somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শাহজালাল রুমি দেশ ছেড়েছেন কার ভয়ে ?

২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


থাপ্পড়-কাণ্ডের পর দেশ ছেড়েছেন শাহজালাল রুমি। টঙ্গীতে নিজের মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ করাই যেন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁর জন্য। গণমাধ্যমের সামনে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি, ব্যক্তিগত বার্তায় ভয়ভীতি প্রদর্শন, সব মিলিয়ে এমন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে একজন সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক জন্মানো অস্বাভাবিক নয়।

রুমি সাহেব কোন দেশে গেছেন, তাঁর পরিবারের সদস্যরা কোথায় আছেন, তা নিশ্চিতভাবে জানা যাচ্ছে না। তবে বাজারে খুব শিগগিরই নতুন এক ষড়যন্ত্র তত্ত্ব চালু হতে পারে। সেটি হলো, রুমি সাহেবের মধ্যেই নিশ্চয়ই কোনো ভেজাল ছিল ! ইতিমধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে ।

একজন সাধারণ মানুষের কাছে নিজের এবং পরিবারের নিরাপত্তা সবার আগে। কেউ আর ২০১৩-১৪ সালের মতো হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে চায় না। আত্মরক্ষার জন্য দেশ ছেড়ে চলে যাওয়াকে কাপুরুষতা বলার সুযোগ নেই। বরং প্রশ্ন হচ্ছে, একজন বাবা নিজের সন্তানের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ করার পর কেন তাঁকে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে এতটা শঙ্কিত হতে হবে? রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাহলে কাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে ?

তবে শাহজালাল রুমির প্রতিবাদ সাধারণ মানুষের কাছে একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকতে পারে। অন্তত তিনি নিজের মেরুদণ্ডটা ক্ষয়ে যেতে দেননি। অন্যায় দেখে মুখ বুজে সহ্য করেননি, সরাসরি প্রতিবাদ করেছেন। সন্তানের প্রতি একজন বাবার এমন দায়িত্ববোধ থাকা উচিত। ক্ষোভের বশে অভিযুক্ত ব্যক্তির পাশাপাশি আরও এক-দুজনের গায়ে হাত তুলে থাকলে সেটি অবশ্যই সমর্থনযোগ্য নয়। কিন্তু তাঁর ক্ষোভের উৎস এবং প্রতিবাদের প্রেক্ষাপটকে উপেক্ষা করে পুরো ঘটনাকে কয়েকটি থাপ্পড়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ কর বুদ্ধিবৃত্তিক অসততা।

এখানে আরেকটি অস্বস্তিকর সত্য রয়েছে। রুমি সাহেব যে ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়ে উঠেছিলেন, সেই ব্যবস্থাকে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠার সুযোগ করে দেওয়ার পেছনে তাঁর মতো মানুষেরও কিছু দায় রয়েছে। একজন শিক্ষিত, উচ্চমধ্যবিত্ত মানুষের সন্তানের জন্য একটি ভালো সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকার কথা। অথচ সমাজের একটি অংশ সাধারণ শিক্ষার ওপর আস্থা হারিয়ে সন্তানকে তথাকথিত নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। যেন নৈতিকতা শেখানোর একচেটিয়া অধিকার বিশেষ ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে !

অবশ্য সাধারণ শিক্ষার প্রতি এই অনীহা এক দিনে তৈরি হয়নি। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের সামাজিক ও রাজনৈতিক বিনিয়োগ। দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে দলবাজি, ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি এবং নৈতিকতাবিবর্জিত শিক্ষকদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত করা হয়েছে। মানসম্মত সাধারণ শিক্ষার ওপর মানুষের আস্থা দুর্বল হয়েছে। সেই শূন্যস্থান পূরণ করতে গড়ে উঠেছে সমান্তরাল একাধিক শিক্ষাব্যবস্থা। শিক্ষাব্যবস্থার এই ফাঁকফোকর দিয়ে এমন সব প্রতিষ্ঠানও বিস্তার লাভ করেছে, যাদের জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তোলার সাহস অনেকের নেই।

