somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হায়ার সেলফ্‌

২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


শীতের সময়ে রাত ১০ টা অনেক রাত। আর তা যদি হয় শহর থেকে দূরে শহরতলীতে,আবাসিক এলাকার আশপাশে,তাহলে তো কথাই নেই। রাত আটটা বাজতে না বাজতেই পাড়ার সকলে সেখানে ঘুমানোর প্রস্তুতি নেয়। ঠিক তখনই টুসি এক দফা পড়া শেষ করে ভাবলো বাইরে থেকে হেঁটে আসলে কেমন হয়!
পড়া বোঝাই মাথা ভার হয়ে আছে। শীতের রাতে বেশ গরম অনুভূত হচ্ছে। তাই যেই ভাবা সেই কাজ। ঘর থেকে বেরিয়ে সামনে পড়লো পলাশদের বাসা। বাসার মালিক কেউ আর এখন নেই। বাসাটা পুরো অন্ধকার। পলাশ মাঝে সাঝে এসে থাকে যদিও। কিন্তু সে নিজেও রাতে জাগে না। টুসির বাড়ির পিছন দিকে বৃক্ষরাজি ঠাঁয় দাঁড়িয়ে আছে বিস্তৃত মাঠ জুড়ে। যতদূর চোখ যায়, ওই দিকটায় সরু পথ চলার রাস্তা আছে। রাস্তার ওপারের বাড়ির মালিক বাড়ি বিক্রয়ের নোটিশ দিয়েছে। বাড়ি ছেড়ে কবে যে সে চলে গেছে টুসি জানেও না। আসলে বিদেশ বিভুঁইয়ে টুসির সাথে এই শহরতলির অধিবাসীরা কেউ পরিচিত নয়, ওই সামনের বাড়ির পলাশ ছাড়া।
বাড়ির তিন দিক ঘুরে পথের ঢাল পেরিয়ে সামনের দিকের নিচু জমির বরাবর বহমান সরু খাল বরাবর অগ্রসর হলো টুসি। বেশ কিছুক্ষণ হাঁটল। বেশি ঢাল পেরোলে আবার ফিরতি পথে রাস্তা ধরে উপরের দিকে উঠতে কষ্ট হবে। তাই থেমে ফেরত এলো বাড়ির দিকে। প্রথম ডান দিকটা ছেড়ে দ্বিতীয় ডান দিকের দুই রাস্তার সংযোগস্থলে তার বাসা। এই সংযোগস্থলের একদিকে পলাশের বাড়ি, যে বাড়িতে আজ কেউ নেই, অথচ বারান্দায় চল্লিশ পাওয়ারের হলুদ বাতি জ্বলছে। আর উল্টোদিকে টুসির বাড়ি। পলাশের বাড়ির অপরদিকের সামনের

বাড়িটা প্রাচীনকালের ক্যাসেল সদৃশ ডিজাইনের অপূর্ব সুন্দর লাল ইটের গাঁথুনিতে গড়া। বাড়ির চারিদিক ঘিরে অনেক জানালা। সবগুলো জানালা অন্ধকারে ঢাকা। শুধু বাড়িতে ঢোকার পথে বাঁ দিকের জানালায় একটা টেবিল ল্যাম্প জ্বলছে। রাত হলেই, টেবিল ল্যাম্পটা জ্বলে উঠে। নয়নাভিরাম আলোয় ভরে যায় বাড়ির ওই ছোট্ট এক অংশ। সাদা পর্দার ওপারে যেন এক মোহনীয় আবেশ তৈরি হয়। টুসি যতবার দেখে ততবার মুগ্ধ হয়ে কোথায় যেন হারিয়ে যায়। কে আছে ওই বাড়িতে? সম্পূর্ণ খালি এ বাড়িটাতে কাউন্ট ড্রাকুলা একাই থাকেন কি ? সন্ধ্যা হলে ওই জানালার পাশের সোফায় বসেন বা রিডিং টেবিলের চেয়ারে বসেন। অথবা জানালার পাশের কোন আরাম কেদারায়।
ক্যাসেল ছাড়িয়ে হেঁটে যেতে যেতে টুসি দেখলে বাড়ির পাশ একদম জনবসতিহীন। রয়েছে এক বিশাল খেলার মাঠ। মানে এইদিকটায় এলে, এই রাস্তায় এটাই শেষ বাড়ি। অন্ধকার মাঠের কাছে হেঁটে যেয়ে আবার উল্টে ফেরত এলো নিজ বাড়ির রাস্তার দিকে।

বরাবর সোয়েটারের উপর গরম ওভারকোট পড়েছে। মাথা সম্পূর্ণ ঢাকা নয়। বাইরে ছয় ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রা। বেশ ঠান্ডা লাগছে। হাত মোজা দিয়ে হাত ঢাকা আছে। এবার হেঁটে হেঁটে পলাশের বাড়ির পাশ দিয়ে আসবার সময় আবারো ক্যাসেলটা একবার দেখলো। পাশে দৃষ্টি ঘুরালে পলাশের বাড়ির বারান্দায় তার আম্মার বসার আরাম কেদারা চোখে পড়ে। মানুষটা এখন নেই। এক সময় সকালে বসে তিনি রোদ পোহাতেন। উনাকে দেখেছে গত অগাস্টে। কিন্তু তখনো ভাবেনি সেটাই হবে শেষ দেখা। ২০২৫ সাল ছিল। আর এখন দেখতে দেখতে চৌদ্দ মাস পেরিয়ে গেল। স্মৃতি যেন বয়ে বেড়ানোর কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে টুসির জন্য। এসব ভাবতে ভাবতে ধীর পায়ে ফুটপাত দিয়ে এগুতে এগুতে মানবশূন্য বাড়িগুলোর পাশ থেকে কখন যে এক পথচারী আবির্ভূত হলেন কে জানে! একটুও টের পায়নি টুসি। গলার একটা কাশি দেবার শব্দে টুসি চকিতে পেছনে তাকালো। পথচারী যেন জানান দিচ্ছেন, তিনিও আছেন এই নির্জন রাস্তায় টুসির সাথে। সে এখন একা নয়। পথচারী দ্রুত পায় হেঁটে আসছেন যদিও, কিন্তু টুসি তার দিকে ফিরে তাকাতেই সম্ভাষণ জানিয়ে বললেন হায় hi!

