গত সিটি নির্বাচনে একজন প্রাক্তন ইমাম কাউন্সিলর প্রার্থী হিসাবে নমিনেশন নিয়ে ছিলেন,তার নমিনেশনে ঘরে বাইরে সমালোচনার ঝড় উঠল: হুজুর মানুষের রাজনীতির কি দরকার!
সত্যিইতো,হুজুরদের রাজনীতি দরকার কি!?রাজনীতিতো করবে এ দেশে গুন্ডা- বদমাইশরা,চোর-চ্যাচরারা!আমাদের মনমানসিকতার প্রবল জোরে ইমাম সাহেবের রাজনীতির স্বাদ আদৌ আছে কিনা জানি না,নাকি পরাজয় মানেই শেষ,এটাকে নিয়তী হিসাবে নিয়েছেন কে জানে।আমাদের সমাজ সংস্কৃতি বরাবরেই ভাল কাজের বিপক্ষে ছিল,আর তার ইন্ধনদাতা ছিল কিছু স্বার্থবাজ বর্ণচোরা।আমরা দাঁড়ি আর টুপিকে সন্ত্রাসবাদের সিম্বল বানিয়ে দিয়েছি,তাই দাঁড়ি টুপি ওয়ালা আমাদের চক্ষুশূল!কোন অপরাধ সাধারণ মানুষ করলে বলা হয়: হয়তো ভুলে করে ফেলছে,আর একজন দাঁড়িওয়ালা (ধর্মীয় শিক্ষায় অজ্ঞ হলেও)হলে আমরা বলি: লম্বা লম্বা দাঁড়ি রেখে ব্যাটা এইকাম কেমনে করলো!পান্না মাস্টার,পরিমল কিংবা সেঞ্চুরী করা সেই ছাত্রনেতাদের ছাপিয়ে তাই একজন দাঁড়িওয়ালার কথাই আমাদের মাথায় বারংবার হিট করে!পত্রিকার প্রথম পাতায় আসে।আর এই দাঁড়ি টুপিওয়ালাদের ঘিরেই ওঠে আসে মাদ্রাসা কিংবা মসজিদের কথা,সাথে জড়িয়ে যায় ইসলাম নামক ধর্মটি!কোথাও টেন্ডারবাজীতে গুলাগুলি হলে,কোথাও জায়গা কিংবা হল দখল নিয়ে বোমাবাজি এমনকি ভবনধ্বসে গেলেও বলাহয় কাজটি দাঁড়ি- টুপিওয়ালারা করেছে!সরকারদলীয়দের অফিসে পেট্রলবোমা পাওয়া গেলে সেটাকে আমরা মাদ্রাসা বানিয়ে দিই,আর কারিগররা হয়ে যায় মাদ্রাসা ছাত্র!
যখন শাহবাগ চত্বরে কচি শিশুর মুখে আমরা 'ফাঁসি চাই' স্লোগান শুনি তখন বাহবা দেই,আর যখন টুপি- পান্জাবি পরা ছোট বাচ্চারা ধর্মীয়টানে শাপলা চত্বরে আসে তাদের ওপর গুলি ছুড়ি!এটাই হল আমাদের আধুনিক মানসিকতা!শার্লি হেবদো যখন টুপিওয়ালাদের আবেগ নিয়ে খেলে তখন আমরা নিশ্চুপ,যখন তাদের আবেগে আচড় পরলো তখন রব উঠল: " জে সুইস শার্লি!" ধর্মীয় গোড়ামির কথা আসলে এর মূলে আমাদের অবশ্যই যেতে হবে,মুসলিম হিসাবে নয়,বিবেক দংশন করে বলে সত্যিটাকে ওপরে তুলতে মিথ্যার পর্দাটা আমাদের ছিঁড়ে ফেলা জরুরী!
এ পর্দাটা আর কোথাও না,আমাদের মনে;পুঁজিবাদীদের মত ধর্মব্যাবসায়িরা প্রতিযোগিতায় নেমেছেন।এ খেলা খালি চোখে দেখা যায়,শুধু একটু বিবেক খাটাতে হয়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


