somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তাসের ঘর বনাম বাস্তব হিসাব

২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পরিবারে বড় ভাই হওয়া মানেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ত্যাগী বা মহান হয়ে যাওয়া নয়। আমাদের সমাজে একটি অলিখিত নিয়ম রয়েছে যে, পরিবারের প্রথম সন্তান মানেই তিনি অনেক ত্যাগ করবেন এবং ভাইবোনদের আগলে রাখবেন। কিন্তু বাস্তবতা সবসময় বইয়ের পাতার মতো হয় না। কখনো কখনো "বড় ভাই" পদবীটি কেবল একটি বয়সের সংখ্যার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, কোনো বাস্তব অবদানে নয়।
সবচেয়ে দুঃখজনক এবং বিরক্তিকর পরিস্থিতি তখন তৈরি হয়, যখন কোনো বাস্তব ত্যাগ বা অবদান ছাড়াই একজন মানুষ সারাদিন নিজের মহিমা কীর্তন করতে থাকেন। যখন তার ত্যাগের খাতাটি আসলে শূন্য, অথচ মুখে তার খই ফোটে। সারাদিন বাড়িতে নিজের অবদানের কথা বলে বেড়ানো এবং ছোটদের ওপর একধরণের মানসিক চাপ তৈরি করা আসলে এক গভীর ব্যক্তিত্বের সংকটের লক্ষণ। মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, যারা ভেতরে ভেতরে নিজেদের ব্যর্থতা বা নিষ্ক্রিয়তা সম্পর্কে অবগত, তারা অবচেতনভাবেই এক ধরণের অপরাধবোধে ভোগেন। এই অপরাধবোধ ঢাকতেই তারা মুখে এক বিশাল অবদানের দেয়াল তৈরি করতে চান। তারা ভাবেন, "আমি যদি বারবার জোরে জোরে বলি যে আমি অনেক করেছি, তবে হয়তো সবাই একসময় বিশ্বাস করতে শুরু করবে।"
এই ধরণের মানুষের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হয় তখন, যখন তাদের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ বা প্রশ্ন করা হয়—"আচ্ছা ভাইয়া, তুমি আসলে আমাদের জন্য বা সংসারের জন্য কী করেছ?"
এই একটি প্রশ্নেই তাদের তৈরি করা তাসের ঘর ভেঙে পড়ে। যেহেতু কোনো বাস্তব ও যৌক্তিক উত্তর তাদের কাছে থাকে না, তাই তারা তখন অবাস্তব, অতিরঞ্জিত এবং অগ্রহণযোগ্য গল্প সাজাতে শুরু করেন। এমন সব ছোটখাটো বিষয়কে তারা বিশাল ত্যাগের রূপ দেন, যা হয়তো যেকোনো সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন অভ্যাসের অংশ। অতীতে ঘটে যাওয়া কোনো সামান্য ঘটনাকে টেনে এনে এমনভাবে উপস্থাপন করেন, যেন পুরো পরিবার আজ তাদের সেই একটি কাজের জন্যই টিকে আছে! এই মনগড়া গল্প আসলে তাদের নিজেদের তৈরি করা এক কাল্পনিক জগৎ, যেখানে তারা নিজেকে 'নায়ক' বা 'ত্রাতা' হিসেবে দেখতে পছন্দ করেন।
এক পর্যায়ে তিনি অবদানের কথা বাদ দিয়ে ব্যক্তি-কেন্দ্রিক আক্রমণ শুরু করেন। যে ভাই তাকে প্রশ্ন করেছে, তাকেই উল্টো চেপে ধরে বলেন—"তোর অবদান কী?"
অথচ বাস্তব হিসাবের খাতা খুললে দেখা যায় সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র। প্রবাস থেকে গত ৫ বছরে ওনাকে মোট ১২ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে। যার বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
• সাড়ে ১০ লক্ষ টাকা: ৫ বছরে প্রবাস থেকে পাঠানো মোট নগদ অর্থ। এর মধ্যে সাড়ে ৬ লক্ষ টাকা সরাসরি ওনার গাড়ির কিস্তি বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে।
• ৫০ হাজার টাকা: ঘরের ছাদ ঢালাইয়ের দিন পাঠানো বিশেষ সাহায্য।
• ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা: নিজের বিয়ের অনুষ্ঠান বাবদ ২ লক্ষ টাকা পাঠানো হয়েছিল। সেখানে মাত্র ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়। অনুষ্ঠান না হওয়ায় বাকি ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ওনার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে ইনভেস্ট করা হয়।
এই অকাট্য হিসাব যখন সামনে দেওয়া হয়, তখন তিনি প্রসঙ্গ ঘুরিয়ে আবেগীয় তাস খেলেন এবং বলেন—"মা-বাবার জন্য কী করেছিস?"
অথচ মা-বাবার সমস্ত খরচের টাকা ওনাকেই পাঠানো হতো, পাশাপাশি মা-বাবা যেন ভালো থাকেন সেজন্য ওনাদের আলাদাভাবেও অর্থ দেওয়া হতো।
এরপর তিনি দাবি করেন—"তোর জন্য আমি অনেক করেছি, অনেক টাকা ইনভেস্ট করেছি।" ওনার সেই তথাকথিত "বিশাল" ইনভেস্টমেন্টের বাস্তব নমুনা এবং হিসাবটি একটু দেখা যাক:
• ১৫ হাজার টাকা: ঢাকায় মোবাইলের কাজ শেখার জন্য (৫ হাজার টাকা ভর্তি ফি এবং খাওয়া-দাওয়া মিলিয়ে ১০ হাজার)।
• ১৮ হাজার টাকা (সামথিং): মোবাইল কল মিনিট বিক্রির দোকানে দেওয়া ওনার ইনভেস্টমেন্ট।
• ২ লক্ষ টাকা (সামথিং): ২০০৭ সালে ওনার মাধ্যমে প্রবাসে আসার ভিসার দাম ছিল দেড় লক্ষ টাকা, আর গালফ এয়ারের টিকিট ও প্রসেসিং বাবদ ৩০+২০ = ৫০ হাজার টাকা।
________________________________________
সংসারের আসল চালচিত্র এবং ওনার বর্তমান অবস্থান
ওনার করা এই ২ লক্ষ টাকার ইনভেস্টমেন্টের বিপরীতে ছোট ভাইয়েরা পরিবারকে কী দিয়েছে, তা ইতিহাস দেখলেই স্পষ্ট হয়। ২০০৭ সালে ছোট ভাই প্রবাসে যাওয়ার ঠিক দুই বছরের মাথায় (২০০৮ সালে) বড় ভাই দেশে চলে আসেন। ২০০৯ সালে আরেক ছোট ভাইও প্রবাসে পাড়ি জমান। অর্থাৎ, বড় ভাই দেশে চলে আসার পর দুই ছোট ভাই একযোগে প্রবাসী হয়ে সংসারের হাল ধরেন।
একই সাথে তখন বাবাও জীবিত ছিলেন এবং ওনার নিজস্ব আয় আলহামদুলিল্লাহ, বাবা এখনো জীবিত আছেন। অথচ বড় ভাই দেশে গিয়ে ব্যবসা করতে গিয়ে সম্পূর্ণ লস করে একবারে শূন্য হয়ে যান। তখন নিজের সুবিধার জন্য তিনি বাবার কিছু দেনা পরিশোধ করেন। সেই সুযোগে বাবা নিজের ঘর-বাড়ির দলিল বন্ধক রেখে ওনাকে ব্যাংক থেকে ঋণের ব্যবস্থা করে দেন। অর্থাৎ, বাবার সম্পদকে পুঁজি করেই তিনি পুনরায় ব্যবসা শুরু করেন। পরবর্তীতে সেই ব্যবসা ভালো করে বর্তমানে তিনি কোটি টাকারও বেশি সম্পদের মালিক। বাবার সম্পদ দিয়ে ওনার ব্যবসা শুরু হয়েছিল, সেই ব্যবসার লভ্যাংশ দিয়ে তিনি একের পর এক জায়গা কিনেছেন এবং সব নিজের নামে লিখেছেন—পরিবারের অন্য কোনো ভাইবোন বা সদস্য তাতে কখনো বাধা দেয়নি।
একেই সাথে যৌথ পরিবার থাকায় অবস্থায় যে ঘর দিয়েছে সেই ঘরের যায়গা ও বাবার যায়গা । ওই ঘরটাও দখলে রেখেছে । আবদান আবদান বলে । আমার বড় ভাইর অবদান খুঁজতে গিয়ে আমি কিছু পাইনা । আবদান দেখি পাশের বাড়ীর মিজান ভাই নাম আসে তিনি তার ছোট ভাইকে বিদেশ নিয়েছে আবার একটি ঘর করে দিয়েছে ।
নাম আসে আদর কাকার , নিজে সম্পদ কিনে ভাইদের ঘর করার সুযোগ দিয়েছে ভাইদের বিদেশ নিয়েছে এক ভাইকে দুইবার নিয়েছে ।
নাম আসে – হানিফ ভাই আর বেলাল ভাইর- ঢাকা শহরের মতো যায়গায় বাড়ীর মালিক সব ভাই বোন । আরও অনেক উদারণ আছে ।
অথচ আজ যখন ছোট ভাই প্রবাস থেকে পাঠানো নিজের কষ্টের উপার্জনের হিসাব চাইছে, তখন তিনি দুনিয়ার সবচেয়ে খারাপ ভাই হয়ে গেছেন! বড় ভাইয়ের ভাষায়—"তোর মতো খারাপ ছেলে আমি আর দেখিনি।"
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৩০
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেশভাগের পর-

