somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মুক্তিযোদ্ধার সন্তান যখন শুধু একটি কাগজের সনদের জন্য বলতে পারে না তার বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা!!

১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ দুপুর ২:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছি, রাষ্ট্র ছি! মুক্তিযোদ্ধার সন্তান যখন শুধু একটি কাগজের সনদের জন্য বলতে পারে না তার বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা!!

এই পতাকা টা যারা আমাদের এনে দিলেন তাদের দুজনের গল্প বলবো, একজন আমার বাবা যিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, যার কোন রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নেই এবং স্বীকৃতি নিতে যার অনীহা! যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করতে গিয়ে বাবা যে গ্রামেই গিয়েছেন সেই গ্রামের মানুষই তাকে আশ্রয় দেননি এই ভয়ে যে যদি পাক হানাদার বাহিনী ও তার দোসররা জানতে পারেন যে, বাবা সেই গ্রামে আছেন তাহলে তাদের গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়া হবে! ৯ মাস এভাবেই কেটে গেছে তার, পরিচিত ছাত্রনেতা হবার কারনেই ভয়ে কোন গ্রামের মানুষ তাকে থাকতে দেননি! অথচ এদেশের মুক্তি সংগ্রামের জন্যই যিনি কিনা মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করছিলেন! যাক বাবা তার কথা কস্টে অভিমানে আর বলেন না, তার কথা না হয় আমিও অভিমানেই না বলি। অন্য গল্পটা আমার বড় মামার, যিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা, ৭১ সালে তিনি সেনাবাহিনীতে চাকুরীরত অবস্থায় মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করেন। এলাকার সকল মুক্তিযোদ্ধার মুখেই মামার বীরত্বগাথা গল্প আমরা এখনো শুনি। স্বাধীনতা যুদ্ধে তার অবদান এ রাস্ট্রের কোথায় লেখা আছে কিনা তা আমাদের জানা নেই, সরকারের গেজেট এ তার নাম তালিকাভুক্ত কিনা সেটাও আমাদের জানা নেই! ৩৩ বেঙল রেজিমেন্ট এ মামা চাকুরীরত ছিলেন। চিহ্ন হিসেবে শুধু মাত্র এখন একটা ৩৩ বেঙল রেজি. লেখা মামার সেনাবাহিনীতে চাকুরীকালীন দেয়া একটি ট্রাংক আছে! বড় মামা যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে অর্থাৎ দেশ স্বাধীন হবারও ৩/৪ মাস পর বাড়ী ফিরে এসেছিলেন। দেশ স্বাধীন হবার পরও যখন তিনি বাড়ী ফিরছিলেন না তখন নানা নানী ভেবেই নিয়েছিলেন হয়ত তাদের সন্তান মারা গেছেন। তিনি যখন ফিরে আসেন তখন তার এই দীর্ঘদিন পর বাড়ি ফেরার কথা এলাকাবাসী তার কাছে শুনে জানতে পারে যে, এই দীর্ঘ ৩/৪ মাস তিনি সদ্য ভুমিষ্ট স্বাধীন দেশের পুনবাসন কাজেই নিয়োজিত ছিলেন। স্বাধীনতার পর কিছুদিন সেনাবাহিনীতে চাকুরী করে তিনি স্বেচ্ছায় চাকুরী থেকে অবসর নেন। এরপর তিনি কৃষি কাজে মনোনিবেশ করেন, নানার জমা জমিতে এবং গরু ছাগলের খামার এসব দেখাশুনা করেই তার দিন অতিবাহিত করতেন। মামা বিয়ে করেছিলেন বেশ দেরীতে, ১৯৮৫ সালে অবশেষে তিনি বিবাহিত জীবন শুরু করেন। সবচেয়ে দু:খজনক ঘটনা তা হলো মামার মৃত্য টা স্বাভাবিক ছিল না, তখন সময়টা ভাদ্র মাস আর আমন ধান রোপনের মওসুম, আকাশ কালো হয়ে আছে চারিদিক, গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি পড়ছিল, ছাতা নিয়ে মামা বাড়ি থেকে বের হয়ে ধান রোপন দেখতে তার জমিতে গেলেন, কৃষকরা জমি তে ধান রোপন করছিলেন, তাদের সংগে মামা কথা বললেন, হাসি ঠাট্টা করলেন এবং অবশেষে তিনিও তাদের সাথে ধান রোপন করতে লাগলেন, যে যার মত কাজ করছিলেন, হটাৎ বজ্রপাতের শব্দে অন্যরা তাকিয়ে দেখেন মামা হাটু জল জমিতে পড়ে আছেন! মামা কে নিয়ে তারা বাড়ি আসলেন কিন্তু ততক্ষনে সব শেষ! মামা না ফেরার দেশে চলে গেলেন। মামী তখন ৭ মাসের অন্ত:সত্ত্বা। রোকসানা নামের আমার মামাত বোনটির জন্ম হল তখন যখন তার বাবা কবরে শুয়ে আছে। বাবা ছাড়াই সে বেড়ে উঠল, বড় হল, রোকসানার বিয়ে হয়েছে, ওর দুই সন্তান, জামাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক। একদিন আমাকে ফোন করেছিল রোকসানা ও তার জামাই। মামার মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট টা কিভাবে সংগ্রহ করা যায় তার জন্য। ওকে উত্তর দিলাম হয়ত আম্মা বলতে পারবে, আম্মার সাথে কথা বল, নানা নানী মারা গেছে অনেক বছর হয়ে গেছে। আম্মা ছাড়া এই তথ্য আর কেউ দিতে পারবে না। আম্মাকে জিগেস করলাম মামার ব্যাপারে, বলল সেনাবাহিনীর ৩৩ বেঙল রেজিমেন্ট এ মামা চাকুরী করতেন, এর বেশি বলতে পারবেন না। রোকসানা কে এই তথ্য টুকুই আমি দিয়েছি, সে আর তার বাবার ব্যাপারে খোজ করেনি। এখন সে সন্তান, স্বামী নিয়েই ব্যস্ত। মুক্তিযোদ্ধা বাবার সন্তান রোকসানা শুধু মুখেই বলে সে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, কিন্তু রাষ্ট্রে তার দালিলিক সে স্বীকৃতি নেই! একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বলতে পারে না, তার বাবা এ দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর সেনানী, শুধু মাত্র একটা সনদের জন্য?! ছি, রাষ্ট্র ছি!!

/ সরকার পল্লব
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ দুপুর ২:৩৮
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অভিনন্দন নাবিহা সাকলায়েন: ৩০ বছর পরের এআই পটেনশিয়াল

লিখেছেন কলাবাগান১, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:৩৮


কনসেপ্ট টা খুবই সোজা...পৃথিবীর তাবত মানুষ ই জানে যে আপনার বিশ বছর বয়সে শরীরে যে কোষ গুলি আছে তা আপনার ৬০ বছর বয়সের কোষ আর সেইম না ..লম্বা সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

যাদের স্বপ্নের দেশ আমেরিকা: তাদের জন্যে আজকের পোস্ট

লিখেছেন অপলক , ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:১৮



এমন এক সময় ছিল, ছেলে বা মেয়ে ডিভি লটারীতে স্বপ্নের দেশে গেছে, বাপ মায়ের পাড়া প্রতিবেশী গর্বে কথা বলাই মুশকিল। সেখানে গিয়ে OC(Office Cleaner) নাকি DC(Dish Cleaner) হবে তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

×