টুসি বলল hello!

জোর কদমে টুসিকে পাশ কাটিয়ে সেই দূরের বৃক্ষরাজি ঘেরা বাগানের পাশের পথ ধরে পথচারী অন্ধকারে হারিয়ে গেলেন । কিন্তু কেন কে জানে, টুসির একটুও দেরি লাগলো না বুঝতে, এই ঘন নির্জন রাতে এই ব্যক্তি কোন সাধারণ পথচারী নন।
টুসি আর আগালো না এবার । সামনের সেই পথ বরাবর হেঁটে কোথায় যেন চলে গেছেন সেই পথচারী নিমেষে। কিন্তু টুসি বুঝতে পেরে ফেলেছে যে, তাকে তিনি জানান দিয়ে গেছেন এবার - আর আগানো নয়, এখানেই থাম। বাড়ি ফিরে যেতে হবে তোমাকে। টুসি থেমে গেল। বাড়ির দিকে ফিরে তাকালো। তার বারান্দাতে হলুদ বাতির আভায় বারান্দা ছেয়ে আছে। সিঁড়ির কাছে আসতেই সেন্সরের সাদা ঝলমলে আলোতে চারিদিক আলোকিত হয়ে গেল। পিছনে ফিরে তাকালো আরেকবার।

শীতের রাত যেন নিজেই ঘুমে মগ্ন। ওর আর বাইরে থাকার প্রয়োজন নেই, এই কথাটি জানান দিয়ে গেছেন তারই হায়ার সেলফ্‌। সাধারণ পথচারীর রূপ ধরে মানুষ বেশে এসেছেন তিনি হঠাৎ করে, কোথাও থেকে। গলায় শব্দ করে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন পেছন থেকে। দ্রুত বেগে পাশ কেটে হেঁটে চলে গেছেন সম্ভাষণ জানিয়ে। একটি কথাও অতিরিক্ত বলেন নি। যেন এসেছেন এই নির্জন রাস্তায় সতর্ক করে দিতে। জানাতে একটি কথা - আর এগোতে হবে না তোমার, এটুকুই তোমার সীমা।
.।.।.।.।

২৪/১০/২০২৬
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:২৩
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাদ্রাসা শিক্ষা একটা কর্মবিমুখ শিক্ষা

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:১৫

এদেশের মাদ্রাসা শিক্ষারে আপনি একটা স্ক্যাম হিসেবে ধরতে পারেন। মাদ্রাসার বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে যে মাদ্রাসাগুলো আছে সেগুলো বাদ দিয়ে অন্য সব মাদ্রাসাই এই স্ক্যামের ভেতরে। এটা একটা ভিক্ষার সাইকেল, দারিদ্র্য'র দুষ্টু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝর্ণা জল

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:২১


আমি ব্যস্তবতা দেখি
পানকৌড়ির সাঁতার-
কল্পনায় শুধু স্বপ্ন আঁকি,
মধ্যবিকাল ঢেউ তোলা সাগর
হতাশা ডিঙিয়ে যায়- নিরিবিলি
রাত দুপুরের বাসর।

উড়ে ধোয়া, নিঃশ্বাসে সাদা বক,
খেলা করে যে, প্রণয়ের চক-
নীল মেঘ ভীর জমায়, বর্ষা কাঁদাময়,
ভোরের ক্লান্তি দেখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিশীথের মুঠোয় - কেয়া ।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪



আমি সূর্যোদয়ের অপেক্ষায়,
হিমশীতল সকালের ভেতর নত চোখে চেয়ে আছি।
হিমার্ত জানালায় জমে ওঠে নিঃশ্বাসের মেঘ—
আঙুল বুলিয়ে মুছে দিই;,
যদিও জানি, আজ সেখানে তোমার পদচিহ্ন নেই।

শরতের বৃক্ষেরা পত্রমোচনের ভাষা জানে;
আমি কেবল তোমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিম করা কি হারাম?

লিখেছেন চারাগাছ, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৬




জিম করা কি হারাম?

হ্যাঁ, জিম করা হারাম!

যদি জিমে গিয়ে নিজের পেশিবহুল বাহুডোরে কোনো ললনাকে জড়িয়ে ধরেন!

কিন্তু তারপরেও কথা থাকে।

এখানে জড়িয়ে ধরাটা হারাম। জিম করাটা নয়!

অর্থাৎ, জিমে গিয়ে শরীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কো রুবিও ভারতে কী করছেন?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২২


আওয়ামী দোসর নবনীতা আপার মতে, মার্কো রুবিও ভারতে গেছেন শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ব্যবস্থা করতে। ডিসেম্বর মাসে যাতে শেখ হাসিনা ট্রাভেল পাস নিয়ে দেশে ফিরতে পারেন, সেই আলোচনা করতেই নাকি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×