ।
জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ টাকা নয়, বাড়ি নয়, গাড়ি নয়, পদবি নয়। সবচেয়ে বড় সম্পদ মানুষ, যাদের সামনে দাঁড়িয়ে কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই বলা যায়, আজকে আমার মন ভালো নেই।

সর্বশেষ এডিট : ২১ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:০৯
১২টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশে ইসলামপন্থা বনাম গণতন্ত্র: মানুষ যখন নাগরিক থেকে অনুসারী হয়ে উঠছে!

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৪৩


কিছুদিন আগেও আমরা বলতাম, "দয়া করে ধর্মকে রাজনীতির সঙ্গে মেশাবেন না"। সরল এই কথাটির মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বোধ ছিল - ধর্মীয় বিশ্বাস আর রাজনীতি এক জিনিস নয়। গত দুই... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো প্রয়োজন নেই! আপনি কি মনে করেন?

লিখেছেন কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত), ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৪



বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে শিক্ষাগত যোগ্যতাবিহীন বা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাবঞ্চিত কোনো ব্যক্তির পক্ষে এককভাবে স্থানীয় সরকারকে প্রযুক্তিনির্ভর এবং 'স্মার্ট বাংলাদেশ' বা 'ডিজিটাল বাংলাদেশ'-এর লক্ষ্য অনুযায়ী আধুনিকায়নের দিকে এগিয়ে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

"টোকাই থেকে হিরো"

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৬



টোকাই থেকে হিরো! বাংলা ছবির  অশ্লীল যুগে মুক্তি পাওয়া এক ঢাকাইয়া চলচ্চিত্র। ছবিতে প্রেক্ষাপটে অনেকটা এইরকম - বস্তিতে বেড়ে উঠা; মানুষের লাথি- উষ্টা খেয়ে বড় হওয়া এক টোকাই (ছবির... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুখরিত জীবনের চলার পথে, ব্লগের মুখরিত দিন

লিখেছেন মেহবুবা, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:১৪


ব্লগ স্কুল, মজারু
ছোটন চলে স্কুলেতে বই শ্লেট হাতে ,
বদরুল ভাই কাঁদছে ভীষন যাবে সাথে সাথে,
চান্কু হল লক্ষ্মীছাড়া পান্কু হয়ে ঘোরে ,
চিটি যাবে সবার আগে উঠল... ...বাকিটুকু পড়ুন

Ripe Age দুই প্রান্তের দুই মানুষঃ সামু শব্দের সেতু প্রজন্মের বন্ধন

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:২৪


একজন দাঁড়িয়ে জীবনের শুরুতে
চোখে তার অগণিত স্বপ্ন
আগামীর পথে কত প্রশ্ন
কত না-জানা, কত বিস্ময়
কত দূরের নীল আকাশ
ডাকে তাকে প্রতিদিন।

অন্যজন বসে জীবনের শেষে নয়
বরং দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আসা এক প্রান্তে
প্রায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×