somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রাষ্ট্রীয় সফর, আম তারেক আর চার সিটের দূরত্ব!

২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নেপালে রাষ্ট্রীয় সফরে যাবেন। সস্ত্রীক আমন্ত্রণ পেয়েছেন তিনি। তখন কিশোর তারেক রহমানেরও শখ জাগল—তিনিও নেপাল যাবেন।

বাবা বুঝিয়ে বললেন, রাষ্ট্রীয় সফরে যাওয়ার আমন্ত্রণ মানেই পরিবারের সবাইকে রাষ্ট্রীয় টাকায় বিদেশ ঘুরিয়ে আনার লাইসেন্স নয়। নিজের পকেটের সামর্থ্য নেই বলে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে হাত দেওয়ার প্রশ্নই আসে না।

বহু বছর পর এই স্মৃতিচারণ স্বয়ং তারেক রহমানই করেছিলেন—বাবার সততা ও রাষ্ট্রীয় অর্থের প্রতি দায়িত্বশীলতার উদাহরণ হিসেবে।

আহা, ইতিহাসের কী নির্মম রসিকতা!

যে পুত্র একদিন বাবার রাষ্ট্রীয় অর্থের সততার গল্প শুনিয়েছিলেন, আজ তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকারের বিদেশ সফরের বহর নিয়ে যদি এমন প্রশ্ন ওঠে, তবে সেই পুরোনো স্মৃতিচারণ সামনে আসবেই। কারণ, রাজনীতিতে বাবার সততার গল্প বলা যত সহজ, নিজের কাজে সেই সততার প্রতিফলন ঘটানো ততটাই কঠিন।

এবার আসা যাক ‘আম তারেক’ প্রসঙ্গে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান সফরে গিয়ে বাংলাদেশের স্বার্থরক্ষায় তিনি কোন কোন বিষয়ে কাজ করবেন? কী প্রস্তুতি নিয়েছেন? কোন খাতে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা আছে? বাংলাদেশের জন্য কী বার্তা নিয়ে ফিরবেন?

এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে যদি দেখা যায়, প্রশ্নকর্তাই বেশি প্রস্তুত, আর সফরসঙ্গী কম—তাহলে ব্যাপারটা একটু বিব্রতকরই বটে!

অবশ্য তাঁর উচ্ছ্বাসের কারণটা বোঝা কঠিন নয়। জীবনে প্রথমবার বিমানে চড়া, বিদেশ সফর, তার ওপর প্রধানমন্ত্রীর মাত্র চার সিট সামনে বসার সৌভাগ্য! এমন অভিজ্ঞতায় আনন্দে আত্মহারা হওয়াই স্বাভাবিক। বাংলাদেশের অর্থনীতি, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য কিংবা বিনিয়োগের হিসাব পরে হবে; আগে চার সিটের দূরত্বটুকু উপভোগ করা যাক!

তবে প্রশ্ন হলো, রাষ্ট্রীয় সফর কি আনন্দভ্রমণ, নাকি জাতীয় স্বার্থ আদায়ের কর্মসূচি? বিমানে কে প্রধানমন্ত্রীর কত সিট সামনে বসলেন, সেটি সংবাদ হতে পারে; কিন্তু সফর শেষে বাংলাদেশ কী পেল, সেটিই হওয়া উচিত আসল সংবাদ।

বিএনপিতে কি যোগ্য, অভিজ্ঞ ও ত্যাগী নেতার অভাব পড়েছে? এমন মানুষ কি নেই, যাঁরা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বোঝেন, অর্থনীতি নিয়ে কাজ করেছেন, কূটনৈতিক আলোচনায় অবদান রাখতে পারবেন? যদি থাকেন, তবে তাঁদের বাদ দিয়ে এমন ব্যক্তিদের সফরসঙ্গী করার যৌক্তিকতা কী—সেই প্রশ্নের উত্তর জনগণ চাইতেই পারে।

আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি না, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আজকের এমন কাউকে তাঁর আশপাশে রাখতেন কি না। তবে তাঁর নামে প্রচলিত সততা ও মিতব্যয়িতার আদর্শের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় সফরে অপ্রয়োজনীয় লোকসমাগমের ধারণা যে সাংঘর্ষিক, তা বলার জন্য রাজনৈতিক গবেষক হওয়ার প্রয়োজন নেই।

