বিৰোভকারীরা সবাই বলছে তারা প্রস্তুত। 18 বছরের এক ছাত্র স্টিপান সিডারস্কাই বলেন, সম্ভবত তারা আক্রমণ করবে এবং আমাদের ছত্রভঙ্গ করতে বেদম পিটুনি দেবে। কিন্তু ইতিমধ্যে আমরা একটা সফলতা অর্জন করেছি তা হচ্ছে দেশের মানুষকে আমরা দেখাতে পেরেছি স্বৈরাচারী শাসকের বিরম্নদ্ধে রম্নখে দাড়াতে আমরা ভীত নই।
এ বিৰোভকারীদের বেশিরভাগেরই বয়স 20-এর ঘরে অথবা তারও নিচে। এর মধ্যে আবার কারো কারো দাড়ি-গোফও গজায়নি। কিন্তু গত মঙ্গলবার বিরোধীদলীয় নেতারা যখন লোকাশেংকোর বিরম্নদ্ধে ঐকমত্যে পৌছাতে ব্যর্থ হয়, তারা জানতেও পারেনি ওই রাতের মধ্যেই অক্টোবর স্কয়ারের বিৰোভকারীরা এ কঠিন সংগ্রামের ৰেত্রে একটি স্বতন্ত্র কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
বিভিন্ন দিক দিয়ে দেখতে গেলে 2004 সালে ইউক্রেনে আরেক রেভলিউশনে অংশগ্রহণকারীদের অনুকরণ করছে বেলারম্নশের বিদ্রোহী ছাত্ররা। এ বিপস্নবী জাগরণ কতোটুকু বিসত্দৃতি লাভ করেছে তা পরিষ্কার নয়। তবে তারা ক্যাম্পের বাইরে এসে র্যালি করেছে, ইন্টারনেটের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান করেছে আর বিদেশি সংবাদ সংস্থার ক্যামেরাগুলোর সামনে দাড়িয়ে জনগণকে বিৰোভে অংশ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
এ বিৰোভকারীদের প্রভাব কতোটুকু তা বোঝা গেছে যখন লোকাশেংকোর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিরোধীদলীয় নেতা আলেকজান্ডার ডি কাজুলিন বিৰোভকারীদের শানত্দ হওয়ার ও ঘরে ফেরার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, তাদের স্কয়ারে রাখাটা কোনো ভালো কাজ নয়, আমাদের উচিত শিশুসনত্দানদের প্রতি খেয়াল রাখা এবং তাদের নিরাপদে রাখা। আমাদের যুদ্ধের সামনের সারিতে তাদের ঠেলে দেয়া উচিত নয়।
কিন্তু বিৰোভকারীরা কাজুলিনের এ আবেদন নাকচ করে দেয়। এমনকি কাজুলিন এবং লোকাশেংকোর উভয়েই যে তাদের শিশু হিসেবে চিহ্নিত করেছে তার প্রতিবাদ জানায় তারা। বিৰোভকারীদের প্রতি কাজুলিন ও লোকাশেংকো দুই দিক দিয়ে নজর রাখছে। কাজুলিন দৃষ্টি রাখছে ক্যাম্পের বাইরের পুলিশের দিকে তারা কখন হামলা করে আর লোকাশেংকোর নজর ক্যাম্পের ভেতরের ঘটনাবলির দিকে। বিৰোভকারীদের প্রতিটি আচরণ খেয়াল করছে লোকাশেংকো যাতে সংঘর্ষ বাধাতে তৎপর কেউ সেখানে ঢুকে না পড়ে।
মধ্যরাতের পর বেলারম্নশের একটা অংশ দখল করে নেয় বিৰোভকারীরা। বরফ ঠা-া পাথরের ওপর নেচে নেচে প্রতিবাদ জানায় তারা। ধূমায়িত চা পান করতে করতে তারা শপথ নেয় হাল ছেড়ে দেবে না।
বিৰোভ র্যালির এক সমন্বয়ক 22 বছরের ভিটালি করোটিশ বলেন, ক্যাম্প রৰা করাই আমাদের অবস্থান বোঝানোর একমাত্র পথ বলে মনে করছি আমরা। যদি প্রয়োজন হয় আমরা বছরের পর বছর এখানেই অবস্থান করবো। তারা যদি এ ক্যাম্প ভেঙে দেয় আমি মনে করি পরদিনই আরো বহু লোক এখানে জমায়েত হবে।
