somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রতিচ্ছায়ার একান্ত সাথী (উপসন্যাস)

২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৪ বিকাল ৩:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

র্পূর্ণিমার রাত = ২
(........... কবে অসবে তার প্রিয়া তাহলে তাহার পথে হৃদয়ের সব ফুল বিছায়ে দিতো ।---এই পর্য়ন্ত ছিল)

আরম্ভ-

সে আজ অকাশের তারার মাঝে লুকিয়ে আছে । সারা রাত তাকে কেঁদে কেঁদে ডেকেছে কিন্তু সাড়া দেয়নি । রাতের ফোটা ফুল ডেকে ডেকে বলেছে তুমি তাকে পাবেনা । আজ সে একান্ত একা তবুও মনে হয়। সামনে দাড়িয়ে আছে।
স্মৃতি কখনও ম্লান হয়না । সে চির নবীন চির সবুজ । তার মনে জাগে ভৈরবী
সুর-
বলছে ডেকে দূরের থেকে সন্ধ্যা মালতী
জুঁই চাঁপা না গোলাপ বকুল অরো কেতকি।
আমি পাবনা তারে আমি খুঁজেছি যারে ,
তবে কে গো দাঁড়িয়ে আছে নিয়ে তার নয়ন ,
আমার হৃদয় ছেঁড়া ধন ।।
এমনি রাতে শ্মশানে কে যেন নীল শাড়ি পরে হাটছে । কখনো কাঁদছে আবার কখনও গাইছে ।দীঘির ঘাট ছেড়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে গেল
নীল শাড়ি পরা ছায়ার দিকে । ভূত -প্রেত কিছুই বিশ্বাস করেনা সে । যতই এগিয়ে যায় ছায়ামূর্তি ততই দূরে সরে যায় । আেরা কাছে আসতেই ছায়ামূর্তির দিকে এগিয়ে জিজ্ঞেস করলো- কে তুমি ?
ছায়া মূর্তি নীরব নীশ্চুপ । আরো কাছে এগিয়ে বললো - তুমি কি হাসি ?
তুমি কি বাণী ?
ছায়া মূর্তি কথার জবাব না দিয়ে শুধু কাঁদে । করুণ ভাবে কাঁদে । আরো কাছে এগিয়ে বললো - হাসি, তুমি প্রতি দিন কাঁদ কেন ? থামেনা কান্না ।
হটাৎ ছায়ামূর্তিকে ধরে ফেললো মমিন । ছায়া নয় ,মানুষ, রক্ত মাংসের
বাস্তব মানুষ । মমিন জিজ্ঞস করলো,কমলা, তুমি এখানে ?
এবার কথা বললো ছায়ামূর্তি । হ্যাঁ,আমি এখানে। শুনেছি তোমাদের হাসির
অতৃপ্ত আত্মা ঘুরে বেড়ায় । আমি তার সাথে দেখা করবো ।আমি তাকে বলবো ,আমি নাকি অবিকল তোমার মত ।আমি তোমার সাথে এখানে থাকতে চাই ।লোকে বলে আমি তোমার প্রতিচ্ছায়া । তপু নাকি নিশীত রাতে তোমার সাথে দেখা করতো, কথা বলতো । তপু যদি পারে তবে আমি তার প্রতিচ্ছবি হয়ে কেন পারবো না ?
বলতে বলতে মমিনকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেললো ,কমলা ।

পৃথিবীর মানুষ যখন গভীর ঘুমে অচেতন, তখন একটি মৃত মানুষের
চিতার পাশে জ্বলছে দুটি জীবন্ত মানুষের অন্তর । চক্রবর্তীর আশ্রমে রাগ প্রধান গান শোনা যায় ,এখান থেকে -

চিতা পোড়ায় দেহখানি অনলে তায়
অরুণ করুণ আঁখি জলে ভরে,
দরশন কে দিল এসে আমারে ?
দেখিতে কি সুন্দর !

মমিনের বুকে মাথা রেখে নির্জন সমাধি ভূমে কমলা বললো - মমিন, তুমি কে ? কেন এখানে আস ? সত্যিকরে বল মমিন তুমি কি ছদ্মবেশী তপু ?
কেন তুমি রাতের বেলায় ভয়াল শ্মশান ঘাটে ? কনক চাঁপার নীচে ? কি চাও এখানে ? মমিন বললো-

আমিও দেখতে চাই সেই নীল শাড়িপড়া মেয়েটিকে যার আত্মা কেঁদে কেঁদে বেড়ায় এখানে । সেই মেয়েটি যার চিবুক ছিল পাকা কমলার মত, যার দেহাবরণ ছিল বসরাই গোলাপের মতন । যার চুলের বেণীতে তপু গুঁছে দিত রক্তজবা,যার সঙ্গীতের মূর্ছনায় প্লাবিত হতো আকাশ,বাতাস,যার হাসিতে ঝরতো মধু,কান্নায় মুক্তা, যে ভালবেসে প্রাণ দিয়েছিল এক পাষাণ দেবতাকে ।যাকে মনে হতো বেহেস্তের হুরী । যে ছিল তপুর আত্মা ,তপুর প্রাণ তপুর পৃথিবী,তপুর প্রেম ,তপুর ইহকাল তপুর পরকাল ।যার জন্যে
তপু আজ গৃহ হারা । যাকে বাংলার পথে প্রান্তে চারণ কবির মতো খুঁজে
বেড়াচ্ছে তপুর মন। বাণীর বীণা বাজে তার কানে । সে সুর জাগায় তপুর হৃদয় সমুদ্রে উত্তাল তরঙ্গের সফেন আন্দলোন।