রাষ্ট্রের টাকা কোনো দলের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। প্রধানমন্ত্রীর সফরও কোনো নেতার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা বাড়ানোর পিকনিক নয়। প্রতিটি সফরসঙ্গীর উপস্থিতির পেছনে থাকা উচিত সুস্পষ্ট দায়িত্ব, কাজের পরিকল্পনা এবং জাতীয় স্বার্থে অবদান রাখার সক্ষমতা।

তারেক রহমানের সামনে এখন বড় সুযোগ—বাবার সততার গল্প শুধু স্মৃতিচারণে সীমাবদ্ধ না রেখে রাষ্ট্র পরিচালনায় তার বাস্তব প্রতিফলন ঘটানো।

বাবা যদি ছেলের বিদেশ যাওয়ার আবদারে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের টাকা খরচ করতে না পারেন, তবে সেই বাবার উত্তরসূরির কাছেও মানুষের প্রত্যাশা থাকবে—রাষ্ট্রের অর্থ ব্যয়ের প্রতিটি সিদ্ধান্তে একই রকম সংযম ও জবাবদিহি নিশ্চিত হোক।

কারণ, বাবার উত্তরাধিকার শুধু পদবি নয়, আদর্শও।

আফসোসটা সেখানেই—প্রেসিডেন্ট জিয়ার সততার গল্প বলা যায়, কিন্তু সেই সততার মানদণ্ডে নিজেকে দাঁড় করানোই আসল পরীক্ষা।

আর রাষ্ট্রীয় সফরে চার সিট সামনে বসার আনন্দ যতই হোক, দেশে ফিরে যদি দেখানোর মতো কাজ না থাকে, তবে ইতিহাসের খাতায় সেই সফর কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে নয়, নিছক ‘বিদেশ ভ্রমণ’ হিসেবেই জায়গা পাবে!
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:১৫
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মার্কো রুবিও ভারতে কী করছেন?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২২


আওয়ামী দোসর নবনীতা আপার মতে, মার্কো রুবিও ভারতে গেছেন শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ব্যবস্থা করতে। ডিসেম্বর মাসে যাতে শেখ হাসিনা ট্রাভেল পাস নিয়ে দেশে ফিরতে পারেন, সেই আলোচনা করতেই নাকি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সুন্দর সর্বনাশ

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:২১



সবকিছুই পাওয়া যায় এখন বিপণনের কল্যাণে,
বিপনি বিতানে বিতানে;
চাইলে কিনে নিতে পারো লালনীলহলুদ মনও!

মন চাইলে পোষ মানাতে পারো বনের অবাধ্য পশুও;
শুধু পোষ মানাতে যেও না মানুষ;... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশভাগের পর-

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০৮



সময় তখন ১৯৫০ সাল।
ওমর আলীর জ্বর এসেছে। জ্বর নিয়েই তিনি পত্রিকা পড়ছেন। দীর্ঘদিনের অভ্যাস। টারজান গিয়েছে বাজার করতে। এর আগেও টারজান বেশ কয়েকবার বাজার করেছে। বাজার করতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এফএম রেডিও

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:২০

২০০৯ সাল। একটি ছেলে। সে তার নানা নানীর সাথে মুন্সীগঞ্জ এ থাকতো। নানা তার নাতিকে একটি মোবাইল উপহার দেয়। নকিয়া ১৬৬১। সেই মোবাইলে এফএম রেডিও ছিলো। সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্রীয় সফর, আম তারেক আর চার সিটের দূরত্ব!

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:১৪

প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নেপালে রাষ্ট্রীয় সফরে যাবেন। সস্ত্রীক আমন্ত্রণ পেয়েছেন তিনি। তখন কিশোর তারেক রহমানেরও শখ জাগল—তিনিও নেপাল যাবেন।

বাবা বুঝিয়ে বললেন, রাষ্ট্রীয় সফরে যাওয়ার আমন্ত্রণ মানেই পরিবারের সবাইকে রাষ্ট্রীয় টাকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×