রুমি সাহেব সম্ভবত থাপ্পড় দেওয়ার পর বুঝতে পেরেছেন, তিনি কেবল একজন ব্যক্তির গায়ে হাত তোলেননি, এমন এক ক্ষমতাবলয়ের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছেন, যার পেছনে শক্তিশালী সামাজিক ও রাজনৈতিক সমর্থন রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্তসাপেক্ষ, কিন্তু এই ঘটনার পর যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে, সেটি উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। সরকারও অনেক সময় সংঘবদ্ধ গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে দ্বিধা করে। কারণ, এখানে ন্যায়বিচারের চেয়ে রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ বড় হয়ে ওঠে।

আর সাধারণ মানুষ ? তারাও এই ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখার অংশীদার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় তোলা যত সহজ, বাস্তবে একজন বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো তত সহজ নয়। রুমি সাহেব অনলাইনে হাজার হাজার সমর্থক পেয়ে থাকতে পারেন। কিন্তু সত্যিকার অর্থে তাঁর জীবন বিপন্ন হলে সেই সমর্থকদের কতজন রাস্তায় নামবেন? কতজন নিজের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলে তাঁর পাশে দাঁড়াবেন? সম্ভবত অধিকাংশ মানুষ নিজের ঘরের দরজা বন্ধ করে বসে থাকবেন। পরদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন পোস্ট লিখে নাগরিক দায়িত্ব শেষ করবেন।

সুতরাং রুমি সাহেবের দেশ ছাড়ার খবর সত্য হলে সেটিকে নিছক পলায়ন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। একজন সাধারণ মানুষের পক্ষে সংঘবদ্ধ ক্ষমতার বিরুদ্ধে একা লড়াই করা সহজ নয়। নিজের পরিবারকে নিরাপদ রাখতে বিদেশে অপেক্ষাকৃত নিশ্চিন্ত জীবন বেছে নেওয়া তাঁর কাছে যুক্তিসংগত মনে হতেই পারে।

‘আপনারা ভালো থাকেন’-দেশ ছাড়ার খবর দিয়ে রুমি বললেন: বৈশাখী নিউজ
ফটোকার্ড ক্রেডিট : বিডি টুডে


সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:২৭
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মার্কো রুবিও ভারতে কী করছেন?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২২


আওয়ামী দোসর নবনীতা আপার মতে, মার্কো রুবিও ভারতে গেছেন শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ব্যবস্থা করতে। ডিসেম্বর মাসে যাতে শেখ হাসিনা ট্রাভেল পাস নিয়ে দেশে ফিরতে পারেন, সেই আলোচনা করতেই নাকি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সুন্দর সর্বনাশ

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:২১



সবকিছুই পাওয়া যায় এখন বিপণনের কল্যাণে,
বিপনি বিতানে বিতানে;
চাইলে কিনে নিতে পারো লালনীলহলুদ মনও!

মন চাইলে পোষ মানাতে পারো বনের অবাধ্য পশুও;
শুধু পোষ মানাতে যেও না মানুষ;... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশভাগের পর-

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০৮



সময় তখন ১৯৫০ সাল।
ওমর আলীর জ্বর এসেছে। জ্বর নিয়েই তিনি পত্রিকা পড়ছেন। দীর্ঘদিনের অভ্যাস। টারজান গিয়েছে বাজার করতে। এর আগেও টারজান বেশ কয়েকবার বাজার করেছে। বাজার করতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এফএম রেডিও

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:২০

২০০৯ সাল। একটি ছেলে। সে তার নানা নানীর সাথে মুন্সীগঞ্জ এ থাকতো। নানা তার নাতিকে একটি মোবাইল উপহার দেয়। নকিয়া ১৬৬১। সেই মোবাইলে এফএম রেডিও ছিলো। সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্রীয় সফর, আম তারেক আর চার সিটের দূরত্ব!

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:১৪

প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নেপালে রাষ্ট্রীয় সফরে যাবেন। সস্ত্রীক আমন্ত্রণ পেয়েছেন তিনি। তখন কিশোর তারেক রহমানেরও শখ জাগল—তিনিও নেপাল যাবেন।

বাবা বুঝিয়ে বললেন, রাষ্ট্রীয় সফরে যাওয়ার আমন্ত্রণ মানেই পরিবারের সবাইকে রাষ্ট্রীয় টাকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×