মমিন আজ বড় বেশী আবেক প্রবণ হয়ে পরেছে মমিন ।এমনিটি আর কথনো দেখেনি কমলা ।
কমলা বললো, চলো আমরা চলে যাই এখান থেকে ।
যাকে দেখিনি কোন দিন সে আজ আমার সবচেয়ে বড় শত্রু, আমার আরধ্য, দেবী অামার জীবনের ধ্রুবতারা। আমার মাঝে মাঝে মনে হয় আমি যেন সেই হাসি আর তুমি তপু। আমরা হারিয়ে যাব। ইতিহাসের পাতায় শাহজাহান ,মমতাজ, সিরি-ফরহাদের নাম থাকবে । আমাদের নাম সে খানে থাকবেনা ।নাইবা থাকুক,তবুও এটা সত্য যে আমরা ভালবেসেছিলেম ।আমরা পৃথিবীর অসংখ্য নাম না জানা প্রেমিকের মধ্যে
একটি যুগল । চল এখানে আমার দমবন্ধ হয়ে আসছে । এ বাড়ি, এ গ্রাম,অভি অভিশপ্ত গ্রাম। যতক্ষণ এ খানে আছি ততোক্ষণ তোমাকে আমি নিবিড় করে পাব না । আমরা যে খানে যাব সে খানে থাকব কপোত কপতির মত । সে খানে তুমি কর্মক্লান্ত দেহ মন নিয়ে আসবে আমি তোমার ক্লান্তি দূর করার জন্যে ভালবাসার ডালী সাজিয়ে রাখবো । আদর করে তুমি আমায় ডাকবে "কমল" বলে আর আমি তোমাকে ডাকবো মমি বলে। সে খানের সবাই বলবে ,ঐ দেখ বাড়ি । ওখানে বাস করে কমল মমি । মমিন বললো -
কোথায় তোমার সে কল্পিত স্থান ?কমলা বললো ,জানিনা, শুধু জানি আমাদের যেতে হবে ।তুমি কাছে থাকলে পৃথিবীর যে কোন স্থানে যেতে পারি ।,
মমিন বললো ,যাব । তুমিতো জান আমি যেখানেই থাকি ফিরে আসি তোমার কাছে । আসবো চিরদিন,মৃত্যুর পরেও আমার লাশটা তোমার কাছেই ফিরে আসবে ।

(পূর্ণিমার রাতের অধ্যায় শেষ । নতুন অধ্যায় আরম্ভ হবে)
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হাসিনা-বিভ্রাট: এটা ট্রল নয়, কূটনৈতিক সতর্কসংকেত

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৮


হাসিনা-বিভ্রাট: এটা ট্রল নয়, কূটনৈতিক সতর্কসংকেত

জাপানের এক প্রভাবশালী সংসদ সদস্যের একটি পোস্ট নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে হাসাহাসি চলছে। আমার মনে হয়, হাসির আড়ালে আসল প্রশ্নটা চাপা পড়ে যাচ্ছে।

ঘটনাটা কী
প্রধানমন্ত্রী... ...বাকিটুকু পড়ুন

দায়বদ্ধতা: আমরা সবাই ইনসাফের লোক—যতক্ষণ না নিজের স্বার্থ ছাড়ার প্রশ্ন আসে!

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

একজন মানুষ অসুস্থ বোধ করছেন। ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে কাতর কণ্ঠে বলছেন, একটু বসতে দেবেন? শরীরটা ভালো লাগছে না। আশপাশে মানুষ আছে, আসন আছে, চলমান ট্রেন আছে—শুধু তাঁর জন্য একটু জায়গা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচন।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:২৯


এখন পর্যন্ত প্রকাশিত এক্সিট পোল অনুযায়ী, কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন ৬১টি নিশ্চিত করতে পারেনি।
নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট, প্রায় ৫১–৫২ আসন।
গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট: প্রায় ৪৯–৫১ আসন... ...বাকিটুকু পড়ুন

এক সেকেন্ডের নেই ভরসা

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৩


সংসারের শত দায়িত্ব কাঁধে। ধাপে ধাপে সব পালন করতে হবে। মোটরসাইকেল নিয়ে ভালো মনে রাস্তায় নামলেন রাইড শেয়ার করবেন বলে। হঠাৎ একটা প্রাইভেট কারের সাথে ধাক্কা লাগল। আপনি রাস্তায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

অসমাপ্ত নীহারিকা - কেয়া ।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৭



বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাকে দেখলে মানুষের প্রথম যে কথাটা মনে হতো, তা হলো—ছেলেটার নিশ্চয়ই কোনো সমস্যা আছে।
কালো জিনস। কালো টি-শার্ট। টি-শার্টে কখনো Behemoth, কখনো Slayer, কখনো Cannibal Corpse। কানে হেডফোন। চোখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×