ভিটালির এ প্রত্যাশা কি বাসত্দব না অমূলক তা এখনই জানা যাচ্ছে না। কিন্তু গত নির্বাচনে লোকাশেংকোর পরেই যার অবস্থান সেই আলেকজান্ডার মিলিনকেভিচ বিৰোভকারীদের প্রতি তার দৃঢ় সমর্থন জানান। নির্বাচনে মিলিনকেভিচ মাত্র ছয় শতাংশ ভোট পান যেখানে লোকাশেংকো পেয়েছেন 82.6 শতাংশ। মিলিনকেভিচের বক্তব্য, আমরা সমপূর্ণ আতঙ্কের দেশে বাস করি এবং খুবই অল্প কিছু মানুষের এ ধরনের বিৰোভ করার সাহস রয়েছে। এ বিৰোভ জনগণের ভীতিকে ধ্বংস করবে কারণ এ বিৰোভ জনগণের উদ্দেশে বলছে, নিজেদের লৰ্যে পৌছতে নিজেদেরই যুদ্ধ করতে হবে এবং তা করা সম্ভব।
তবে শিগগির সরকার পরিবর্তনের জোরালো সম্ভাবনা দেখছে না বিৰোভকারীরা। তবে একটা মাত্রায় জনগণের এ জাগরণের বিপস্নবই বলতে হবে। মিলিনকেভিচ প্রায়ই বলেন, এটা রাসত্দার কোনো বিপস্নব নয়, এটা জনগণের মনের ভেতরের বিপস্নব।
এ ঘটনার পর মিলিনকেভিচ বলেছেন, এ বিৰোভে এমন এক বার্তার সৃষ্টি হয়েছে যে লোকাশেংকো এবং তার নিরাপত্তাবাহিনী যারা কেজিবির নামানত্দর কেউই তা অগ্রাহ্য করতে পারবে না। মধ্যরাতের অন্ধকারে বিৰোভরত এ বিদ্রোহীরা ইতিমধ্যে সরকারকে এটা বুঝিয়ে দিতে সৰম হয়েছে যে তারা শুধু কারচুপিপূর্ণ গত নির্বাচনের বিরোধিতাই করছে না, তারা লোকাশেংকো নির্মিত সরকারের পুরো কাঠামোরই বিরোধিতা করছে। তারা সরকারের যথেচ্ছা গ্রেফতারের প্রতিবাদ জানাচ্ছে, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতায় ধোয়াচ্ছন্নতায় প্রতিবাদ জানাচ্ছে, অযোগ্য ও দুর্নীতিগ্রসত্দ প্রশাসনের বিরম্নদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছে। যদিও পশ্চিমি দেশগুলো যেমন আমেরিকা বেলারম্নশের বিরোধী দলগুলোকে ট্রেনিং, অর্থায়ন এবং রাজনৈতিক সমর্থন দিয়ে শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। কিন্তু বেলারম্নশের এবারের বিৰোভ গড়ে উঠেছে এ গোষ্ঠির কোনো প্রচারণা ছাড়াই একানত্দ নিজস্ব ৰোভ থেকে যে ৰোভ ক্রমাগত অন্যায় অবিচার থেকে জন্ম নিচ্ছে।
মধ্যরাতের এ বিৰোভকারীরা হয়তো সংখ্যায় অনেক কম। কিন্তু বেলারম্নশের ভবিষ্যৎ সংগ্রামের ইঙ্গিত দিচ্ছে এ তরম্নণ দল। বিৰোভকারীদের তালিকায় নিজের নাম উঠানোর জন্য তারা ভোর পর্যনত্দ অপেৰা করছে। পত্রিকার পাতায় নিজের নাম দেখে তৃপ্তি পাওয়ার জন্য নয়। খাতায় জোর করে নাম লেখানোর কারণ হলো সরকারকে তারা তাদের অসত্দিত্ব ও পরিচয় জানান দিচ্ছে এভাবে।
21 বছরের ছাত্র আলেকজান্ডার ঝুকভ বলে, মিথ্যা শুনতে শুনতে আমি কানত্দ, আমি আর ভয় পাই না। অন্ধকারের মধ্যে সে দাড়িয়ে আছে। কিছুৰণ পর পর ঠা-া চাতালে এক পায়ের ভর আরেক পায়ে বদল করছে। এভাবেই সে পরের ঘটনা বা দিনের সূর্যের অপেৰা করছে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



