পূর্ব লেখার পরে
রাধিকা-
সম্মুখে কালা হৃদয়ে জ্বালা
কলাসি ভরি যেতে না পারি,
আঁধার হলো একেলা বালা।
সিক্ত বসনে চাহি আন মনে
মোর পানে কেন চাহ ক্ষণে(২)
তোমাকে দেখে যমুনা কুলে
মন কেন আজ হলো উতলা ?
জলে ভরি মোর শূন্য গাগরী
যেতে হবে আজ অতি তাড়াতাড়ি,
আঁধার হলো একেলা বালা ।।
[কৃষ্ণ রাধার কাছে এসে ফুলের মালা গলে পরিয়ে দিল। রাধা কি জানি ভেবে মালাটি খুলে যমুনার জলে ভাসিয়ে দিল। অতপর পাশ কাটিয়ে পথ চলতে লাগল। কৃষ্ণ মনে কষ্ট পেয়ে বলছে ।]
কৃষ্ণ--
যেতে যেত পথে কাঁদালে মোরে
কত প্রেমের ছলে ,
নয়ন বানে কেন বিধিলে মোরে
যদি ফেলিলে ফুলের মালা
যমুনা জলে।
ওগে নীপবালা করিছ খেলা
প্রেম যমুনা কূলে,
কেন শুনিলে আমার বাণী
প্রেমিকা সম
যদি নাহি থাকিলে ?
[রাধিকা পেছন ফিরে বললো]
রাধা-
সেই ফুলের মালা
হৃদে বাধালো জ্বালা
যেন কনক চাঁপা দিল অলকে কালা ।
সাঁজের বেলা যবে ছিনু একেলা
উদাসী মন মোর হলো উতলা ।।
[কৃষ্ণ রাধার চলে যাওয়ায় ব্যথিত হয়ে বলছে]
কৃষ্ণ--
কেন পথ চলিতে পদে ফুল দলিতে,
আসিলে নিঠুর বালা একলা জলে ?
সিক্ত বসনে চলো গাগরী কাখে
কেন ফিরিয়া ফিরিয় চাহ আমাকে দেখে ?
তোমার রূপের ছটা মোর হৃদে জ্বালিলে ।
[ যখন শ্যামের বাঁশী রাধা নাম ধরে বাজলো তখন রাধা ঘর ছেড়ে
অভিসারে চললো । রাধাকে দেখে কৃষ্ণ বলছে--
এস শ্যামল বরণে চঞ্চল চরণে
সোনা বরনী রাই,
ক্ষণিকে আস কেন ভাল বাস
যদি চির কালে নাহি পাই ?
অরূপে থাকে রূপের লহরী
আহা: কিরূপ দেখে প্রাণে মরি ।
আর জনমে হারিয়ে তোমায়
এ জনমেও নাহি পাই ।।
{জীব আত্মা পরম আত্মার সাথে মিশে গেল । তাই লেখক বলছে}
আজ বন উপবন মাঝে মোহন মরলী ধারী
কুসুমে কুসুমে ফিরে শ্যাম ।
শোন তাহারি বাঁশী, মুরলী বোলে রাধা নাম।
ঐ কুসুমে কুসুমে ফেরে শ্যাম ।।
বাঁশরী ডাকে এসো পিয়ারী
অভিসারে রাধা বিহারী।
বন ফুল হ'ল চঞ্চল,
কেতকি উড়াল অঞ্চল
কোকিলা ডাকে সখী
গাহ গুন ধাম।
কুসুমে কুসুমে ফেরে শ্যাম।।
ফুলকলি দোলে পরত খোলে,
প্রেমের মিলন লাগি প্রেমিকা ভোলে।
পরাণ প্রিয়া আনে সুন্দর সৌরভ
হাসিতে সখী দিল বাম
কুসুমে কুসুমে ফেরে শ্যাম।।
স মা প্ত
ব
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই অক্টোবর, ২০১৪ সকাল ১০:০৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