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০৮



সময় তখন ১৯৫০ সাল।
ওমর আলীর জ্বর এসেছে। জ্বর নিয়েই তিনি পত্রিকা পড়ছেন। দীর্ঘদিনের অভ্যাস। টারজান গিয়েছে বাজার করতে। এর আগেও টারজান বেশ কয়েকবার বাজার করেছে। বাজার করতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

হায়ার সেলফ্‌

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৪১


শীতের সময়ে রাত ১০ টা অনেক রাত। আর তা যদি হয় শহর থেকে দূরে শহরতলীতে,আবাসিক এলাকার আশপাশে,তাহলে তো কথাই নেই। রাত আটটা বাজতে না বাজতেই পাড়ার সকলে সেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এফএম রেডিও

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:২০

২০০৯ সাল। একটি ছেলে। সে তার নানা নানীর সাথে মুন্সীগঞ্জ এ থাকতো। নানা তার নাতিকে একটি মোবাইল উপহার দেয়। নকিয়া ১৬৬১। সেই মোবাইলে এফএম রেডিও ছিলো। সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্রীয় সফর, আম তারেক আর চার সিটের দূরত্ব!

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:১৪

প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নেপালে রাষ্ট্রীয় সফরে যাবেন। সস্ত্রীক আমন্ত্রণ পেয়েছেন তিনি। তখন কিশোর তারেক রহমানেরও শখ জাগল—তিনিও নেপাল যাবেন।

বাবা বুঝিয়ে বললেন, রাষ্ট্রীয় সফরে যাওয়ার আমন্ত্রণ মানেই পরিবারের সবাইকে রাষ্ট্রীয় টাকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

শাহজালাল রুমি দেশ ছেড়েছেন কার ভয়ে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৮


থাপ্পড়-কাণ্ডের পর দেশ ছেড়েছেন শাহজালাল রুমি। টঙ্গীতে নিজের মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ করাই যেন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁর জন্য। গণমাধ্যমের সামনে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি, ব্যক্তিগত বার্তায় ভয়ভীতি প্রদর্শন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×